মুন্সিগঞ্জে হঠাৎ পদ্মায় তীব্র ভাঙ্গন

৩ ঘন্টায় ৩শ’ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজার সংলগ্ন বড় নওপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ করেই তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়। উপজেলার সরকারী বাসভবনের সংলগ্ন এলাকায় কোন রকম জোয়ার ও স্রোত ছাড়াই হঠাৎ করেই পদ্মা রাক্ষুসী রূপ ধারন করে। বিকট শব্দে নদীর পাড়ে ভাঙ্গন ধসে পড়ে। নদীতে মাছ ধরতে এসে জেলেরা ভাঙ্গনের দৃশ্য দেখে এলাকা বাসীকে খবরটি জানান। মূহুর্তের মধ্যে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং পদ্মা মূতিমান রূপ ধারন করে ভাঙ্গনের শব্দ আর খবর পেয়ে উৎকণ্ঠা শত শত জনতা ভাঙ্গন এলাকায় ভীড় জমাতে থাকে।

সরকারী বাসভবনের লোকজন জান মাল বাচাতে ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে ছুটো ছুটি শুরু করে। মধ্য রাত পর্যন্ত বড় নওপাড়া এলাকায় প্রায় তিনশ মিটার এলাকা মূহুর্তের মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় । ভাঙ্গনের সংবাদ পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও গ্রাম থেকে লোকজন ছুটে আসে। আতংকিত হয়ে পরে ভাঙ্গন এলাকার আশপাশের এলাকাবাসী। সহস্ত্রাধিক পরিবার নদীর পাড়ে নির্ঘূম রাত কাটায়। আবার অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ও শিশু বাচ্চাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

নদীর পাড় ভাঙ্গন দেখতে আসা স্থানীয় ব্যাবসায়ী আনিসুর রহমান খান জানান, ১৯৯৩ সালে লৌহজংয়ে পদ্মা ভাঙ্গন শুরু হয় এরপর ২০০৩ সালে ভাঙ্গন কিছুটা রোধ হয় এবং ভাঙ্গন এলাকায় চর পড়ে বসতি গড়ে উঠলে মানুষ কিছুটা স্বস্থিবোধ করে। কিন্তু এই ভাঙ্গনের রূপ দেখে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়েছে।

হঠাৎ তীব্র ভাঙ্গনের খবর পেয়ে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান রাত দেড়টায় ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। হঠাৎ করে পদ্মায় তীব্র ভাঙ্গনের খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় এমপি সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি ফোনে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার খোঁজ খবর নেন এবং ভাঙ্গন রোধে বাস্তবমুখী ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

এদিকে ভাঙ্গন এলাকায় হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস, সাব রেজিস্টার অফিস, থানা ভবন, পুলিশ কোয়াটার , সরকারী বাসভবন, ঘোড়দৌড় উত্তর দিঘলী মডেল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ঘোড় দৌড় বাজার, ঢাকা-মাওয়া-লৌহজং সড়ক । ভোর রাত থেকে ভাঙ্গনের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলেও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। অদিনের এই ভাঙ্গন দেখতে পদ্মা পাড়ে শত শত উৎসুক জনতা ভীড় করে।

[ad#bottom]