মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় নতুন পর্ব উন্মোচন

মফিদুল হক
অনলাইনে এসএ জালাল সংগ্রহ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তথ্যানুসন্ধান ও গবেষণায় যারা আগ্রহী, খুঁজে ফিরছেন বিস্তারিত তথ্য, দেখতে চান পত্র-পত্রিকার সংগ্রহ, জানতে চান অজানা বিভিন্ন দিক তাদের জন্য অভিনব ও সুবিশাল এক তথ্যভাণ্ডার তিলে তিলে সঞ্চয় করেছিলেন শেখ আহমেদ জালাল, নিকটবৃত্তে যিনি এসএ জালাল নামে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

তার সংগ্রহের বিশালতা যে কাউকে অভিভূত করবে। এটাও সুনিশ্চিত করবে যে, গবেষক-তথ্যানুসন্ধানীদের জন্য তা এক স্বর্ণখনির দ্বার উন্মোচন করছে। এসএ জালালের আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবারের আনুকূল্যে এ সংগ্রহ যখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের হস্তগত হলো, সেই ২০০৪ সালে, তখন থেকে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছিল কীভাবে সবার কাছে লভ্য করে তোলা যায় তথ্যের এ সম্পদভাণ্ডার। বিশালাকার ৩১টি স্ক্র্যাপবুকে সেঁটে রাখা হাজারো ধরনের কাগজপত্র কেউ যদি উল্টেপাল্টে দেখতে চান তবে সামান্য ব্যবহারে সেসব ছিন্নবিচ্ছিন্ন কিংবা আরও জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে। যদি ডিজিটাল কপি করার প্রশ্ন ওঠে তাহলে সেটাও খুব সহজ কাজ হবে না। স্ক্র্যাপবুক স্ক্যানারে ঢোকানো সম্ভব নয়, পাতা আলাদা করে খুলে ফেলাও সঙ্গত নয়, তাহলে কীভাবে এ-কাজ করা সম্ভব? অন্য কোনো পদ্ধতি যদি খুঁজে বের করাও হয়, অপরিসীম কষ্টসাধ্য সে কাজ করবে কে! এর জন্য যে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে সেটাই-বা আসবে কোথা থেকে!

এমন সব প্রশ্নে আমরা যখন আলোড়িত, তথ্যভাণ্ডারের অধিকারী হয়েও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর যখন তথ্য না-জানাতে পারার বেদনায় ক্লিষ্ট, তখন একদল তরুণ এগিয়ে এসেছিলেন সমস্যা মোচনে। তারা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে এ দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে একনিষ্ঠ পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা অনলাইনে এসএ জালাল সংগ্রহ মেলে ধরার ব্যবস্থা করেছেন। যে কেউ এখন দেখতে পারবেন এ সংগ্রহ, ক্লিক করতে হবে < ধৎপযরাবং.ষরনবৎধঃরড়হধিৎসঁংবঁস.ড়ৎম>. তবে তার আগে এসএ জালাল এবং তার সংগ্রহ বিষয়ে কিছু কথা আমাদের বলতে হয়।

২.
ষাটের দশকের গোড়ায় শেখ আহমেদ জালাল সরকারি বৃত্তি নিয়ে গিয়েছিলেন জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে। জাপানে তার ছাত্রত্বের সময়ই দুটি উল্লেখযোগ্য কাজ করেছিলেন এসএ জালাল। তিনি প্রকাশ করেন ছোটদের জন্য বই ‘জাপানি রূপকথা’। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত এ গ্রন্থের ভূমিকায় মুনীর চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘জাপানি রূপকথা বাংলা ভাষায় গ্রন্থাকারে এই প্রথম প্রকাশিত হল। কেবল প্রথম হওয়ার গুণেই যে এই বই আমাদের চিত্তাকর্ষণ করেছে তা নয়, অনুবাদ বড় সার্থক হয়েছে। হওয়ার কথাও বটে। কারণ লেখক সরাসরি জাপানি ভাষা থেকে গল্পগুলো বাংলায় রূপান্তরিত করেছেন। গল্পের পরতে পরতে জাপানি ভাষার ছায়া, জাপান দেশের মায়া নানা কৌশলে মিলিয়ে দিয়েছেন।’ ছাত্রাবস্থায় আরও একটি কাজ করেছিলেন এসএ জালাল। অন্য দুই সতীর্থের সঙ্গে মিলে তিনি জাপানিদের জন্য বাংলা ভাষা শেখার একটি বিদ্যালয় চালু করেছিলেন। পাকিস্তান ছাত্র সমিতির পক্ষ থেকে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নানা বাধাবিঘ্নের মধ্য দিয়ে তারা সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা অব্যাহত রাখেন।

