অভাবের তাড়নায় ১০ দিনের শিশু বিক্রি

লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ১০ দিন বয়সের শিশু বিক্রি হয়েছে !
শিশুর মা আকলিমা বেগম (৩০)। রংপুরের আদিত্যমারী গ্রামের বাসিন্দা। সংসার কি জিনিস তা বোঝার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় পাশর্ববর্তী মৌমাছির গ্রামের আজমতের সঙ্গে। এরপর ২ সনত্মানের জন্ম দেন আকলিমা বেগম। কিন্তু অভাব তার পিছু ছাড়েনি। কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দুটি সনত্মান নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালায় আকলিমা ও আজমত। কষ্টের কারণে মার্চ মাসে বড় ছেলেকে গ্রামের বাড়িতে মায়ের কাছে রেখে তারা ছোট ছেলেকে নিয়ে লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিছুদিন যেতেই আবার ও সনত্মানসম্ভবা হয়ে পড়ে আকলিমা। সে লৌহজংয়ে বেজগাঁও গ্রামের দুই তিনটি বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে আর স্বামী আজমত রিঙ্া চালায়। এমনিভাবে দুমুঠো খেয়ে পরে চলছে সংসার এরই মধ্যে স্ত্রী পুত্রকে রেখে আজমত পালিয়ে যায় ৬ মাস ধরে। আবার ও আকলিমার জীবনে শুরম্ন হয় অনাহারের যুদ্ধ। গত ১০ দিন আগে আকলিমার কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে কন্যা সনত্মান। অভাবের সংসারের এ জেন এক বাড়তি ঝামেলা দরিদ্রতার কষাঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে আকলিমা। এরই মধ্যে নতুন জন্ম নেয়া শিশুটিকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে বলে এলাকায় কানা ঘুষা চলে। অসুস্থ আকলিমা লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ কমপেস্নঙ্ েগত ৪ দিন ধরে ভর্তি রয়েছে। তবে সঙ্গে তার শিশু কন্যাটি দেখা যায়নি। অনেকের সন্দেহ শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। বিষয়টি কতর্ব্যরত নার্স উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. মালেক ও আর এম ও সামছুল হককে জানালে তাঁরা ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।

হাসপাতালে কথা হয় আকলিমার সঙ্গে। তিনি জানান, শিশুটির কষ্ট হবে বলেই শিশুটিকে বিক্রি নয় পালক দেয়া হয়েছে। তবে পালক নেয়া পরিবারটি তার চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা দান করেছে। সাংবাদিকদের আগমনের কথা টের পেয়ে শিশুটিকে আবার ফিরিয়ে হাসপাতালে আনা হয়। পরে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিশুকন্যাটিকে এই মায়ের সঙ্গে দেখা যায়নি বলে ডা.আ. মালেক জানিয়েছেন।

[ad#bottom]