মুন্সীগঞ্জে ২শ ৩৮ জন বীজ ডিলার সাড়ে ৩ কোটি টাকার লোকসানের মুখে

জান্নাতুল ফেরদোসৗ,মুন্সীগঞ্জ : চলতি আলু আবাদের মৌসুমে বিএডিসির আলু বীজ মুন্সীগঞ্জের ডিলারদের কাছে গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএডিসির বীজ কেনায় মুন্সীগঞ্জের আলু চাষীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। চাষীদের আগ্রহ না থাকায় মুন্সীগঞ্জের ২’শ ৩৮ জন বীজ ডিলার চলতি মৌসুমেই সাড়ে ৩ কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। দেশের বৃহত আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল মুন্সীগঞ্জের আলু চাষীরা এবার বিদেশী বাক্স আলুর বীজ ও স্থানীয় ভাবে সংরক্ষিত আলু বীজের প্রতি ঝুকে পড়েছেন। এসব কারনে ডিলারদের গলার ফাঁস হয়ে উঠেছে বিএডিসির আলু বীজ। চাষীদের দাবী বিদেশী বাক্স বীজ ও স্থানীয় বীজের দাম বিএডিসির তুলনায় অনেক কম। এ কারনে বিএডিসির বীজের প্রতি চাষীদের আগ্রহ কমে গেছে। অন্যদিকে, বিএডিসির ডিলাররা তাদের উত্তোলনকৃত বীজ আলু বিক্রি করতে পারছে না। চাষীরা অন্য মুখী হওয়ায় বিএডিসির বীজের বিকিকিনি গেলো বারের তুলনায় অর্ধেক কমে এসেছে। এতে জেলার ২’শ ৩৮ জন ডিলারের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার বীজ অবিক্রিত থেকে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

চাষীরা জানায়, চলতি মৌসুমে বিএডিসির আলু বীজের দাম চড়া। বিএডিসির ডায়মন্ড জাতের ৪০ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা বীজ আলুর দাম ১১’শ টাকা। পক্ষান্তরে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত ও কোল্ড ষ্টোরেজে সংরক্ষিত বীজ আলুর প্রতিবস্তার দাম মাত্র ৮’শ টাকা। অন্যদিকে, অধিকাংশ বিএডিসির বীজ আলুতে শিকর গজিয়েছে। বিএডিসির বীজের প্রতি চাষীদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় লোকসান গুনে ডিলাররা বিভিন্ন স্থানে বীজ আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জ সদরের মুন্সীরহাট, চরডুমুরিয়া বাজার, চিতলীয়া বাজার, মাকহাটি বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিলাররা বিএডিসির বীজ আলু গুদামজাত করে হতাশায় ভুগছেন। গুদামজাত অধিকাংশ বীজ আলু এখনো অবিক্রিত থেকে গেছে।

অপরদিকে, লোকসান পুষিয়ে নিতে জেলা ডিলার সমিতি সমপ্রতি বিএডিসির চেয়ারম্যানের কাছে বীজ দাম কমানো ও কমিশন বৃদ্ধির দাবীতে আবেদন করেছেন। ডিলার সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারক লিপি পেশ করেছেন।

জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি সভায় বীজের দাম কমানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। মাঠ পর্যায়ে চাষীদের বিএডিসি আলুবীজ কেনার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছি।

জেলা বীজ ডিলার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ উল­াহ বলেন, বিএডিসির বীজ এখন আমাদের গলার ফাঁস। এবার আমাদের প্রচুর অংকের টাকার লোকসান দিতে হবে। কেননা চাষীরা আর বিএডিসির বীজ কিনছেন না। তাদের ওই বীজের প্রতি আগ্রহই নেই।

জেলা প্রশাসক মো: আজিজুল আলম জানান, বিএডিসির বীজ ডিলারদের সমস্যা সম্বলিত স্মারকলিপি পেয়েছি। তবে এ সপ্তাহের মধ্যেই জরুরী সভা ডেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিডি রিপোর্ট ২৪

[ad#bottom]