জাপানি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান দূতাবাসের সুপারিশে উর্দু ভাষা শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানান। অব্যাহত চেষ্টার ফলে বাংলা বিদ্যালয়ের জন্য টোকিওর এশিয়া-আফ্রিকার সাংস্কৃতিক সংস্থার স্বীকৃতি আদায়ে অবশেষে তারা সমর্থ হন। দেশ থেকে প্রায় সাড়ে চারশ’ বই এনে বিদ্যালয়ের গ্রন্থভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে এমন পর্যায়ে উন্নীত করেন, পাকিস্তান দূতাবাসও এ প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
জাপান রেডিও যখন বাংলা প্রোগ্রাম সম্প্রচার শুরু করে তখন সেই কাজে এসএ জালাল যুক্ত হন। এছাড়া তিনি দেশের পত্র-পত্রিকায়, বিশেষভাবে দৈনিক ইত্তেফাক ও অবজারভারে জাপান বিষয়ে লিখতেন ও খবর পাঠাতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আপন কর্তব্য নির্ধারণে তার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা বা বিলম্ব ছিল না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বহু ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল জাপানে এবং জাপানের অগ্রণী রাজনীতিবিদ, কৃতী গবেষক-অধ্যাপক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক অনেকে পালন করেছিলেন বিশিষ্ট ভূমিকা। সেই সঙ্গে বহু বাধাবিঘ্ন জটিলতা সত্ত্বেও জাপান প্রবাসী মুষ্টিমেয় বাঙালি ত্যাগী ও দৃঢ়চেতা ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক সংহতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।

শেখ আহমেদ জালাল প্রকাশ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি পরম যত্ন ও সাধনায় নিভৃতে আরেক কাজ করে গেছেন। নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালিত তার এই নিভৃতচারী সাধনার দ্বারা তিল তিল করে অর্জিত সম্পদ এখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, তথ্যানুসন্ধানী, ঐতিহাসিক সবার জন্য উন্মুক্ত হলো এক স্বর্ণখনি, যা আমাদের বিবেচনায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত দলিলপত্র, তথ্য ও সংবাদভাষ্য, প্রকাশনা, চিঠিপত্র ইত্যাদির সর্ববৃহৎ একক সংগ্রহ। যক্ষের ধনের মতো এ সংগ্রহ আগলে রেখেছিলেন এসএ জালাল এবং বিদেশ মন্ত্রণালয়ের চাকরির সুবাদে তিনি দেশ থেকে দেশে ঘুরেছেন, আর সর্বত্র সঙ্গে নিয়ে ফিরেছেন বিশাল সংগ্রহ, নানা অসুবিধা সত্ত্বেও এই ভাণ্ডার কখনও কাছছাড়া করেননি। দেশের রাজনীতিতে নানা উত্থান-পতন ঘটেছে, তার কর্মজীবনও নিষ্কণ্টক ছিল না; কিন্তু তিনি মুক্তিযুদ্ধের তথ্যসংগ্রহ পরম মমতায় সংরক্ষণ করে গেছেন। কলকাতায় তিনি যখন কর্মরত, ডেপুটি হাইকমিশনের সেই ঐতিহাসিক আবাসে আমি দেখেছিলাম তার সংগ্রহ।

