মাওয়ায় মানুষের ঢল

ধলেশ্বরী ব্রীজের টোল প্লাজায় অব্যবস্থাপনার করণে দীর্ঘ যানজট ॥ যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
চার দিনে কর্মস্থল ও ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রী সাধারণের ঢল ছিল লৌহজংয়ের মাওয়া ঘাটে। কর্তৃপক্ষের সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে মাওয়ায় যানজট না থাকলেও ঈদে ঘরমুখো মানুষকে ধলেশ্বরী সেতুর টোল প্লাজার অব্যবস্থাপনার কারণে চরম দুর্ভোগ পাহাতে হয়েছে।মাওয়া ঘাটের সব ধরণের পরিবহনের ভাড়া ছিল আকাশ চুম্বী। এসকল দেখার জন্য প্রশাসন ছিল নীরব।

শুক্রবার মাওয়া ঘাটের বাস স্ট্যান্ডগুলোতে কর্মস্থল রাজধানী ঢাকায় ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা কম থাকায় বাসগুলোতে ভাড়াও নেয়া হয়েছে দ্বিগুনের বেশী। বাসের জন্য দাড়িয়ে থেকে মহিলা ও শিশু যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এর পূর্বে ঈদের আগের দিন মাওয়ায় ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নামে। লোকাল বাসগুলো যাত্রীদের চৌরাস্তায় নামিয়ে দিলে এখান থেকে প্রায় দুই কি.মি. পায়ে হেটে মাওয়া ঘাটে গিয়ে যাত্রীরা লঞ্চ , সিবোর্ট , ট্রলার ও ফেরিতে করে পদ্মা নদী পার হয়ে ওপার থেকে বিভিন্ন পরিবহনে করে গন্তব্যে পৌছে। তবে ওই দিন ঢাকা থেকে মাওয়ার বাস ভাড়া যাত্রীদের নিকট থেকে আদায় করা হয়েছে আশি থেকে এক শত বিশ টাকা। মাওয়া ঘাটে ৩ টাকার টোল আদায় করা হয়েছে ১০ টাকা, মাওয়া-কাওড়াকান্দির সিবোট ভাড়া ১ শ’ ১০ টাকার স্থলে আদায় করা হয়েছে ২শত টাকা, ৩০ টাকা ট্রলার ভাড়া নেয়া হয়েছে ৫০/৬০ টাকা আর লঞ্চ ভাড়া আদায় করা হয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বরিশালের যাত্রী ইকবাল হোসেন জানান, গত ১০ বছর যাবৎ তিনি ঈদের আগের দিন এপথে বাড়ি যাচ্ছেন কিন্তু এবারের মত এরকম অতিরিক্ত ভাড়া আদায় আর কখনও দেখেননি। একই কথা বললেন শরিয়তপুরের এমারত হোসেন।
ঈদে মাওয়ায় মানুষের ঢল

ঈদের আগের দিন মাওয়া ১ নং ফেরি ঘাটে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী মোঃ আসাদুজ্জামান কবীরের সাথে দেখা হলে মাওয়া ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়সহ দ্বিগুনের বেশি ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে তার প্রশাসনের ভূমিকা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। একই ঘাটে মাওয়া নৌ বন্দর কর্মকর্তা বাবু লাল বৈদ্দর সাথে দেখা হলে লঞ্চ সিবোর্ট, খেয়া ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের ব্যাপারে তাকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। পুলিশ সুপার মোঃ সফিকুর রহমানকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন মনে হয় একটু বেশিই আদায় করা হচ্ছে দেখি কি করা যায়।

ঈদের দিন ও তার পরের দিনও মাওয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের উচপে পড়া ভিড় ছিল । তবে শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল মাওয়া ঘাটে।

ধলেশ্বরী টোল প্লাজার অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী-২ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা ধলেশ্বরী-১ নং ব্রীজের অব্যবস্থাপনার কারণে ঈদের পূর্বেও দিন হতে এখানে যাত্রী সাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মাওয়া ঘাটে কোন প্রকার যানজট না থাকলেও টোল প্লাজার অব্যবস্থাপনার কারনে। ঈদের আগের দিন এখানে উভয় দিকে ১০ কি.মি. যানজটের সৃষ্টি হয় । এক সময় যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে ব্রীজের দুই প্রান্ত। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ ১০ কি.মি. যান জট। টোল প্লাজা হতে মহাসড়কের মাঝে কোন প্রকার রোড ডিভাইডার না দেয়ায় ও পর্যাপ্ত সংখ্যক টোল আদায় কারী না থাকায় এখানকার গাড়ী চালকরা কে কার আগে যাবেন এ প্রতিযোগিতার একে অপরকে ওভারর্টেকিং করতে থাকরে মুখোমুখো গাড়িতে মহাসড়ক আটকে যায়। কোন প্রকার গাড়ী সামন দিকে চলতে না পাড়ায় এ যানজট দীর্ঘতম হয়ে পড়ে। ফলে এখানে যাত্রীদেন গত বছরের ন্যায় এবারও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

[ad#bottom]