অপশক্তি শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়না ॥ মুন্সিগঞ্জে ড.মুস্তাফা নুরুল ইসলাম

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ :বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও লেখক অধ্যাপক ড.মুস্তাফা নুরুল ইসলাম বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সংবিধানকে খন্ডিত বিখন্ডিত করা মহলটি বাঙালী বিরোধী। তারা পেশি টান পাকিস্থানী খাতক দালাল রাজাকার। তারা ধর্মের নামে জঙ্গীবাদের ঝান্ডা উড়াতে চেয়েছিল। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর একটা মধ্য যুগীয় দোজখী অবস্থার সৃষ্টি করে। কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রণয় উল্লাস’ কবিতার মতোই হবে তাদের অবস্থা। অন্ধকার থেকেই আলোর জন্ম হয়। অপশক্তি শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়না।

শনিবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুনীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভাষণে তিনি একথা বলেন। এর্টনী জেনারেল এ্যাডভোকেট মাহাবুবে আলম বিশেষ অতিথির ভাষণে বলেন, জীবনবোধকে উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বাঙালিরা বিদেশে গিয়ে যদি সত্যিকারের আলোকিত জীবন গড়তে পারে, তবে দেশে কেন পারবে না। জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা এবং তথ্য প্রযুক্তির উপর গুরত্বারোপ করে মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন লেখক ও কবি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পরাধীনতা থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। এখন ক্ষুধা, দারিদ্র, অশিক্ষা ও দুর্নীতি থেকে মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক লক্ষ্য অর্জিত এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলম বলেন, আবার বিক্রপুর জেগে উঠতে শুরু করেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এই জেলা হবে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র। অর্থনীতি ও যোগাযোগের কেন্দ্র বিন্দু সম্ভবনা তুলে ধরে বলেন, তাই জেলাবাসীকে সুন্দর ভবিষ্যত রচনায় নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্প কলা একাডেমী মিলনায়তনে শনিবার গুনীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে গুনীজনদের সাথে বরণ্যে বু্িদ্ধজীবি অধ্যাপক ড. মুস্তফা নুরুল ইসলামসহ অতিথিবৃন্দ

এভারেষ্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম বলেন, ইচ্ছা থাকলে অনেক কঠিক কাজকেও সহজলভ্য করে জয় করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত ও মানষিকতার। জতিকে বিজয়ের জন্য এমন ক্ষেত্র তৈরীতে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

গুনী জন সম্মাননা পাওয়া দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা.রশীদ-ই-মাহবুব নীরু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই সম্মান দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিলো। তিনি বলেন, আমি মনে করি নিজেদের একজন প্রকৃত মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে পারলেই দেশ ও জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত।

ব্যতিক্রম এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘অগ্রসর বিক্রমপু’র মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হাসান। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫৫ জন কৃতি শিক্ষার্থী এবং শ্রেষ্ঠ তিন শিক্ষার্থীর গর্বিত তিন মাকে সম্মাননা প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানে। একুশে পদক প্রাপ্ত ড.মুস্তাফা নুরুল ইসলাম সম্মমানা প্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমাদের ভবিষ্যত আরও কৃর্তিময় হয়ে উঠুক। আরও এগিয়ে যাক হাজার বছরের হতিহাস সমৃদ্ধ বিক্রমপুর।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ দফতর সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস, সরকারী হরগঙ্গা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুখেন ব্যানার্জী, শিক্ষাবীদ জয়ন্ত সার্ন্যাল, মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান প্রমুখ।

[ad#bottom]