২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এসএ জালালের প্রয়াণ ঘটে। তার পরিকল্পিত কাজের বড় অংশই তখন অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছিল। কেবল একটি গ্রন্থের প্রণয়ন ও প্রকাশনা তিনি সমাপ্ত করেছিলেন। ঔধঢ়ধহ্থং ঈড়হঃৎরনঁঃরড়হ রহ ঃযব ওহফবঢ়বহফবহপব ড়ভ ইধহমষধফবংয নামক তথ্যসমৃদ্ধ এই গ্রন্থ প্রণয়নে তিনি তার সংরক্ষিত ভাণ্ডার ব্যবহার করেছেন। অপরদিকে জাপান ফাউন্ডেশনের ফেলোশিপ নিয়ে আগস্ট ২০০১ থেকে জানুয়ারি ২০০২ পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করে আরও অনেক প্রকাশনা ও তথ্যের হদিস ও বিশেল্গষণ করেন এবং সাক্ষাৎকার নেন মুক্তিযুদ্ধকালে সক্রিয় বিভিন্ন জাপানি ব্যক্তিত্বের। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গবেষণায় তার এই গ্রন্থ একটি বিশিষ্ট সংযোজন হয়ে রইলো।

এসএ জালালের অন্যান্য গ্রন্থ প্রণয়নের ইচ্ছার বাস্তবায়ন হতে পারেনি তার শারীরিক বৈরিতা এবং আকস্মিক মৃত্যুর কারণে। তার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে স্ত্রী সেলিমা জালাল, কন্যা রেজিনা সিলভিয়া ও পুত্র ফয়সাল জালাল ২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য-দলিলপত্রের বিশাল এ সংগ্রহ তুলে দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের হাতে।
এসএ জালালের সংগ্রহ সম্পর্কে কিছু কথা এখানে নিবেদন করতে হয়। তার সংগ্রহের যত্নশীলতা ও বিন্যাস যে কাউকে মুগ্ধ করবে। তিনি প্রতিটি সামগ্রী জমা করেছেন প্রায় বাতিকগ্রস্তের মতো এবং পরম মমতায়। জাপানে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার সুবিধা-অসুবিধা দুটি দিকই ছিল। অসুবিধার দিক হলো, জাপান সরকার, অন্য যে কোনো দেশের সরকারের মতো, পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছিল এবং যে কারণে কোনো বিদেশি নাগরিকের পক্ষে জাপানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা বিশেষ বিপজ্জনক ছিল। ফলে এসএ জালাল ও তার সতীর্থদের কাজ করতে হয়েছে বিভিন্ন আড়াল রচনা করে। এক্ষেত্রে অনেক জাপানি নাগরিকের অকুণ্ঠ সমর্থন তারা পেয়েছিলেন। মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে এসএ জালালের যে যোগাযোগ সেটাও নিজের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই মুজিবনগর সরকারের চিঠি ও কাগজপত্র তাকে পাঠানো হতো ঔধঢ়ধহ ঈড়ৎৎবংঢ়ড়হফবহঃ নামে এবং ঠিকানা ছিল ঈধৎব গৎ. গরহড়ৎঁ করৎরুঁ, ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ উবাবষড়ঢ়রহম ঊপড়হড়সরপং, ৪২, খবযরমধুধ, ঐড়হ-গঁৎধ-ঈযড়, ঝযরহলঁশঁ, ঞড়শুড়. ঠিকানায় উলিল্গখিত জনাব কিরিয়ু ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ এবং ১৯৭০ সালে গবেষণার কাজে দু’মাস কাটিয়েছিলেন পূর্ববঙ্গে। তিনি প্রাথমিকভাবে বাংলা শিখেছিলেন এসএ জালালের কাছে। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা থেকে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং জাপানি ভাষায় ‘বাংলাদেশ নিউজ’ সাময়িকী প্রকাশ করেন। তিনিই কাজ করেছেন এসএ জালালের ডাকবাক্স হিসেবে।

