মুন্সিগঞ্জ মাদকের জোয়ারে ভাসছে

মোহাম্মদ সেলিম: মুন্সিগঞ্জ মাদকের জোয়ারে ভাসছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও পুলিশের সহতায় এখানে মাদকের প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুন্সিগঞ্জের আনাচে কানাচে মাদক বিক্রি হচ্ছে। হাত বাড়ালেই খুব সহজেই মাদক পাওয়া যায়। মুন্সিগঞ্জের অর্ধশতাধিক এর বেশি স্থানে মাদকের হাট রয়েছে। এসব স্থানে হেরোইন, বিদেশী মদ, বিয়ার, ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ অবৈধ মাদক সহজেই বিক্রি হচ্ছে। ইয়াবা বহন করতে সহজ বলে মাদক ব্যবসায়িদের কাছে এই ব্যবসা সবচেয়ে বেশি পছন্দের। এই কারণে মাদক ব্যবসায়িদের কাছে এই ব্যবসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

জানা যায়, ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে শহরের উত্তর ইসলামপুরে আরিফ ওরফে ভাইগ্না আরিফ, রফিক, শরীফ ও মাসুম। দক্ষিণ ইসলামপুরে ফেনসিডিল স¤্রাট আমান, দুই ভাই মালেক ও ছালেনক, রোমান, মতিন, মোখলেছ, মোশারফ ওরফে জামাই, সেলিম ওরফে সেইল্যা ও ছলে। হাটলক্ষীগঞ্জে ফেনসিডিল ও বিয়ার ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে সোহেল ও কানা ইকবাল। ছবিঘর রোড, জগধাত্রী পাড়ায় ফেনসিডিল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বুট মুড়ি ব্যবসায়ি শাহজাহান। মানিকপুরে রয়েছে ওমর, হাতকাটা জলিল ও দুলাল। থানারপুল ও বাগমামুদালী পাড়ায় রয়েছে ইসমাইল পুলিশের মেয়ের জামাই মহসিন। গণকপাড়ায় রয়েছে সবুর ও আজিজ। দেওভোগ-শিলমন্দি এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে ইকবাল ওরফে মুন্সী।

ঐতিহ্যবাহী মুন্সীরহাটে মাদক স¤্রাট হিসেবে রয়েছে টরকীর রাজু মৃধা, জন্টু মিজি, ভিটি হোগলার বাবু কাজী, খাসকান্দির আক্তার হোগলা কান্দির হুমায়ুন মোল্লা, গুহের কান্দির সিটি শাহআলম ও গ্লাসি রিপন। সিপাহীপাড়া জাকির, চরমুক্তারপুরে জিল্লুর ফেনসিডিল ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে। নয়াগাঁও পূর্বপাড়ায় রয়েছে ফেনসিডিল স¤্রাট মতু, কাদের, মান্না, রিপন, দুলু, রবিন, রানা, ও মাসুদ, পশ্চিমপাড়ায় রয়েছে সাহেব আলী ও মধ্যে পাড়ায় দেলোয়ার মেম্বার। মুক্তারপুর সেতু ও বিসিক এলাকায় জাফর জুম্মন, আনু, সাদু, মালিরপাথরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমরান, মুক্তারপুরে হোসনে, মিরেশ্বরাই কালিখোলার আরিফ ও ডিঙ্গাভাঙ্গায় টাইগার আলম ফেনসিডিল-ইয়াবার নিয়ন্ত্রক। মুক্তারপুরে পান্না সিনেমা হলে দুলাল বিক্রি করছে ইয়াবা। রিকাবীবাজার ও বিনোদপুর এলাকায় রয়েছে মাদক স¤্রাট নসু ও মোফাজ্জল, নুরপুরে জাহাঙ্গীর, কমলাঘাটে কালু।

