সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করা উত্তম

উত্তাল মুন্সীগঞ্জ
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেখ মুজিব সিটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ উত্তাল হয়ে ওঠে। শ্রীনগর, দোহার ও নবাবগঞ্জের আঁড়িয়াল বিলবাসী চান না বিমানবন্দর নির্মাণ হোক; কিন্তু মুন্সীগঞ্জের একটি পক্ষ চান যে বিমানবন্দর তাদের ওখানে নির্মিত হোক। পক্ষে-বিপক্ষে অবরোধ, বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধনে তাই গত সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জ। সঙ্গত কারণেই ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অস্বাভাবিক যানজটের সৃষ্টি হয়; যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কেননা দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা স্থবির হয়ে থাকে ঢাকা- মাওয়া মহাসড়ক। যারা বিমানবন্দর চান না তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আঁড়িয়াল বিলের ফসল ও মাছ দিয়ে সারা দেশের এক মাসের আহার পূরণ হয়ে থাকে। বর্তমানে ৫০ টাকায় চাল কিনে খেতে হয়। আঁড়িয়াল বিল উচ্ছেদ করা হলে ১০০ টাকা কেজিতে চাল খেতে হবে। কাজেই তারা জান দেবেন, রক্ত দেবেন জমি দেবেন না।

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র যে হারে উন্নতি করছে, বাংলাদেশ তেমনটি পারছে না। দারিদ্র্য দেশটিকে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে দেশটির উন্নতি করা ছাড়া গতি নেই। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেখ মুজিব সিটি নির্মাণ করা যে দেশটির উন্নয়নের একটি সোপানে পরিণত হবে, এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিমানবন্দর নির্মিত হলে নিঃসন্দেহে এ দেশের সঙ্গে বিশ্ব যোগাযোগের নতুন একটি দ্বার উন্মোচিত। তাতে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনাই বেশি। আমরা মনে করি যারা বিমানবন্দর নির্মাণের বিরুদ্ধে তারা এসব বিষয় উপলব্ধি করেন; কিন্তু তারপরও তারা বিমানবন্দর চান না এজন্যে যে, তারা তাদের বাপ-দাদার জমি-জমা, সম্পত্তি ও ঘরবাড়ি ছাড়তে চান না। যদিও তাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে, এটা জানা সত্ত্বেও তারা রক্ত দেবেন, জান দেবেন তবু জমি দেবেন না। বিমানবন্দর ও সিটি নির্মাণের বিপক্ষের দলটিই ভারী, ৩০ সহস্রাধিক। জানা যায়, গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে শ্রীনগরের হাসাড়া এলাকায় ছুটতে শুরু করে আঁড়িয়াল বিল এলাকার হতদরিদ্র জনসাধারণ। খ- খ- মিছিল আসতে থাকে দোহার, নবানগঞ্জ ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে। এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয় মহাসড়ক।

সরকার নতুন নতুন পরিকল্পনা ও প্রকল্প যা হাতে নেবে তা নিশ্চয়ই দেশের উন্নয়নের জন্য; কিন্তু সে প্রকল্প যদি ৩০ সহস্রাধিক মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়; সে ক্ষেত্রে সরকারকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের মনে হয়, মুন্সীগঞ্জের ব্যাপারটি নিয়ে সরকারের ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। এখন যা করণীয় তা হচ্ছে সরকারকে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে বসা, তাদের বক্তব্য শোনা। প্রকল্পের ইতিবাচক দিকটি তাদের সামনে তুলে ধরা। এটি এ জন্যে যে, ঘর-বাড়ি, কল-কারখানা বা কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান করতে গেলে স্থানীয় লোকজনের সম্মতি ও সহয়োগিতা দরকার হয়, তাদের সম্মতি ছাড়া এসব করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিমানবন্দর ও সিটি নির্মাণ ক্ষেত্রে তাই স্থানীয় লোকজনের মতামত নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একতরফাভাবে কিছু করতে গেলে বা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দিলে শুধু হট্টগোলই হবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না বলে আমাদের মনে হয়। তাই সমঝোতার মধ্য দিয়ে কাজ করাই উত্তম।

[ad#bottom]