এসএ জালালের সংগ্রহের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে জাপানের ভূমিকার বিভিন্ন দিক আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়েছে। তিনি জাপানি সাময়িকীতে প্রকাশিত বাংলাদেশ সংক্রান্ত সচিত্র প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন। সেই সঙ্গে প্রধান তিন জাপানি ভাষার দৈনিক ইয়োমিউরি শিম্বুন, আসাহি শিম্বুন ও মাইনিচিজ শিম্বুন প্রকাশিত তিনটি ইংরেজি দৈনিকের প্রচুর ক্লিপিং তার সংগ্রহে রয়েছে। এই তিনটি ইংরেজি দৈনিক হচ্ছে যথাক্রমে ডেইলি ইয়োমিউরি, আসাহি ইভনিং নিউজ এবং মাইনিচি ডেইলি নিউজ। এছাড়া জাপান টাইমসের ক্লিপিং রয়েছে তার ভাণ্ডারে।

পত্র-পত্রিকার ক্লিপিংয়ের যে বিশাল ভাণ্ডার এককভাবে সংগ্রহ করেছেন এসএ জালাল তার ব্যাপ্তি বিস্ময়কর। ব্রিটেন ও আমেরিকার প্রধান ইংরেজি দৈনিক ছাড়াও অনেক অপ্রধান কিন্তু তাৎপর্যময় পত্রিকার ক্লিপিং তার কাছে ছিল। এছাড়া ইউরোপের অন্য ভাষাভাষী কিছু পত্রিকার রিপোর্টও তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। এইসব পত্রিকার নামোলেল্গখের মধ্য দিয়ে তার সংগ্রহের ব্যাপ্তির একটি পরিচয় মিলবে। এসএ জালালের পত্রিকা সংগ্রহে রয়েছে সানডে টাইমস, ডেইলি এক্সপ্রেস, ডেইলি মিরর, ডেইলি টেলিগ্রাফ, ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড, সানডে এক্সপ্রেস, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, গার্ডিয়ান, ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন, নিউ স্টেটসম্যান প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে চায়না নিউজ, ম্যানিলা টাইমস, দি ট্রিবিউন, সায়গন পোস্ট, স্কটসম্যান, ওয়ার্কার্স প্রেস প্রভৃতি। ইংরেজি ছাড়া ভিন্ন ভাষার পত্রিকাও ছিল তার সংগ্রহে এবং এসব পত্রিকার উল্লেখযোগ্য সংবাদের ইংরেজি অনুবাদও সংযুক্ত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ফরাসি লা মোঁদ, লা কুরিয়ার, এছাড়া নেদারল্যান্ডসের দুটি এবং জেনেভার একটি পত্রিকা।

