রোমাঞ্চকর গেরিলা যুদ্ধ ও আমাদের '৭১

মুক্তিযুদ্ধ
সাদেক হোসেন খোকা
অন্য অনেক সহযোদ্ধার মতো আমিও মাকে এমনকি পরিবারের অন্য কাউকে কিছু না জানিয়েই যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকা ছেড়েছিলাম। এপ্রিলের মাঝামাঝি ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা রুহুল আমীন এবং গোপীবাগের মাসুদসহ (বুড়া) বেশ কয়েকজন প্রথমে যাই নরসিংদীর শিবপুরে। সেখানে দিনকয়েক অবস্থানের পর যুদ্ধের ট্রেনিং নেওয়ার জন্য আগরতলার উদ্দেশে রওনা দেই। প্রথমে আগরতলায় বটতলার সিপিএম অফিসে গিয়ে আমাদের তৎকালীন নেতা মেনন ভাইয়ের (রাশেদ খান মেনন) সঙ্গে দেখা করি, তারপর যাই দুই নম্বর সেক্টরের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ‘মেলাঘরে’। সেখানে আমাদের রিসিভ করেন শহীদুল্লাহ খান বাদল (বর্তমানে দি নিউ এজ পত্রিকার প্রকাশক)। ওখানে পেঁৗছে প্রথমে খালেদ মোশররফ ছিলেন সে সেক্টরের কমান্ডার। মেজর হায়দারের (পরবর্তী সময়ে কর্নেল হায়দার) নেতৃত্বে ঢাকার মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছিল সেখানে। এই ক্যাম্প বামপন্থি (আওয়ামী লীগ ছাড়া) মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি, ‘৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় পুরো জাতি অংশগ্রহণ করেছিল। তাই এটি ছিল একটি জাতীয় জনযুদ্ধ। কিছু চিহ্নিত বিশ্বাসঘাতক ছাড়া দলমত-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এ দেশের মানুষ সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সব কৃতিত্ব যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ এককভাবে ঘরে তুলতে চাইলেও যুদ্ধের সময় বামপন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খুবই সংকীর্ণ। যুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা বামপন্থিদের সন্দেহের চোখে দেখেছে। প্রথম দিকে শুধু ছাত্র ইউনিয়নই নয়, মস্কোপন্থি ছাত্র ইউনিয়নও আওয়ামী লীগ নেতাদের কারণে নিরুপদ্রব টেনিং ও অস্ত্র পায়নি। পরে ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তির কারণে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হলেও সিপিবি, ন্যাপ মোজাফ্ফর বা মস্কোপন্থি ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর একটা অলিখিত বাধা যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত বহাল ছিল। যদিও মৈত্রী চুক্তির পর ভারতে মওলানা ভাসানীকে উপদেষ্টা করে একটি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি গঠিত হয়েছিল কমিউনিস্টদের সমন্বয় পরিষদ। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পরপরই মওলানা ভাসানী পাকবাহিনীর কড়া নজরদারি এড়িয়ে পায়ে হেঁটে এবং নৌকা করে ভারতে চলে গিয়েছিলেন।

যা হোক, দুই নম্বর সেক্টর ছিল এসব সংকীর্ণ রাজনীতির ঊধর্ে্ব। এখানে সব আদর্শের বামপন্থিরাই আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র পেয়েছেন। তারপরও আওয়ামী লীগের কথিত মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি, তাদের কেউ কেউ এই দুই নম্বর সেক্টরের বিরুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের কাছে অভিযোগ করেছিল। তারা বামপন্থিদের দিকে নজর রাখার জন্য গোয়েন্দাও নিয়োগ করেছিল। বামপন্থিদের হাতে যাতে যুদ্ধের নেতৃত্ব চলে না যায় সে জন্য মুক্তিবাহিনীর সমান্তরালে বিএলএফ (বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স) নামে একটি আলাদা বাহিনীও গঠন করেছিল বলে জানা যায়। এই বাহিনী পরিচালিত হতো আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান ও আবদুল রাজ্জাকের নেতৃত্বে। এই বাহিনী অল্পবিস্তর ট্রেনিং নিলেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। বাহিনীটি করা হয়েছিল মূলত যুদ্ধ চালাকালে এবং পরে বামপন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের নজরে রাখতে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী এই বাহিনীর অস্তিত্ব স্বীকার করেননি; তাতেই প্রমাণিত হয় মুক্তিযুদ্ধে এটা নিয়মিত বাহিনী ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের সর্বতো সহায়তা দিয়েছে। পরে জানতে পেরেছি ভারতও চাইত না যুদ্ধের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের হাতে চলে যাক। কারণ তাতে পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে, এটি তৎকালীন ভারতীয় সরকার মনে করত। কিন্তু যে বাস্তবতাটা এখন অনেকেই বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর ভারতে চলে গেলেও যুদ্ধে অংশে নেননি। অনেকে ভারতের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করেছেন বলেও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। তবে এ কথাও সত্যি, মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই পুরো নয় মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি, তহবিল ও অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহে তাদের যুগান্তকারী অবদান সবাই স্বীকার করেন।

