সংঘর্ষ ও আধিপত্যের জনপদ মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলার চরাঞ্চল মোল্লাকান্দি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলছে গুলি, বোমাবাজি, হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা। ভয়াবহ সংঘর্ষের আশঙ্কায় ও পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে কংসপুরা, চরডুমুরিয়া, আমঘাটা, শ্যামারচর, নয়াকান্দি ও রাজারচরসহ অনেক গ্রামই অধিকাংশ সময় পুরুষশূন্য থাকে।

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা সংঘটিত এ সকল ঘটনা নিয়ে থানায় মামলাও হচ্ছে নিয়মিত। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ই নভেম্বর রাত থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত। সে সময় সুরুজ মিয়া নামের একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় ২০ জন। ব্যাপক বোমাবাজি, অস্ত্র মহড়া, সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহ আলম মল্লিক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা মোল্লাকে আসামি করে উভয় গ্রুপের ২৫০ জনের বিরুদ্ধে এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। উভয় পক্ষের লোকজন ও আশপাশ গ্রামগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে জেলায় গত দু’মাসে স্কুল ছাত্র, গৃহবধূ, প্রবাসী ব্যবসায়ীসহ খুন হয়েছে ১৫ জন। এছাড়াও মাদক ব্যবসা, একাধিক চুরি, ডাকাতি, নির্যাতন, প্রতারণা ও অপহরণের ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মামলা হলেও পুলিশের জোরালো ভূমিকা না থাকার কারণে এ কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

সূত্র মতে, শহরের বাসস্ট্যান্ডে প্রকশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় এক প্রবাসী ব্যবসায়ীকে। এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও রূপগঞ্জ থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে দুই পেশাদার কিলারকে। সদরের বাঘাইকান্দি গ্রামে রানা মিজি নামের এক যুবক খুন হয়েছে। টাকার জন্য বন্ধুরা তাকে হাত পা বেঁধে হত্যার পর গুম করার জন্য লাশ ধান ক্ষেতে লুকিয়ে রাখে। নিহতের দুই বন্ধু স্মরণ ও আওলাদকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ১৫ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনের কারণে ফুলতলা গ্রামের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র তৌকির বেপারীকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গোবরের গর্তে পুঁতে গুম করে রাখে। স্কুল ছাত্রের মা ঝর্না বেগম বাদী হয়ে মামলা করার পর গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক রবিউলকে।

১৮ই সেপ্টেম্বর পঞ্চসার শ্মশানঘাট এলাকায় ওমর ফারুক নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ২৫শে সেপ্টেম্বর টঙ্গিবাড়ীতে তানিন আহমেদ নামে এক কলেজ ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্য হয়েছে। পরদিন একই উপজেলার ধামারন গ্রামের আলদী সড়ক সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ক্যাবল তার গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। সিরাজদিখানের চিত্রকোট ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামে রাজিব নামের এক যুবককে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। একই উপজেলার গোয়ালখালী গ্রামে ডাকাতের গুলিতে তানভির আহমেদ টুটুল নামের এক যুবক নিহত হয়। সদরের ফিরিঙ্গী বাজার এলাকার মামুন মিয়া নামের এক মিল শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বুরন্ডা গ্রামে দেড় মাসের পুত্রকে পুকুরের পানিতে ছুঁড়ে ফেরে হত্যা করেছে তার মা পুতুল বেগম। গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর খেয়াঘাট থেকে সুপ্তি নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। মুক্তাপুরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। সিরাজদিখানের ৯টি বসতবাড়িতে ও গজারিয়ার বাউশিয়াস্থ ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের কোয়াটারে পৃথকভাবে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতের গুলিতে হিমেল ও হৃদয় নামের দুই মাদ্রাসা ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয় এবং গৃহকর্মীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। গজারিয়ার জামালদিতে একটি কোম্পানির গোডাউনে পাহারারত আনসারের উপর হামলা করে তাদের কুপিয়ে লুট করা হয় দুটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল। এছাড়া এক মাসের ব্যবধানে মুন্সীগঞ্জে যৌতুকের বলি হয়েছে জুলি, আসমা বেগম, সাহিদা বেগম ও দীপা আক্তার।

[ad#bottom]