মুন্সিগঞ্জে ‘নকল’ ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের আহ্বান

বিশিষ্ট শিল্পীদের বিবৃতি
মুন্সিগঞ্জ শহরে পৌরসভার উদ্যোগে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পী ও শিল্পানুরাগীরা। ওই ভাস্কর্যকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত বরেণ্য শিল্পী নিতুন কুন্ডুর ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ নামের ভাস্কর্যের নিম্নমানের অনুকরণ বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রফিকুন নবী, মতলুব আলী, আবুল বারক আলভী, ফরিদা জামান, রবিউল হুসাইন, শহিদ কবির, শিশির ভট্টাচার্য প্রমুখ।

তাঁরা বলেছেন, জাতির গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। তবে এ কাজে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা সৃজনশীল মডেল আহ্বান না করে ‘সাইনবোর্ড আর্টিস্টকে’ দিয়ে নকল কাজ করিয়ে কর্তৃপক্ষ বিচক্ষণহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে এই ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ করতে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রথম আলো
————————————————-

মুন্সীগঞ্জে নকল ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদে বিবৃতি

মুন্সীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে চারুশিল্পী ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নকল মডেল দিয়ে এ ভাস্কর্য নির্মাণের বিরুদ্ধে বিশিষ্টজনরা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এই ভাস্কর্যটি নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের প্রতি স্মারকলিপি পেশ, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও স্বাক্ষর সংগ্রহসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

তাঁরা অভিযোগ করেন, যে মডেল অনুসারে ভাস্কর্যটি নির্মিত হতে যাচ্ছে তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত শিল্পী নিতুন কুণ্ডুর ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ নামক ভাস্কর্যটির ব্যর্থ নকল অনুকরণ। কর্তৃপক্ষের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা সৃজনশীল মডেল আহ্বান ছাড়াই ভাস্কর্যটি নির্মিত হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, এক সাইনবোর্ড আর্টিস্টের দেওয়া নকল ও ভুল মডেলের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের নির্দেশে এই ভাস্কর্য নির্মিত হতে চলেছে। এ বিষয়টিকে তাঁরা অবিবেচনাপ্রসূত বলে উল্লেখ করেন।

বিশিষ্টজনরা নকল ও ভুল মডেলটির পরিবর্তে একটি নতুন সৃজনশীল ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানান এবং যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মনুমেন্ট হওয়া উচিত সেই উচ্চমানসম্পন্ন যা দেখামাত্র মানুষ একসঙ্গে শিল্পবোধ এবং ইতিহাসবোধে উদ্বুদ্ধ হবে। বর্তমানে যে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত দুর্বল কাজ; সৃজনশীলতা তো নেই-ই।’

বিবৃতিতে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, শহীদ কবীর, নিসার হোসেন, মতলুব আলী, ফরিদা জামান, হামিদুজ্জামান খান, শিশির ভট্টাচার্য্য, বীরেন সোম, আবুল বারাক আলভী, মোহাম্মদ ইউনুস, শিল্পসমালোচক সৈয়দ আজিজুল হক, মাইনুদ্দীন খালেদ প্রমুখ স্বাক্ষর করেন।

কালের কন্ঠ
——————————————————-

[ad#bottom]

2 Responses

Write a Comment»
  1. সাইনবোর্ড-ব্যানার করা আর ভাস্কর্য দু’টো ভিন্ন জিনিস। ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপার আছে তো বিন্দু সরকার। এবার বুঝার চেষ্টা কর…!!!

  2. শিল্পী নিতুন কুণ্ডুর ভাস্করর্যের নকল যে করতে পারে, সে আর যাই হোক সৃজনশীল শিল্পীসত্তার অধিকারী হতে পারে না, নিজের মেধা (যদি থাকে!) দিয়ে নতুন কিছু নির্মাণ করা উচিত…