যা-ই হোক, দুই নম্বর সেক্টরের ট্রেনিং ক্যাম্প ‘মেলাঘর’-এর পারিপাশর্ি্বক পরিবেশ মানুষের বসবাসের জন্য একেবারেই উপযুক্ত ছিল না। পাহাড় আর ঘন জঙ্গলে পূর্ণ চারদিক, লাল মাটির উচু-নিঁচু পাহাড়ি পথ একটু বৃষ্টি হলেই বেশ পিচ্ছিল হয়ে পড়ত। তবু আমরা সেখানে আনন্দে ছিলাম। বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য ছিল অটুট। ক্যাম্পে আমাদের গ্রুপের বাইরেও আরও অনেক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়, তাদের মধ্যে মাহফুজুর রহমান, আবু সাঈদ খান, শাহাদত চৌধুরী, ফতেহ আলী চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সুলতান উদ্দিন রাজা, আতিকউল্লাহ খান মাসুদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, পল্টনের মানিক (পরে শহীদ), গাজী গোলাম দস্তগীর, মিজান উদ্দিন আহমেদ, শহিদুল্লাহ, শিল্পী শাহাবুদ্দিন, মাসুদ, কাজী ভাই, উলফাত, বাকী (পরে শহীদ), সাধন অন্যতম।

মেজর হায়দারের অধীনে তিন সপ্তাহ গেরিলা ট্রেনিং শেষে আমাদের সম্মুখ যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে ক্যাপ্টেন গাফফারের নেতৃত্বে পরিচালিত সাব-সেক্টরে পাঠানো হয়। আমরা গভীর রাতে সেখানে পেঁৗছি। এখানে দু’সপ্তাহ ট্রেনিংয়ের প্রথম দিন সকালে তিনি আমাদের ৪০ জনকে ২০ জন করে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে যেতে বললেন। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই দুটি গ্রুপ হতে পারছিলাম না। তখন তিনি এক লাইনে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিলেন (ফলইন করার)। আমি আর আমার বন্ধু জাকির দাঁড়ালাম পাশাপাশি, যাতে এক গ্রুপে থাকতে পারি। কিন্তু তিনি নির্দেশ দিলেন প্রথম থেকে বেজোড় (১, ৩, ৫) এক গ্রুপে, জোড় (২, ৪, ৬) আরেক গ্রুপে। ফলে আমি আর জাকিরের মতো অনেকেই যারা এক সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন পড়ে গেছেন ভিন্ন গ্রুপে। আমাদের মন খারাপ হয়েছে লক্ষ্য করে প্রাণবন্ত ক্যাপ্টেন গাফফার বললেন, ‘তোমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করতে এসেছ, এখানে মান-অভিমান-আবেগের কোনো মূল্য নেই। তোমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড যার যতই ভালো হোক না কেন, সবাই এখানে সাধারণ সৈনিক।’
ওখানে ট্রেনিং শেষ করার পর কসবা-মন্দভাগ (মির্জাপুর) বর্ডার এলাকার সাব-সেক্টরে কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিই। এসব যুদ্ধে ক্যাপ্টেন গাফফার সরাসরি অংশ নিতেন এবং পাকসেনাদের বাঙ্কারের কাছাকাছি তিনি চলে যেতেন। তার সাহসিকতা দেখে আমরা দারুণ অনুপ্রাণিত হই। এখানে যুদ্ধে করেই মূলত এসএমজি, এসএলআর ও চাইনিজ রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র পরিচালনা এবং সরাসরি যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করি। ওখানেই একটি যুদ্ধে প্রবল সাহসিকতা দেখিয়ে শহীদ হন ঢাকার গোপীবাগ এলাকার কৃতী সন্তান ও আমার বন্ধু জাকির হোসেন।
যুদ্ধের থিওরিটিক্যাল ও প্রাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ শেষে মে মাসে আমাকে একটি গেরিলা গ্রুপের কমান্ডার করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এই গ্রুপে আগরতলা থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসা যোদ্ধা ছিল ৪০ জন এবং এখানে এসে আরও ২৫ জন রিত্রুক্রট করি। ঢাকায় আসার আগের দিন মেজর হায়দার গেরিলা যুদ্ধ এবং শত্রু এলাকায় অবস্থানকালে কী কী বিষয় অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে সে সম্পর্কে একটি ব্রিফিং দেন। মেজর হায়দার মোহনীয় ভঙ্গিতে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছিলেন; যা আজও আমার স্মৃতিতে একটা জীবন্ত ঘটনা হিসেবে জায়গা করে আছে।

