ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মুন্সীগঞ্জের ধান-চাল ব্যবসায়ীরা

শেখ মো:রতন, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম বন্দর অতি সুপরিচিত। একে কেন্দ্র করে ধলেশ্বরী নদীবর্তী রিকাবিবাজার, বিনোদপুর, ফিরিঙ্গিবাজরের বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধান-চালের বাণিজ্য কেন্দ্র। তবে আগের মত আর রমরমা অবস্থা না থাকলেও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এখানকার চাল ব্যবসায়িরা।

জানা গেছে, এ অঞ্চলে ধান-চালের বাণিজ্যের বয়স প্রায় ৫০বছর। প্রতিদিন ১০ (দশ) হাজার বস্তা চাল উৎপাদন করা হয়। প্রতিদিন কমপে ৮-৯ হাজার বস্তা চাল বিক্রি হয় নিজ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এ অঞ্চলে ৩০০টি রাইস মিল বা চালের কল রয়েছে। চালের আড়ৎ বা মোকাম রয়েছে ২০০টি। নদীপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ধান জাহাজ, লঞ্চ, বড় বড় নৌকা করে মিরকাদিম বন্দরে ভিড়ে। প্রায় তিন হাজার শ্রমিক এই রাইসমিলে কাজ করছে। সিংহ ভাগ শ্রমিকই নারী। মূলত দিন মজুর হিসেবে কাজ করে তারা। স্থায়ী চাকুরি নয়। দিনাজপুর, রাজশাহী, রংপুর বগুড়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, ময়মনংিহ, যশোহর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা, গলাচিপা থেকে ধান কিনে আনা হয় এখানে। তারপর ধান বয়েলারে সেদ্ধ করার পর শুকিয়ে ধানা ছাটা হয়। চাল ব্যাতীত ধান থেকে উৎপাদিত তুষ ব্যবহৃত হয় জালানী কাজে এবং কুড়া গৃহপালিত পশু-পাখির খাদ্য হিসেবে লাগে। উত্তর বঙ্গ থেকে আসে চিকন চালের ধান। অপরদিকে দণি বঙ্গের ধান মোটা চালের। বালাম ও বাসমতি চালের ধান এখন আর পাওয়া যায় না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কর্ণফুলী ও সজীব রাইস মিল এন্ড এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান জানান, আমি ২৯ বছর ধরে এ অঞ্চলে ধান-চালের ব্যাবসা করি। আগের মত এতটা জমজমাট এখানে নেই। দেশের বিভিন্ন জেলায় রাইসমিল ও চালের মোকাম গড়ে ওঠেছে। প্রতিযোগিতার বাজারে এখন ব্যাবসা করা খুবই কঠিন। নগদ টাকায় ধান কিনে বাকিতে বিক্রি করতে হচ্ছে বাজার ধরে রাখার জন্য। ফলে প্রচুর টাকা আটকে যাচ্ছে। লাভ সুবিধার হচ্ছে না। রিকাবিবাজার-পঞ্চসার শিল্প বণিক সমিতি’র কোষাধ্য ইব্রাহিম মাদবর জানান, দিনাজপুর ও বগুড়ার চেয়ে আমাদের এখানে চাল উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। কারণ ওসব অঞ্চল থেকেই আমাদের ধান কিনে এনে চাল করতে হয়। মুন্সীগঞ্জ উল্লেখযোগ্য ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল নয়। তবু এ অঞ্চলে ধান-চালের ব্যবসায় ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

এপিপি

[ad#bottom]

One Response

Write a Comment»
  1. Amar Album Amader Munshigonj theke photo… Use korar JOnnno …. I Feel Proud… 🙂