পূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান বলেন দোহার-শ্রীনগর মানুষের কাছে স্বর্গতুল্য

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দোহার-শ্রীনগর মানুষের কাছে স্বর্গতুল্য। মুন্সীগঞ্জের মানুষ এত আহম্মক নন পায়ের কাছে আসা লক্ষ্মীকে তারা দূরে ঠেলে দেবেন। বিমানবন্দরটি হলে সোনা ও হীরার খনিতে পরিণত হবে মুন্সীগঞ্জের মাটি। মানুষের ভাগ্য খুলে যাবে। তারা কল্পনাও করতে পারছে না কি পেতে যাচ্ছে তারা। জয়পুরা আগামী দিনে মতিঝিলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হবে। তিনি বলেন, খাসজমি দখল করে রাখা কিছু মুষ্টিমেয় লোক মুন্সীগঞ্জের আঁড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর নির্মাণের বিরোধিতা করছে। বিমানবন্দর তৈরি হলে তাদের অবৈধ দখল সুবিধা নেয়ার সুযোগ থাকবে না। এ জন্যই তারা বিরোধিতা করছে। মঙ্গাপীড়িত এলাকার কিছু লোকদের নিয়ে বিমানবন্দরবিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা করছে।

গতকাল সন্ধ্যায় পূর্ত প্রতিমন্ত্রীর মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে দৈনিক আমাদের সময়সহ কয়েকটি দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুল এলাকায় কুন্ডরাজার জমিদারি ছিল। সেই জমিদারের প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির অংশবিশেষ স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী লোক দখল করে রেখেছেন। তারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাবে না বলে বিলের চারপাশে বসবাসকারীদের বিভ্রান্ত করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৫ হাজার একর জমিতে এ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১০ হাজার একরের ওপরে থাকবে বিমানবন্দর। বাকি ১৫ হাজার জমিতে গড়ে তোলা হবে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি আধুনিক শহর, যেখানে থাকবে একটি আইটি ভিলেজ ও নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এটা বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের জীবনমান কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া উন্নয়ন কাজ হলে এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

তিনি অর্থনীতি, যোগাযোগ, পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৈরি সুবিধা সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে বলেন, ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিমানবন্দরটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভৌগোলিকভাবে মুন্সীগঞ্জে বিমানবন্দর নির্মাণের সুবিধা অনেক। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ৩২ থেকে ৩৫ মিনিটে আঁড়িয়াল বিলে পৌঁছানো যায়। অথচ ত্রিশাল থেকে কোনোভাবেই ঢাকায় দু-তিন ঘণ্টার কমে আসা যায় না। নতুন বিমানবন্দরের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ করার জন্য রেল লাইন স্থাপন করা হবে। চলতি সরকারের আগামী ৩ বছরের মধ্যে অন্তত একটি রানওয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বৃহৎ রেলওয়ে জংশন করা হবে। এখানে থেকে গজারিয়া, শ্রীনগর, ফতুল্লা, নিমতলা, কেরানীগঞ্জ, দাউদকান্দি, লাকসাম, সিরাজদিখান, দৌলতদিয়া, দোহার, পাটুরিয়া, হরিরামপুর, সিঙ্গাইর, টঙ্গী ও জয়দেবপুরে রেলযোগাযোগ ও সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

সুজিৎ নন্দী: আমাদের সময়

—————————-

এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে
আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণ সম্পর্কে মান্নান খান

মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ হলে ওই এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। যারা এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছে তারা স্থানীয় কোন বাসিন্দা নয়। তারা উত্তরাঞ্চল থেকে এই এলাকায় এসে খাসজমি দখল করে বসবাস করছে। তাদের জমির কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। মূলত এরাই সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিরোধিতায় ইন্ধন দিচ্ছে। যত বিরোধিতাই করম্নক না কেন মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবেই। এই বিমানবন্দরকে ঘিরে গড়ে তোলা হবে আইটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ একটি আধুনিক নগরী। ২৫ হাজার একর জমির ওপর বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজ বর্তমান সরকারের মেয়াদে শেষ হবে। সোমবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান তাঁর সরকারী বাসভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের বিমানবন্দর নির্মাণ করার জন্য বর্তমান সরকার ৰমতায় আসার পরই পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের জন্য প্রথমে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। সেখানে বিমানবন্দর নির্মাণে নানারকম টেকনিক্যাল অসুবিধার কথা ছিল। এরপর প্রাথমিক সমীৰা চালানো হয় মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরে। পরে ঠিক করা হয় মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর স্থাপন করার। এরপর এখানে এরিয়াল ভিউ থেকে সমীৰা চালিয়ে বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি চূড়ানত্ম করা হয়। এটা চূড়ানত্ম হলে একটি গোষ্ঠী বিরোধিতা শুরম্ন করে। কিন্তু প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন হলে দোহার-নবাবগঞ্জ ও শ্রীনগরের মানুষের ভাগ্য ঘুরে যাবে। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের। বিল ভরাট করতে যে পরিমাণ মাটির কাজ হবে তাতেই তো বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। এই সুযোগ কি কেউ হাতছাড়া করবে? দোহার-নবাবগঞ্জ ও শ্রীনগরের মানুষ এই বিমানবন্দর নির্মাণকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয় নিয়ে দারম্নণ খুশি। বিমানবন্দর নির্মাণ হলে বিদ্যমান অবকাঠামোর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া-খুলনা হাইওয়ে, ঢাকা-কেরাণীগঞ্জ-কায়কোবাদ ব্রিজ, নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-সিরাজদিখান-শ্রীনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-বালিগাও-লৌহজং-শ্রীনগর সড়ক উন্নয়ন হবে। প্রসত্মাবিত সড়কগুলো হচ্ছে শ্রীনগর-নিমতলা-বাসিলা-আশুলিয়া-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় সড়ক, শ্রীনগর-দোহার-পাটুরিয়া জাতীয় সড়ক, পাটুরিয়া-দোহার-নবাবগঞ্জ-সিংগাইর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক, শ্রীনগর-সিরাজদিখান-মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া জাতীয় মহাসড়ক। মংলা ও চট্টগ্রাম থেকে লাইটার জাহাজে ভাগ্যকুলে এভিয়েশন ফুয়েল সরবরাহের জন্য নৌবন্দর নির্মিত হবে। শ্রীনগরে একটি বৃহৎ রেলওয়ে জংসন নির্মাণ করা হবে। বিমানবন্দরকে ঘিরে গজারিয়াতে একটি গার্মেন্টস পলস্নী স্থাপিত হবে।

আব্দুল মান্নান খান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মুন্সীগঞ্জে বিমানবন্দর নির্মাণ হলে আকাশপথের চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, দেশের পর্যটন শিল্পের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হবে, চাকরি এবং কর্মসংস্থান সুবিধা সৃষ্টি হবে, বিমানবন্দরটি আঞ্চলিক হাব হিসাবে ব্যবহার হবে, যা প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংযোগ স্থাপন করবে, এয়ার ট্রাফিক পূরণ করবে, ট্রেড জোন স্থাপনে সহযোগিতা করবে, বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াবে, প্রাকৃতিক দুযের্াগে এই বিমানবন্দরটি মেজর রিলিফ ব্যাংক হিসাবে কাজে লাগবে, প্রসত্মাবিত বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে আধুনিক ও পরিকল্পিত বঙ্গবন্ধু সিটি গড়ে উঠবে। সার্বিকভাবে বিমানবন্দরটি দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে।
মন্ত্রী বলেন, ২৫ হাজার একর জমি নিয়ে প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন হবে। এর মধ্যে ১০ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ হবে। বাকি ১৫ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু সিটি গড়ে তোলা হবে। মুন্সীগঞ্জের মানুষ কি এতই বোকা যে এমন একটি প্রকল্পের বিরোধিতা করবে। প্রকল্পটি শুরম্নই হয়নি, এখনই জমির দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বর্তমান সরকার এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাসত্মবায়ন করবে। সরকারের মেয়াদেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। অনত্মত একটি রানওয়ে চালু করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে জলাধার ভরাট আইনে কোন অসুবিধা নেই। এটা শুধু নামেই বিল। আসলে এটা আর বিল নেই। শুকিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ত্রিশালে বিমানবন্দরের বাধা সেনাবাহিনীর জায়গার জন্য নয়। ওই এলাকাটি ঘন বসতিপূর্ণ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের চেয়ে ত্রিশাল বেশি দূরত্বে অবস্থিত। শাহজাল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ উঠানামার জন্য বর্তমানে ঝুঁকি রয়েছে, কিছুদিন পরে ত্রিশালেও একই ঝুঁকি দেখা দেবে। কিন্তু মুন্সীগঞ্জে সেই ঝুঁকি নেই। এ কারণেই মুন্সীগঞ্জে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

জনকন্ঠ
——————————————–

আড়িয়ল বিলে এ সরকারের আমলেই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান

আড়িয়ল বিলে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে সেখানকার ‘আঠালো মাটি হবে হীরার খনি’, যা অনেকে এখন কল্পনাও করতে পারছেন না, তারা আসলে কী পেতে যাচ্ছেন! যারা এর বিরোধিতা করছেন, তারা উন্নয়নকে ভয় পান। বঙ্গবন্ধুর নাম শুনে আঁতকে ওঠেন। এদের একটি অংশ আড়িয়ল বিলের খাস ও অর্পিত সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। আরেকটি অংশ সেটেলার।

রাজধানীর মিন্টো রোডে মিনিস্টারস অ্যাপার্টমেন্টে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর ও সিটি স্থাপন হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুন্দরতম স্থান হবে এই দোহার, নবাবগঞ্জ ও শ্রীনগর। পর্যটনশিল্পের প্রভূত উন্নয়ন হবে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে এ অঞ্চল।

