পানিসম্পদের ৯০ কোটি টাকাই পানিতে

নাজমুল হক
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় পদ্মার তীর রক্ষায় দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্প এলাকা নদীতে ভেসে যাওয়ায় সরকারের ৯০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ড এজন্য প্রমত্তা পদ্মাকে দায়ী করলেও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এজন্য প্রকল্পের ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন ও নিম্নমানের কাজকে দায়ী করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও, হাসাইল-বানারী ও দীঘিরপাড় ইউনিয়ন পদ্মা নদীর ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্প’ কাজ ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শুরু করে গত জুনে শেষ করে। এ প্রকল্পের আওতায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার বাঁ তীরে

২ হাজার ৫৫৮ মিটার তীর রক্ষার কাজ করা হয় সিসি ব্লকের সাহায্যে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার দু’মাসের মধ্যেই গোটা প্রকল্প এলাকা নদীতে ধসে যায়। এর আগে ২০০৬ সালে একই স্থানে ১০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণের কাজও ভাঙনের কারণে ভেসে যায়। আইএমইডি সূত্র জানায়, প্রথম দফায় প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্পদৈর্ঘ্যে
অর্থাৎ মাত্র ৫৩০ মিটার দীর্ঘ তীর সংরক্ষণের কাজ করায় এ ক্ষতি হয়েছে। আর দ্বিতীয়বার প্রকল্পের ডিজাইন প্রণয়নকালে নিয়ম অনুযায়ী ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডবি্লউএম) সমীক্ষা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি এবং প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে হাসাইল ও গরুড়গাঁও বাজার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। পদ্মা, যমুন ও ব্রহ্মপুত্রের সম্মিলিত প্রবাহ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৫ বছরে এ উপজেলার বিভিন্ন জনপদ পদ্মায় বিলীন হয়েছে। ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য প্রকল্প দুটি গ্রহণ করা হয়েছিল।

জানা গেছে, দ্বিতীয়বারের প্রকল্পটির আওতায় উজানের পাঁচগাঁও বাজার থেকে ভাটির দিকে হাসাইল বাজার পর্যন্ত ২ হাজার ২১৮ মিটার তীর সংরক্ষণ এবং দুই প্রান্তে ৩৪০ মিটার টার্মিনেশনসহ মোট ২ হাজার ৫৫৮ মিটারজুড়ে কাজ করা হয়। কিন্তু পাঁচগাঁও বাজার প্রান্তে ১১৫ মিটার টার্মিনেশনের কাজটি ভালোভাবে করা হয়নি বলে সূত্র জানায়।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর আইএমইডির একটি পরিদর্শন দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে দলটি পাঁচগাঁও বাজারের উজানে এবং হাসাইলের ভাটিতে কামারখারা মৌজায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন দেখতে পায়। ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সুপারিশ করে মূল্যায়ন দলটি। প্রকল্প সমাপ্তি মূল্যায়নে ‘প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ে বাস্তবায়িত হওয়ায় সার্বিক বিবেচনায় এটিকে একটি সফল বাস্তবায়িত প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যায়’ বলে মন্তব্য করা হয়। প্রকল্পটির মূল্যায়নকারী কর্মকর্তা বর্তমানে দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে আইএমইডি সূত্র জানায়, উলি্লখিত প্রকল্প দুটি সরকারি অর্থ অপচয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত। শত অনিয়ম করলেও নদী ভাঙনের দোহাই দিয়ে রেহাই পাওয়া যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা বেশি ঘটে।

[ad#bottom]