আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর

বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে মানুষকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বহুবার। এবার শোনা যাচ্ছে, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকা জেলার আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর স্থাপন করা হবে। স্থাপিতব্য বিমানবন্দরটি সেখানকার জনগণের জন্য নতুন দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে।

একটি দেশে বিমানবন্দর অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু ভাবতে হবে, কার স্বার্থে এবং কোথায় এটি স্থাপিত হলে জনগণের মঙ্গল হয়। আড়িয়াল বিল কখনোই বিমানবন্দরের জন্য উপযুক্ত স্থান নয়। সেখানে বিমানবন্দর স্থাপিত হলে অনেক মানুষ উচ্ছেদ হবে, বিপুল ফসলি জমি হারাবে, দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজ, উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়েবড় কথা, বিলটি প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর এবংবন্যাপ্রবণএলাকা। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও মাটির গুণাগুণ বিচারেও স্থানটি বিমানবন্দরের জন্য অনুপযুক্ত। অস্তিত্ব রক্ষার্থে আড়িয়াল বিলের জনগণ আজ জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে, বিমানবন্দর ঠেকাতে রাজপথে নেমেছে।

দেখা যায়, যেখানে উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, সেখানেই জনগণ চরমতম নিগ্রহের শিকার। বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, কয়লাখনি, আবাসন প্রকল্প বা বনায়নের মতো কর্মসূচির কারণেও বহু মানুষ উচ্ছেদ হয়েছে। বেশির ভাগ সময়ই পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের জীবন-জীবিকা, বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ হয়ে অচিরেই অনেকের আশ্রয় মিলেছে শহরের বস্তিগুলোয়। সর্বস্ব হারানো এসব মানুষ শহরমুখী হওয়ায় বাড়তি মানুষের চাপে সেগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।

বিশাল সমর্থন পেয়ে মহাজোট সরকার গঠন করেছে। সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ—প্রতি ঘরে অন্তত একজনের চাকরির ব্যবস্থা করবে, মানুষের জন্য নিদেন পক্ষে খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করবে। তাই জনগণের পক্ষেই সরকারকে সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি আড়িয়াল বিলের জনগণের সঙ্গে শতভাগ সংহতি জ্ঞাপন করছি। সেখানে বিমানবন্দর না করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই।

শাহ্রীন ফেরদৌসী
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[ad#bottom]

Leave a Reply