খোলামেলা আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী আড়িয়ল বিলে বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বঙ্গবন্ধু সিটি গড়ার পক্ষে সরকারের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজধানীতে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, তাতে এ মুহূর্তে জীবন এখানে কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজধানীর ওপর থেকে চাপ কমাতে হবে। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তুলে তাকে ঘিরে পরিকল্পিত নগরী প্রতিষ্ঠা করতেই সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেহেতু ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অবস্থিত আড়িয়ল বিলে ব্যাপক অনাবাদি ও খাস জমি পাওয়া গেছে, তাই সেই স্থানকেই বেছে নিয়েছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে এই স্থান নির্বাচন করেছেন। একসময় এখানে ধান উৎপাদিত হতো। এখন অধিকাংশ জমিই অনাবাদি, পানিও থাকে না। মাছও আগের মতো পাওয়া যায় না। এখন বিলটি ভরে যাচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বিল ভরাট করা হচ্ছে, আশপাশে বাড়িঘর বানিয়ে বসবাস করছে মানুষজন। ১২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপন-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। সে অনুযায়ী আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর ও সিটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এ খবর পেঁৗছার পরই দোহার, নবাবগঞ্জ ও শ্রীনগরের ৯৯ ভাগ মানুষ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। এ অবস্থায় সরকার যত দ্রুত সম্ভব জায়গা অধিগ্রহণ করবে। মহাজোট সরকারের বাকি তিন বছরের মেয়াদে বিমানবন্দরের অন্তত একটি রানওয়ের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। তবে যারা এ অঞ্চলে বিমানবন্দর ও সিটি নির্মাণের বিরোধিতা করছেন, সবাইকে তাদের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন তিনি। স্থানীয়দের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচারে কান দেবেন না। বিমানবন্দর হলে ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাবে। এ বিমানবন্দর নির্মাণে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নীতিমালা অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্তদের সমান ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, যা হবে ক্ষতির কয়েক গুণ বেশি।

দুদিন আগে প্রতিমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা দোহার ও নবাবগঞ্জ সফর করেন। সেখানে তিনি সাতটি সমাবেশে বক্তব্য দেন। সে অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোহার, নবাবগঞ্জ ও শ্রীনগরের প্রায় ১০ লাখ অধিবাসীর ৯৯ ভাগই এ বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগে আনন্দিত হয়েছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ রকমই অভিমত মিলেছে। মনে হয়েছে, জনগণ এতটা আহাম্মক নয় যে তারা এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া করবে।

ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রসঙ্গে যে ভয় কাজ করে, তা নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের স্পষ্ট নীতি হচ্ছে, কারো বসতভিটা কিংবা বাড়ি অধিগ্রহণ করে কোনো স্থাপনা নয়। ক্ষতিপূরণ ছাড়া কারও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। দোহার, নবাবগঞ্জ ও শ্রীনগরের ২৫ হাজার একর জমির মধ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বঙ্গবন্ধু সিটি গড়ে তোলা হবে। কী না থাকবে সেখানে! এর মধ্যে ১০ হাজার একর জমির ওপর নির্মিত হবে বিমানবন্দর। বাকি জায়গায় আইটি ভিলেজ, শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। আকাশপথে যোগাযোগ বিস্তৃত হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে কাজের সুযোগ পাবে। বেকার যুবক, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজের দুয়ার উন্মোচিত হবে।

আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর ও শহর ঘিরে আধুনিক জীবন-প্রণালির সবকিছুই তৈরি হবে এ জায়গায়। আমি নিজে ওই অঞ্চলের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে গর্বিত। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অবিশ্বাস্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিমুগ্ধ হয়ে যাবে এলাকার মানুষ। এ অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি রেল যোগাযোগেরও ব্যাপক উন্নতি হবে। রাজধানীর ওপর থেকে যানজট আর আবাসনের চাপ কমে যাবে ব্যাপক মাত্রায়। উন্নয়ন কর্মকান্ডে যে পরিমাণ মাটি ভরাট করার প্রয়োজন হবে, তাতেও কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এখানেও কাজ পাবে হাজার হাজার মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ইপিজেড, ট্রেড সেন্টার, পর্যটন স্পটের উন্নয়ন ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ সাধিত হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের বিরোধিতাকারীদের হুঁশিয়ার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময়ের কুণ্ডু রাজার বাড়ির কয়েক হাজার একর খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। তাদের নামে সিএস, আরএস রেকর্ড নেই। তারা ক্ষতিপূরণও নিতে পারবে না। এই ভয়ে তারাই বিমানবন্দরের বিরোধিতা করছে। জমি অধিগ্রহণের খবরে তাদের এখন বুকে কাঁপুনি ধরেছে। তারা বিভ্রান্ত করছে সাধারণ চাষিদের। আড়িয়ল বিলের খাস ও অর্পিত জমিতে উত্তরবঙ্গের অনেক মানুষ বসবাস করছে।

কবির আহমেদ খান
বাংলাদেশ প্রতিদিন

[ad#bottom]