বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর নির্মাণে জমি অধিগ্রগনের প্রক্রিয়া শুরু

মুন্সিগঞ্জে উৎসব আমেজ
মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ॥ বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর নির্মাণে জমি অধিগ্রহনের প্রাক প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে অধিগ্রহনের অনুমোদন মিলবে এই খবরে প্রশাসন মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার রাতেও মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ছিল কর্মব্যস্ত। অধিগ্রহন প্রক্রিয়া নিয়ে আজ মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই সভায় অধিগ্রহন প্রক্রিয়া ছাড়াও দ্রুত গতিতে আধুনিক এই বিমান বন্দর নির্মাণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। ইতোমধ্যে এই বিমানবন্দর এলাকাটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভিডিও করা হয়েছে। অধিগ্রহন প্রক্রিয়ার জন্য মঙ্গলবার বিমান থেকে ভিডিও করার কথা রয়েছে। এদিকে একুশ শতকের আধুনিক বিমান বন্দর মুন্সিগঞ্জে স্থাপনের খবরে এলাকায় এখন উৎসব আমেজ। সবখানেই এই আলোচনা। জমির দামও বেড়ে গেছে। প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজেটর আধুনিক এই বিমান বন্দরের জন্য আড়িয়াল বিলের ২৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহন করা হবে। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ১০ হাজার ৮শ’৯৫ একর জমি। ১৪টি মৌজার এই জমির ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এছাড়া ঢাকার দোহার উপজেলার ৭টি মৌজায় রয়েছে ৭ হাজার ১ শ’৮৮ একর ভুমি। বাকী জমি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৮টি মৌজায়। তবে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার এলাকায় আড়িয়াল বিলের কিছু অংশ পড়লেও বেশী বসতি থাকায় তা বাদ দেয়া হয়েছে। তাই বিমান বন্দরটির অবস্থান থাকবে তিন উপজেলার মধ্যেই। মুন্সিগঞ্জের ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান জানান, ভূমি অধিগ্রহনের অনুমোদন পাওয়ার পরই ৩ ধারায় নোটিশ জারি করা হবে। এই নোটিশ জাবির আগের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে এখন দিনরাত কাজ চলছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় রাত সাড়ে ৭টায় অফিসে এই কাজে ব্যস্ততার মধ্যে তিনি জানান, পদ্মা সেতুর ভূমি অধিগ্রহনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিমান বন্দরের অধিগ্রহন প্রক্রিয়া চলছে। প্রাক অধিগ্রহন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে তিনি আরও জানান, অনুমোদনের পর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অধিগ্রহন সম্ভাব্যতা যাচাই হবে।

এরপরই জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভার অনুমোদন নিয়ে নোটিশ জারি করা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অধিগ্রহনের জন্য ৩ ধারা নোটিশ জারি হতে পারে। এর পরই প্লট প্লট যৌথ তদন্ত, সিল বুক এবং আবার ভিডিও করা হবে। অবকাঠামোসহ প্রস্তাবিত এলাকার যাবতীয় সম্পদের বিষয়ের চুল চেরাভাবে তথ্য তুলে আনা হবে। একইভাবে ঢাকা জেলা প্রশাসনও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে এই নিয়ে। মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকার জেলা প্রশাসক ছাড়াও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিমান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এদিকে একই এলাকায় শেখ মুজিব সিটি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এই সিটি নিমাণের জমি অধিগ্রহনের প্রাক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এটি সিরাজদিখান উপজেলা এলাকায় হওয়ার কথা রয়েছে। এক বিংশ শতাব্দীর আধুনিক এই বিমানবন্দর নির্মাণের খবরে এই এলাকায় এখন উৎসব আমেজ। জমিমজার দাম বাড়তে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের মধ্যে কিছু অংশ হতাশ হলেও আনন্দের কথা বলছেন অনেকেই। যেসব লোকজন এই প্রকল্পের বিরোধীতা করছে চাচ্ছে তারা এই বিলের অর্পিত সম্পর্তি ও খাস জমি জবর দখল করেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এই অঞ্চলের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সোমবার রাতে বলেন, জনগণ যাতে বর্তমান বাজারে জমির মূল্য পায়, সেটাই একমাত্র চাওয়া। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের পূর্নবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীও জানিয়েছেন তিনি। জনাব ঘোষ বলেন, “এই বিমানবন্দর নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে, ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে এলাকাবাসীর। যা কল্পনাও করেনি কেউ।” অর্থনৈতিক মুক্তির কেন্দ্র হবে বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জ এই উক্তি করে জাতীয় সংসদরে হুইপ ও মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি জানান, বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর, পদ্মা সেতু, রেল স্টেসন, শেখ মুজিব সিটি, ওষুদ পল্লী, গার্মেন্টস পল্লী ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহনের কারণে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানসহ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

[ad#bottom]