আজ ১১ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের গৌরবোজ্জ্বল দিন

মুক্তদিবস
মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ ॥ আজ ১১ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের গৌরবোজ্জ্বল দিন। ২১৬ দিন শত্রুকবলিত থাকার পর ’৭১ এর এই দিনে প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুর (তৎকালীন মহাকুমা) দখলমুক্ত হয়। দিবসিটি পালনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে।

হরগঙ্গা কলেজে হানাদার বাহিনীর মহকুমার প্রধান ক্যাম্প ছিল। কলেজটিতে নারকীয় নানা তান্ডবের স্বাক্ষী হিসাবে আজও দাঁড়িয়ে আছে। আর কলেজের পূর্ব পাশে বধ্যভূমি হিসাবে চিহ্নিত করে সেখানে গণপূর্ত বিভাগ ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করছে। তবে এটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এখনও উদ্বোধন করা হয়নি। এছাড়া শহরের শিল্পকলার দক্ষিণ পাশে ৫০শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামক্ষচিত স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে। তবে এটির দেয়াল ও মাটি ভরাট জরুরি হয়ে পড়েছে।

জেলার মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলো সংরক্ষণ ও চিহ্নিত না করায় এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের মনে নানা কষ্ট। তাছাড়া বিগত জোট সরকারে শাসনামলে কতিপয় রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখার কারণে ক্ষোভ বইছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী এখানে প্রবল।

স্বাধীনতাযুদ্ধের অগ্নিঝড়া দিনগুলোর স্মৃতিরপাতা উল্টালেই দেখা যাবে-মুন্সিগঞ্জের বীরযোদ্ধারা পাকিবাহিনীর বিরুদ্ধে কী প্রবল প্রতিরোধ গড়েছিল। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে বার বার পাকিরা নানা ভাবে পরাভূত হয়েছিল।
পাকি বাহিনীর নারকীয় তান্ডব ও গণহত্যার প্রতিবাদে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলে মুন্সিগঞ্জবাসী। এপ্রিলের মাঝামাঝি তৎকালীন পাকিস্থানের নেজামে ইসলামের সহসভাপতি মৌলানা আল- মাদানি টঙ্গীবাড়ির আব্দুল্লাপুর মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ভাষন দিচ্ছিলেন। এই সময় মুক্তিকামী বাঙালি তার জনসভাকে ঘিরে গুলিকরে মাদানিকে হত্যা করা হয়।

আর বিজয়ের ক’দিন আগেই শহরের কয়েক কিলোমিটার দুরে রামেরগাঁয়ে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে পাকিরা পরাজিত হয়। এর আগে গোয়ালী মান্দ্রায় জেলার সবচেয়ে সফল সম্মুখযুদ্ধ হয় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে। পাকি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা যৌথভাবে এখানে যেসকল নারকীয় তান্ডব চালিয়েছে এর অন্যতম হচ্ছে- ৯ মে গজারিয়ায় নির্বিচারে ৩শ’৬০ নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এরপর সদর উপজেলার কেওয়ার চৌধুরী বাড়িতে স্থানীয় বুদ্ধিজীবীসহ ১৮ জনকে হত্যা করে।

এছাড়া ক্যাপ্টেন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পাকি বাহিনী নিরীহ বাঙালীর ঘরবাড়িতে অগ্নি সংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, ক্যাম্পে নির্যাতনের পর হত্যাসহ নানা ধ্বংশযজ্ঞ চালায়।

কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত প্রতিরোধের মুখে ১০ ডিসেম্বর গভীর রাতে শহরের হানাদার বাহিনী লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। গা ঢাকা দেয় পাক বাহিনীর দোসর রাজাকাররাও। আর ১১ ডিসেম্বর কাকডাকা ভোরে মুন্সিগঞ্জের আকাশে ওড়ে বিজয় কেতন।

[ad#bottom]