ঢাকায় ঢোকার আগে আবার নরসিংদীর শিবপুরে আসি। সেখানকার যশোর বাজারে ক্যাম্প করে দিনকয়েক অবস্থান করি, উদ্দেশ্য ছিল খোঁজখবর করে কৌশল ঠিক করে তারপর ঢাকায় আসা। মান্নান ভাই (আবদুল মান্নান ভূঁইয়া) তখন নরসিংদীসহ আশপাশ এলাকার সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। তার নেতৃত্বে ওই অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। মান্নান বাহিনীর সাহসিকতাপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী ওই এলাকার মানুষের মুখে মুখে এখনও শোনা যায়। তাদের গেরিলা রণকৌশলের কাছে হার মেনেছিল হানাদার বাহিনীর সব কৌশল। ফলে ওই এলাকা মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরো সময় মুক্তাঞ্চল হিসেবেই ছিল। তাই বামপন্থি বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ভারত যাতায়াতে শিবপুর রুট ব্যবহার করতেন।

ঢাকায় পেঁৗছে আজন্ম চেনা শহরটিকে কেমন অচেনা লাগল, প্রায় সব ফাঁকা। পাকবাহিনীর নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে বেশিরভাগ মানুষ গ্রামের দিকে চলে গিয়েছিল। যদিও তখন ঢাকার আয়তন এবং জনসংখ্যা আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল। তার ওপর বহু লোক নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শহর ছাড়ায় লোকসংখ্যা আরও অনেক কমে গিয়েছিল।

আমাদের আগেও বেশ কয়েকটি গ্রুপকে গেরিলা অপারেশনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তারা কয়েকটি সফল অপারেশন চালালেও তাদের কেউ কেউ পাকিস্তানি আর্মির হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অপারেশন শুরুর আগে আমরা অগ্রবর্তী গ্রুপগুলোর ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করি। প্রথমেই আমাদের গ্রুপের ৪০ জন যোদ্ধাকে ২০ জন করে দুটি সাব-গ্রুপে ভাগ করা হয়। যার একটি গ্রুপের নেতৃত্ব বর্তায় জনপ্রিয় পপ গায়ক আজম খানের ওপর, অপরটির নেতৃত্বে ছিল মোহাম্মদ শামসুল হুদা। আমাদের অন্য ৩৭ জন সহযোদ্ধার মধ্যে ছিলেন ইকবাল সুফী, আসলাম লস্কর, কাজী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ (বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তা), মোহাম্মদ শফি, খুরশিদ (চট্টগ্রাম), খুরশিদ (টাঙ্গাইল) আবদুল মতিন, আবু তাহের, মোহাম্মদ বাশার, খন্দকার আবু জায়িদ জিন্নাহ, ফরহাদ জামিল ফুয়াদ, ড. নিজাম, জাহেদ, নান্টু, মাসুদ, রুপিন, হারুন, মাহফুজ, রুহুল আমিন, বিজু, কচিসহ অনেকে।

ঢাকার সন্তান হিসেবে এ শহরের প্রতিটি অলিগলি ছিল আমাদের নখদর্পণে। অন্যদিকে পাকিস্তানি দখলদারদেরও কেদ্রীয় শক্তি ছিল ঢাকায়। তখন পাকিস্তানি শাসকরা ঢাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাচ্ছিল। আমরা সংকল্প করলাম বড় কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের প্রচারণার অসত্যতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরব।

ঢাকায় আসার আগে মেজর হায়দার যে ব্রিফিং দিয়েছিলেন তা যুদ্ধকালে যথাযথভাবে মেনে চলেছি। একক সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনা করে অগ্রসর হয়েছি। তাই আমাদের প্রায় সবগুলো অভিযানই সফলতা পেয়েছিল। গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশল মেনে চলেছি, যেমন হিট অ্যান্ড রান, জনগণের মধ্যে থেকে যুদ্ধ করা, শত্রুপক্ষকে সবসময়ই অস্থির রাখা, সাফল্য নিয়ে বেশি উৎফুল্ল না হওয়া, নিজেদের নিরাপত্তার কথা স্মরণে রাখা, যুদ্ধে নিজেরা যতটা সম্ভব কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, শত্রুর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা, প্রমাণাদি একেবারেই সঙ্গে না রাখা ইত্যাদি। এমনসব জায়গায় আমরা সফল অপারেশন করেছি যে, আজও ভাবলে শরীর শিহরে ওঠে। আমরা অপারেশন টার্গেট নির্ধারণ করতাম প্রচারের গুরুত্ব বিবেচনা করে। যাতে মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পায় এবং শত্রুও আতঙ্কগ্রস্ত হয়। প্রতিটি অপারেশনে আমরা আক্রমণ করেই সরে পড়েছি এবং জনগণের মধ্যে থেকে ফলাফল বা প্রতিক্রিয়া উপভোগ করেছি।

সাদেক হোসেন খোকা : মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র

[ad#bottom]