চাঁদাবাজি বোমা বিস্ফোরন হামলার হত ১

মুন্সিগঞ্জে চামড়া ব্যবসা জিম্মি ছিল সিন্ডিকেটের হাতে
মুন্সিগঞ্জে খুন, চাদাঁবাজি, বোমা বিস্ফোরন ও ভয়ভীতির মাধ্যমে কোরবানীর চামড়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেছে কয়েকটি সিন্ডিকেট চক্র। এতে চামড়ার মালিক ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে গরিব এতিম ও অসহায় মানুষরা। ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়ার মালিক ও গরীব মানুষের মাঝে দেখা গেছে চাপা ক্ষোভ। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে অপ্রিতিকর ঘটনা। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার গ্রামে গরুর চামড়া ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসীদের হাতে আওয়ামী লীগ কর্মী খোকা মোল্লা (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ সময় খিজির আহম্মদ (৪০) নামের আরো ১ ব্যাক্তি আহত হয় । গ্রামের সর্বত্র আতংক ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে সকাল সাড়ে ১০ টায় কোরবানী হওয়া গরুর চামড়া কিনতে আসে একই এলাকার আহসানুলাহ দিদার সহ ১০/১২ জনের একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ। চামড়ার মালিক খিজির আহম্মদ চামড়া এতিমদের দিবে বলে জানালে তারা জোর পূর্বক চামড়া লুট পাটের চেষ্টা করে এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের উপর এলো পাথারী হামলা চালিয়ে খিজির আহম্মদকে আহত করে এসময় তাকে বাচাতে তার সমন্ধি খোকা মোল্লা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকেও মারধর করে। স্থানীয লোকজন আহতদের সদর হাসপাতার নিয়ে আসলে ডাক্তার খোকা মোলল্লাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে তবে পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। সুয়াপারা এলাকায় সিন্ডিকেটের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ঢাকা থেকে আগত চামড়া ব্যবসায়ী সুলভ দাসকে মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মহাকালী ইউনিয়নের কেওয়ার গ্রামে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাইফুল ইসলামকে বাধ্য করা হয় সিন্ডিকেট চক্রের কাছে চামড়া বিক্রি করতে।

চামড়া ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নিহত খোকা মোল্লা

একই পন্থায় জেলার টঙ্গীবাড়ি, লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, গজারিয়া উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে পাড়া মহল্লায় সক্রিয় ছিল সিন্ডেকেট চক্র। প্রায় প্রতি এলাকায় বিভিন্ন পাইকারদের হাত করে এলাকায় ৪০/৫০ জন যুবকের সমন্বয়ে একেকটি সিন্ডিকেট চক্র গড়ে তোলা হয়। সরকার ঢাকার বাহিরে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা নির্ধারন করলেও এ চক্রটি জোরপূর্বক চামড়া নিয়ে তাদের ইচ্ছেমত দাম দিয়েছে। ফলে এ বছর জেলায় চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ে। রামপাল এলাকার আজিজুল হক জানান কমদামে সে চামড়া বিক্রি করতে চায়নি তাই তার গরুর চামড়া কিনতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভীরতে দেওয়া হয়নি কোন পাইকারকে বাধ্য হয়ে সে শেষ বিকালে এসে ঐ চক্রের কছেই কম দামে চমড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকা সহ অন্যান্য স্থান থেকে আগত পাইকারদের কাছ থেকেও আদায় করা হয়েছে মোটা অংকের চাঁদা। ক্ষমতাশালী কিছু ব্যাক্তির সমন্বয়ে এই সিন্ডিকেট চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিন হাজার টাকা মূল্যের চামড়া এক হাজার টাকায় বিক্রির ঘটনাও ঘটে। জেলা শহর মুন্সিগঞ্জের মানিকপুরের মানিক মিয়ার ৬০ হাজার টাকার কোরবানীর গরুর চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করা হয় ১ হাজার টাকায়। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাহেরপাড়া গ্রামে কাজল লাকুরিয়ার কেনা একই দামের চামড়া বিক্রি হয় ২ হাজার টাকায়। কাজল লাকুরিয়া জানান, তার চামড়াটি আরেক ক্রেতা আড়াই হাজার টাকা দর হয়। এই ৫শ’ টাকা লাভ দিয়েই চামড়াটি এই ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে চাইলেও ইউসুফ ও সোলেমান মিয়া সিন্ডিকেট ঐ ক্রেতাকে শাসায় এবং ২ হাজার টাকায় চামড়া কিনে নেয়। গরু কোরবানী করেছেন শহরের মালপাড়া ও আশপাশের এমন কয়েকজন অভিযোগ করেছেন ফায়সাল দেলু নামের এক যুবক সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে কমদামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করে এবং ফায়দা লুটে নেয়।

এসব ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডটি ঘটেছে চামড়া নিয়েই। তবে এটি হার্টএ্যাটেকেও হতে পারে। চামড়া সিন্ডিকেট ও অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।

[ad#bottom]