প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করল উত্তরণ

রাহমান মনি
জাপানের মতো দেশে যেখানে এক মিনিট বিলম্বের জন্য এক ঘণ্টা শ্রমের মজুরি কর্তন কিংবা এক ইয়েনের জন্য দশ হাজার ইয়েনের নোট ভাঙাতে হয় সেই দেশে শ্রম, মেধা এবং অর্থ খরচ করে সংগঠন তৈরি করে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা বজায় রাখা খুবই চ্যালেঞ্জের একটি কাজ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘উত্তরণ’ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ জাপান, নিজেই নিজের রেকর্ড ভঙ্গ করে এগিয়ে চলেছে জাপানে।

গত ১৪ নবেম্বর উত্তরণ পালন করেছে তাদের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে বরাবরের মতো এবারও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। টোকিওর তোশিমা জেলার মিনামি ওৎসুকা (ঞড়ংযরসধ গরহধসর ঙঃংঁশধ) হলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এ কে এম মজিবুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি অনুষ্ঠানে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যে জাপানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ তুলে ধরার জন্য তার নিজ এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গ্রুপ লিডার খন্দকার ফজলুল হক (রতন) সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাপানে বাংলাদেশিদের দ্বারা আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে বলেন, উত্তরণের আয়োজনে সবাইকে প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। সব সংগঠন এবং ব্যক্তিগতভাবে যাদের কাছে সহযোগিতা পাওয়া যায় তাদের সবাইকে সাধ্যমতো দাওয়াত দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তারপরও যদি কেউ বাদ পড়ে যায় সেটা একান্তই অনিচ্ছায়। সেই অনিচ্ছার জন্য উত্তরণের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আজকের অনুষ্ঠান আপনাদের ভালো লাগার কথা মাথায় রেখে সাজানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি ভালো লাগবে।

জাপানে প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত একমাত্র সংগঠন ‘উত্তরণ’ যারা যথাসময়ে প্রতিটি অনুষ্ঠান শুরু করে। প্রধান অতিথির বিলম্ব হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতে যথাসময়ে অনুষ্ঠান শুরু করার রেকর্ডও তাদের রয়েছে। সময়ের মূল্য উত্তরণ সবসময়ই দিয়ে থাকে যে জাপানিরা খুবই প্রশংসা করে থাকে।

উত্তরণ বরাবরই কিছু না কিছু চমক দিয়ে থাকে প্রতি আয়োজনেই। এবারও ছিল, জাপানিদের বোঝার সুবিধার্থে হলের এক পাশে বড় স্ক্রিনে প্রতিটি বিষয়ে বিশদ বর্ণনা দেয়া হয়েছে জাপানি ভাষায়। অনেক জাপানিজই তার প্রশংসা করেছে।

রুমি, নাজমুল, নাজিম, তুলি গোমেজ, বাচ্চু, জাফরিন, ববিতা, লীনা গোমেজ, মিথুন, রতন, খেরম গোমেজ, জলি, ছুটি, মামুন, শরাফুলদের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নবাগত তুকিনা এবং শিশুশিল্পী রাশা, শ্রেয়া ও রুহী দত্ত খুব ভালো পারফরমেন্স করে দর্শকদের মন জয় করতে পেরেছে।

খেরম গোমেজের রচনা ও পরিচালনায় আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া বিষয়ভিত্তিক নাটিকা ‘হালচাল’ দর্শকদের প্রচুর আনন্দ দিতে পেরেছে। নাটিকাটিতে আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিষয়াদি স্থান পায়। লোভ-লালসা, ভোগ-বিলাস, কাম-অপরাধ, পরস্ত্রীতে লোভ, আড়তদারিতে ভেজাল, আদম বেপারির চালবাজি, এমন কি স্কুল মাস্টারের দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো মাত্র ২০ মিনিটের নাটিকাটিতে নাট্যকার খেরম গোমেজ সুনিপুণভাবে তুলে ধরে দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষণীয় ম্যাসেজও রেখেছেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাপ্পা দত্তের সম্পাদনায় একটি চমৎকার ব্রুশিয়ার বের করা হয়। তাতে প্রবাসী দর্শকদের প্রতি কিছু প্রয়োজনীয় অপ্রিয় সত্য আবেদন জানানো হয়।

rahmanmoni@gmail.com

[ad#bottom]