৩.
দীর্ঘ বিলম্ব হলেও এসএ জালাল সংগ্রহের ডিজিটাল কপি এখন যে আগ্রহীজনদের কাছে তুলে দেওয়া যাচ্ছে, সেটা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের একটি বিশেষ অর্জন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাজে তথ্যপ্রযুক্তি স্বেচ্ছাসেবকদল কাজ শুরু করেছিল এক বছরেরও আগে। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে তারা কাজ করেছেন, প্রায় নিভৃতে, সবার দৃষ্টির আড়ালে। তারা নিজেরা গঠন করে নিয়েছিলেন বড় একটি দল, সদস্যরা সবাই কাজ করেন আধুনিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অথবা প্রতিষ্ঠানে। কেউ কেউ বা রয়েছেন ছাত্রত্বের শেষ পর্যায়ে। নিজেদের মধ্যে তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন কাজ, কোন সপ্তাহে কারা আসবেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে, সেটাও তারা ঠিক করে নিয়েছেন। আর এভাবেই চলেছে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস জুড়ে কাজ। খুব সহজ ছিল না এই কাজ, প্রতিটি পাতা দাবি করে আলাদা মনোযোগ, বিশেষ ব্যবস্থা। তারা নিজেরাই বলেছেন : ‘একে নিউজপ্রিন্ট, তার উপর ৪০ বছরের পথচলা … সব মিলিয়ে এগুলোর অবস্থা এমনই নাজুক ছিলো যে, তা প্রদর্শন করা যাচ্ছিলো না। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করি তখন মফিদুল ভাই আমাদের হাতে তুলে দেন এগুলো। আমরা দায়িত্ব নিই এই তথ্যভাণ্ডারকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তরের। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মফিদুল ভাই, আমেনা আপার কাছে অসম্ভব কৃতজ্ঞ আমরা এরকম একটি সম্মানজনক কাজের দায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে দেওয়ার জন্য। ডিজিটাল করার জন্য স্ক্যান করাটাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। কিন্তু এগুলোর অবস্থা এতটাই নাজুক যে স্ক্যান করা অসম্ভব ছিল। সিদ্ধান্ত হলো সবগুলোর ছবি তোলা হবে। শুরু হলো কাজ। সচলায়তনে যারাই ছবি তোলাতুলির কাজে অভিজ্ঞ, ভালো মানের ক্যামেরা আছে, তাদের নিয়ে শুরু হলো কাজ। সবাই ব্যক্তিগত কাজে অবশ্যই ব্যস্ত। তবু ছুটির দিনগুলোতে পরিবার বা সামাজিকতায় সময় না দিয়ে অবসরের সারাটা দিন আমরা কাটিয়েছি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গত একটা বছর!’
‘কেউ ছবি তুলেছে, কেউ ছবি সম্পাদনা করেছে, কেউ ওয়েবসাইট বানিয়েছে … অবশেষে তা সবার সামনে তুলে ধরার সময় হয়েছে।’

এসএ জালাল সংগ্রহের প্রথম দশ খণ্ড এখন দেওয়া হয়েছে ওয়েবসাইটে। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে পত্র-পত্রিকার ক্লিপিং। বাকি ২১ খণ্ডের কাজ এখন চলবে, তুলে দেওয়া হবে অচিরেই সবার হাতে। এই কাজ সম্পাদনকারী তরুণদের জন্য রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অভিনন্দন। যারা এসব তথ্য ব্যবহার করবেন তারাও নিশ্চয়ই কৃতজ্ঞবোধ করবেন এসএ জালাল ও তার পরিবারের কাছে এবং স্বেচ্ছাকর্মী তরুণদের কাছে। তরুণ স্বেচ্ছাকর্মী দলে ছবি তোলার কাজে ছিলেন : মোঃ আরিফুল ইসলাম, রোয়েনা রাসনাত, আশরাফুল আলম, নজরুল ইসলাম, সামিউল ওয়াশেক, সামিউল আলম অনিক, তুষার বাবু, জিএম তানিম, সায়কা শাহরিন, তৃষিয়া নাশতারান, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, হাসিব হক। ছবি সম্পাদনা করেছেন মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম, সায়কা শাহরিন, পলাশ রঞ্জন সান্যাল, মোঃ আরিফুল ইসলাম। ওয়েবসাইট নির্মাণ ও তত্ত্বাবধান করেছেন রাইয়ান কামাল এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নজরুল ইসলাম, গৌতম রায়, মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, বেলায়েত হোসেন, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আরিফ, আনিসুর রহমান মাহমুদ, সচলায়তন পরিবার। ইতিহাসের উপাদান প্রক্রিয়াজাত করবার কাজ সম্পন্ন করেছে তরুণ দল, এর ব্যবহারে তরুণগোষ্ঠী যত এগিয়ে আসবে ইতিহাস-চেতনা হবে ততই বলবান।

সবার আমন্ত্রণ রইলো এসএ জালালের সংগ্রহ-ভাণ্ডারে প্রবেশের জন্য।

[ad#bottom]