পদ্মা সেতুর রেলপথের কাজ শিগগির শুরু ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ

পদ্মাসেতু চালুর দিন থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রেল সংযোগ প্রদানের জন্য ‘পাচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেলপথ পুনর্বাসন ও নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই পাচুরিয়া থেকে ভাঙ্গা অভিমুখে ৭ কিলোমিটার রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। পুরো প্রকল্পটি ২০১৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে একথা জানা গেছে।

জানা গেছে, সড়ক ও রেলপথ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পাচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেলপথ পুনর্বাসন ও নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি গত আগস্ট মাসে একনেকে অনুমোদিত হয়। এতে শুধু বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৬৭ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালের মধ্যে কাজটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির অনুকূলে ২০১০-১১ অর্থবছরের এডিপিতে ৯৬.৭২ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পটির কাজের গুরুত্ব ও অগ্রগতি বিবেচনা করে চলতি অর্থবছরের এডিপির থোক বরাদ্দ থেকে ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। চালুর দিন থেকে পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে, ভাঙ্গা থেকে জাজিরা হয়ে পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে মাওয়া পর্যন্ত (প্রায় ৪২ কিমি) নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ওই রেলপথের সার্ভে ও বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়নের জন্য অর্থায়নে সম্মত হয়েছে। বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্যও এডিবি ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানে সম্মত হয়েছে। ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এ রেল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে মাওয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পদ্মা সেতু রেললিংক পর্যায়-১ রেলপথটি ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুর-পাচুরিয়া দিয়ে বিদ্যমান রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। সে লক্ষ্যে পাচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেলপথ (৬০.১০ কিমি) আবারো চালু করার কাজ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে, যা গত ১৭ আগস্ট ২০১০ একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।

এদিকে সরকার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত (প্রায় ৫৫ কিমি) নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ ও কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়া পর্যন্ত (৮০.২৫ কিমি.) রেলপথ পুনর্বাসন। প্রকল্পটি গত অক্টোবরে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।

এছাড়া ঈশ্বরদী হতে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত (৭৮ কিমি) নতুন ব্রডগেজ রেলপথ ও ওই এলাকায় পদ্মার ওপর রেলসেতু নির্মাণ। ভাঙ্গা হতে নড়াইল হয়ে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিমি ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ। ভাঙ্গা হতে মাদারীপুর হয়ে বরিশাল পর্যন্ত (প্রায় ১০০ কিমি) ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণসহ আরো কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
রেলপথের কাজ সম্পর্কে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সরকার যে কোনো মূল্যে পদ্মাসেতু চালুর দিন থেকে রেলপথও চালু করতে চায়। এ লক্ষ্যে সেতুর দুই পাড়েই রেলপথ নির্মাণ করা হবে। যেহেতু পশ্চিম পাড়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত আগেই রেলের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা আছে ও পাচুরিয়া পর্যন্ত মাত্র ৭ কিমি. পথ অধিগ্রহণ করতে হবে তাই এ কাজটি আগেই শুরু করা হচ্ছে। অন্যপাড়েও রেলপথ তৈরির কাজও করা হবে। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে রেলপথ তৈরি হলে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

জাকির হোসেন

[ad#bottom]