ওরা ১১ জন – চাষী নজরুল ইসলাম

দেশ স্বাধীন হয়েছে। জানুয়ারি থেকেই পরিকল্পনা নেয়া হলো যে ওরা ১১ জন নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করা হবে। এই নামের পেছনে কারণ আছে। মুক্তিযুদ্ধে ১১ দফা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল, আর ছিল বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা, তাই ছবির শুরুতেই যখন ওরা ১১ জন নামটি পর্দায় ভেসে ওঠে, তখন কামানের ছয়টি গোলা ছোড়া হয়। সে সময় তো মাত্র কয়েক মাস হলো দেশ স্বাধীন হয়েছে। নতুন একটি দেশের মানচিত্র পেয়েছি আমরা। ফলে শিল্পী থেকে শুরু করে প্রত্যেকের মধ্যেই সেই মমত্ববোধ ছিল বলেই রাতদিন খাটাখাটুনি করে, ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা একটি ছবি বানিয়েছিলাম। সে ছবি আজো মুক্তিযুদ্ধের একটি অন্যতম সেরা ছবি হয়ে আছে। ছবির নাম ‘ওরা ১১ জন’। প্রথমে ছবির গল্প নির্বাচন করা হলো। প্রযোজক ছিলেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। এ ছবিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে নেয়া হলো। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খসরু, মুরাদ, নান্টু। আরো ছিলেন রাজ্জাক-শাবানা। ওরা ১১ জন ছবিটি তৈরির সময় ঘটেছিল বেশ কিছু ঘটনা।

যেমন জয়দেবপুরে শুটিং করা হবে। সে সময় দুজন পাকিস্তানি আর্মি পালিয়েছিল। খসরু ও মুরাদ দুজনকে ধরে এনে বললো ছবির শুটিংয়ে এ দুজনকে ব্যবহার করা হবে এবং সরাসরি রাইফেলের বেয়নেট চার্জ করা হবে। ক্যামেরাম্যান সামাদ ভাই খসরুর কথা শুনে আঁতকে উঠলেন। সামাদ ভাই বললেন, ‘চাষী, এটা কী করে হয়!’ আমি আস্তে করে খসরুকে বুঝিয়ে বললাম, ‘খসরু, এটার মনে হয় দরকার নেই। আসলে এভাবে তো দৃশটি করা যাবে না। তা ছাড়া আমরা যে দৃশ্যের কথা চিন্তা করছি, সেটা এভাবে করা যাবে না।’ খসরু একটু ঠাণ্ডা হলো। মুরাদকে ইশারা করে সে বললো, ‘দুইডারে ফালাইয়া দে।’ পাকিস্তানি আর্মি দুজন মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত। মুরাদ তাদের সরিয়ে নিল। পরে মুরাদ এসে বলল, ‘চাষী ভাই, দুইডারে লুকায়ে রাখছি।’ আমি বললাম ‘ভালো করেছ, খসরুকে বলার দরকার নেই। তাদের আমরা প্রশাসনের হাতে তুলে দেব। পরে ওরা যুদ্ধবন্দি হিসেবে চলে যাবে।’ ওরা ১১ জন ছবির শুটিংয়ে সত্যিকারের রাইফেল এলএমজি, গ্রেনেডের ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবির একটি দৃশ্য ছিল যেখানে দেখানো হয় যে গওহর জামিল ও শাবানা গোলাগুলির পর পড়ে যায়। এ দৃশ্যটি ছিল বেশ আবেগপ্রবণ।

দিনের শেষে

[ad#bottom]