খিরা ক্ষেতে মড়ক

রাসেল মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ থেকে: মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমের শুরুতেই খিরা চাষিরা পড়েছেন লোকসানের মুখে। অজ্ঞাত রোগের কারণে পাতা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে গাছ। একই জমিতে প্রথম দফায় কৃষকরা খিরার আবাদ করলেও ঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে আবাদকৃত পুরো জমির ফসল। দ্বিতীয় দফায় আবাদকৃত জমিতে এ রোগের কারণে হতাশ হয়ে পরেছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ, মোল্লারচর, ইসলামপুর এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে বহু আগে থেকেই কৃষকরা ব্যপক খিরা আবাদ করে থাকেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের ক্ষিরা চাষে নেমে এসেছে বিপর্যয়। দুই দফায় আবাদ করেও কৃষকরা কোন সুফল পাচ্ছে না। গাছ বড় হতে না হতেই পাতা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে গাছ। কোন কোন জমিতে ফলনসহ মরে গেছে ক্ষেতের বেশির ভাগ ফসল। জমির এ পরিস্থিতিতে অধিক পরিমাণে ওষুধ ব্যবহার করেও কোন সুফল পাচ্ছে না কৃষকরা। এ কারণে আগেভাগেই অপরিপক্ব খিরা তুলে ফেলছেন অনেকে। অন্যান্য বছর জমিতে খিরা চাষ করে কৃষকরা অনেক লাভবান হলেও চলতি মৌসুমের শুরুতেই এই বিপর্যের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন খিরা চাষিরা।

এখানকার খিরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হয়। চর কিশোরগঞ্জ এলাকার কৃষক শাহ আলম মিয়া জানান, তার এক হেক্টর জমিতে খিরা আবাদ করতে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ফলন বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা ঘরে উঠাতে পারবে না বলে মনে করছেন তিনি। কারণ, ফলন শুরু হতে না হতেই পাতা লাল হয়ে জমির বেশির ভাগ গাছ মরে যাচ্ছে। মোল্লারচর এলাকার কৃষক সিরাজুল হক বলেন, প্রথম দফায় অকাল বন্যায় ভেসে যাওয়া খিরা ক্ষেতের লোকসান কাটিয়ে ওঠা তো দূরের কথা, জমিতে দ্বিতীয় দফায় আবাদকৃত জমির ফলন থেকে খরচ পরিমাণ টাকা উঠে আসবে না। একই এলাকার সবুজ মিয়া জানান, তার জমিতে গাছ মরে যাওয়ার পাশাপাশি পোকার আক্রমণেও জমি ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ভেজাল ও পুরাতন বীজ রোপণের কারণেই মরে যাচ্ছে আবাদকৃত জমির গাছ।

[ad#bottom]