টঙ্গীবাড়ী উপজেলা বাজারে রয়েছে সোনারংয়ের ইয়াবা স¤্রাট দুই ভাই রহমান মাল্লিক ও সাজু মল্লিক। এছাড়া ফেনসিডিল স¤্রাট হিসেবে রয়েছে রাজ্জাক, বাঁশাবাড়ির বিপ্লব ওরফে বিপু ও জয়নাল আবেদীন। বেতকা বাজারে ফেনসিডিল স¤্রাট তারা মিয়া।

লৌহজং উপজেলার মাওয়ার কান্দিপাড়ায় রয়েছে মামুন। গোয়ালীমান্দ্রায় আমিনুল, বেদে আশরাফ, কনকসার বাজার এলাকায় দিদার, বটতলা এলাকায় মোশারফ ও মহসিন, ক্ষিদিরপাড়ায় সিয়র দাস, শাহীন মাদবর, মাওয়া ফেরিঘাট এলাকায় শহীদ ও শফিকুল, হাটভোগদিয়ায় মিন্টু, সাবের। এদের মধ্যে মামুন লৌহজংয়ের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি।

শ্রীনগর উপজেলার বাজারে রয়েছে টয়লেট বাবুল ওরফে কালা বাবুল, মন্দির ও শ্মশানঘাট এলাকায় হট লাইন বাবুল, হাসাড়ায় বাবু লাল, সিংপাড়ায় পাগলা মজিবর, বাঘড়ায় বুড়ি রয়েছে। এছাড়া শ্রীনগরের জেলে পট্টির বেশির ভাগ বেদে ফেনসিডিল, হেরোইনসহ অবৈধ মাদক-ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
সিরাজদিখান উপজেলার চালতিপাড়া ফেনসিডিল স¤্রাট হিসেবে রয়েছে শাহজাহান ওরফে মাদারী ও চরকুন্দুলিয়ায় রয়েছে রফিক। জেলার শীর্ষ মাদক ঘাঁটি গজারিয়া উপজেলার পুরা চরবাউশিয়ায় রয়েছে দেবর জহিরুল, ভাবী শিরিন আক্তার, ভবেরচরে পাইকারী ফেনসিডিল ব্যবসায়ী হিসেবে রয়েছে মহিউদ্দিন, বাউশিয়া ফেরিঘাটে ইকবাল, চরবাউশিয়ায় ইউসুফ, আমিরুল, মাসুম্মা, আলী হোসেন, হাবীব, জাহান, শরীফ, রায়পাড়ায় জাহাঙ্গীর, লুৎফা বেগম, ছোট রায়পাড়ায় জিয়া, মনির, হোসেন্দিতে জাহাঙ্গীর, ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ডে ল্যাংড়া আসলাম, ভাটেরচর কলেজ রোড়ে কাইয়ুম, সোহেল, সাগর, ঝাউচরে শাহীন, দাড়িকান্দিতে মজিদ, বাউশিয়া ঘাটে জাগন আলী, জামালদিতে হারুন, পলাশ, হোগলাকন্দিতে জাহাঙ্গীর, স্বপন, লক্ষীপুরে বাবু, বাদশা, মাসুদ, ল্যাংড়া রাজু, নাগেরচর পশ্চিমপাড়ায় মুদি সোহেল, সোনারকন্দিতে জয়নাল, সুলতান। এদের মধ্যে মহিউদ্দিন, জহিরুল, শিরিন, ইকবাল ও জাগন আলী গজারিয়ার শীর্ষ মাদক স¤্রাট।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে এখানে মাদকের আড়ৎ ব্যবসায়ির হাত বদল হয় মাত্র। বিএনপি সরকার থাকলে বিএনপির লোকজন এ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। আর পরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তারা এই মাদক নিয়ন্ত্রন করে। রাজা যায় রাজা আসে কিন্তু ব্যবসার কোন অসুবিধা কারো হয়না। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শীর্ষ নেতারা এই ব্যবসা চুটিয়ে করছেন। পুলিশ মাদকের রাগব বোয়ালদের কখনো ধরেন না। এর ফলে পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় এ ব্যবসা এখানে জমজমাট চলছে। এলাকাবাসী এ বিষয়ে স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

[ad#bottom]