মুন্সীগঞ্জে বিমানবন্দরের জায়গা নির্ধারণের প্রতিবাদে স্মারকলিপি পেশ

কাজী দীপু, মুন্সীগঞ্জ: বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনে জায়গা নির্ধারণ করার প্রতিবাদে গত রোববার আড়িয়াল বিলের সহস্রাধিক কৃষক, মৎসজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিক্ষোভ মিছিল, সভা ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে। উপজেলার বাড়ৈখালী এলাকায় আড়িয়াল বিলের কৃষক, মৎসজীবী ও শ্রমজীবী সহস্রাধিক জন সাধারণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে শাহজাহান বাদলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, জলিল মাস্টার, মঞ্জুরুর রহমান দেওয়ান, জিয়াউর রহমান জিয়ান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এরপরই তারা শ্রীনগর উপজেলার ইউএনও আব্দুল লতিফ মোল্লার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আড়িয়াল বিল রক্ষার আহ্বান জানিয়ে মৎসজীবী, শ্রমজীবী ও কৃষকরা স্মারকলিপি পেশ করে।

আমাদের অর্থনীতি
—————————

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য টাস্কফোর্স গঠন

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আড়িয়াল বিলে নির্মাণের জন্য ওই এলাকার জমি অধিগ্রহণসহ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবের (সিভিল এভিয়েশন) নেতৃত্বে এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। মঙ্গলবার বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদীর সভাপতিত্বে বৈঠকে এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সকে এক মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ওই এলাকার ২৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে সব কাগজপত্র তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। টাস্কফোর্সের অপর সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন, ভূমি মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের প্রতিনিধি। এদিকে আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনায় এর আশপাশের এলাকার লোকজন বিক্ষোভ মিছিল ও বিমানবন্দর নির্মাণ বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে। ১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে নির্মাণের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সিটি নির্মাণের জন্যও অনুমোদন দেয়া হয়। বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ ২৫ হাজার একর। ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। এদিকে একুশ শতকের আধুনিক এ বিমানবন্দর মুন্সীগঞ্জে স্থাপনের কথা প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকার জমির দামও বেড়ে গেছে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ২০ হাজার ৮৯৫ একর ১৪টি মোজার এ জমির ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এছাড়া দোহার উপজেলায় পড়েছে ৭ হাজার ১৮৮ একর জমি। বাকি জমি নবাবগঞ্জের ১৮টি মোজার। তবে আড়িয়াল বিলের কিছু অংশ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার পড়লেও বেশি বসতি থাকায় তা বাদ দেয়া হয়েছে। এই বিমান বন্দরটির অবস্থান হবে তিনটি উপজেলার মধ্যে। এদিকে মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি আরিফ উল ইসলাম এবং দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জানান, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও ঢাকার দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্যে অবস্থিত আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বঙ্গবন্ধু সিটি নির্মাণ পরিকল্পনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ করেছে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। বসতবাড়ি, মৎস্য খামার ও ফসলি জমি রক্ষায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আড়িয়াল বিল এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ তাদের শত বছরের পুরনো বসতবাড়ি, মৎস্য খামার ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বঙ্গবন্ধু সিটি নির্মাণ পরিকল্পনার প্রতিবাদে স্মারকলিপি পেশ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ‘জমি নয়, রক্ত দেব, তবু এলাকায় বিমানবন্দর হতে দেব না’ বলে স্লোগান দেয়।

এখানে বিমানবন্দর হলে কালাইমারী, মরিচপট্টি ও দুবলী গ্রামের অসংখ্য পরিবারকে উচ্ছেদ করতে হবে। মরিচপট্টি গ্রামের বাসিন্দা হাজী মোঃ শামসুল হক (৭০) বলেন, তার বসতবাড়ি, মৎস্য খামার ও ধানী জমি প্রায় একশ’ বিঘা। এখান থেকেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। তিনি বলেন, সারাবছরের আহার কেড়ে নিয়ে কাউকে এখানে বিমানবন্দর করতে দেব না। দক্ষিণ আটি গ্রামের বৃদ্ধা জাহেদা বেগম এ প্রতিবেদককে এমপির লোক মনে করে দা নিয়ে তেড়ে আসেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে স্বামীর ভিটা হারানোর আশংকা প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি আরও জানান, ‘আমরা খাইয়া-পইরা সুকে (সুখে) আছি। আমাগো আহার কাইরা নিও না।’ বাড়িঘর ও জমি হারানোর আশংকায় আতংকিত আরজু বেগম (৫৫), কালাইমারী গ্রামের সামিরা আক্তার (৪০), আবদুস সাত্তার (৫০) ও সিরাজউদ্দিনের (৭৫) আকুতি, ‘বাবা, তোমরা আমাগো রক্ষা কইরো। আমাগো ভিটেমাটি শ্যাষ অয়ে গেলে সরকার কি খাইতে দিব?’ নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মনির হোসেন হাওলাদার সরেজমিন পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, সরকার জনগণের কোন ক্ষতি হয়, এমন কাজ করবে না। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

যুগান্তর

[ad#bottom]

One Response

Write a Comment»
  1. Sarker er montree sova 16 koti manos & Desh er Onnoti Chinta kore siddhantto grohon kore.Jara “আড়িয়াল বিলের সহস্রাধিক কৃষক, মৎসজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ “er khotha bole tader nij ellakar chinta kora ochit sokol কৃষক, মৎসজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ er khotha.

    Ete shodho Desh Noy Elakar onnoti Hobe.