খালেদার আইনজীবীরা কেন চুপ ছিলেন, প্রশ্ন আটর্নি জেনারেলের

আপিল বিভাগে শুনানিতে হাইকোর্টের রায় স্থগিতের জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদন পরিচালনা না করাটা উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, স্থগিতাদেশ না থাকায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে সরকারের কোনো বাধা ছিলো না।

আপিল বিভাগে পক্ষে আদেশ পেলে বিএনপি চেয়ারপারসন ঢাকা সেনানিবাসের বাড়িটি ফিরে পাবেন বলে জানিয়েছেন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।

শনিবার সেনানিবাসের মইনুল সড়কের বাড়ি ছাড়তে হয় বিরোধীদলীয় নেতাকে। খালেদার অভিযোগ, তাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করা হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনী বলছে, আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন খালেদা।

ইজারা বাতিলের পর খালেদাকে ওই বাড়ি ছাড়তে এ বছরের এপ্রিল ও মে মাসে তিন দফা নোটিস দেয় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে খালেদা রিট আবেদন করলে তা খারিজ করে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়।

সে সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার বাড়ি খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেই আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন খালেদা, আপিল বিভাগে এর শুনানি ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল রোববার তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ১০ নভেম্বর আপিল আবেদনের শুনানিতে খালেদার কৌঁসুলিরা হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন পরিচালনা করেনি।

“সেদিন খালেদার আইনজীবীরা শুনানি মুলতবির প্রার্থনা করলে আমি তার বিরোধিতা করিনি। রায় স্থগিতের বিরোধিতা করেছিলাম আমি। তখন আদালত বলেন, ‘তারা তো রায় স্থগিতের আবেদন করছেন না’। তারপরও তারা (খালেদার কৌঁসুলিরা) চুপ করে থাকলেন। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”, বলেন তিনি।

“রায় স্থগিতের আবেদন করা হয়নি কেন- খালেদা জিয়া, আপনি কি আপনার আইনজীবীদের জিজ্ঞাসা করবেন”, যোগ করেন মাহবুবে আলম।

আপিল আবেদনের শুনানি চলার সময় পূর্ববর্তী রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যায় বলে খালেদার কৌঁসুলিরা যে কথা বলে আসছেন, তা ঠিক নয় বলে দাবি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, “আপিল করলেই রায়ের কার্যকারিতা অটোমেটিক্যালি (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) স্থগিত হবে, এমন কথা ভুল। কেবল মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে এটা হয়। অন্য ক্ষেত্রে আদালতে আবেদন জানাতে হয়। এর শুনানি করতে হয়।”

আবেদনটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সে জন্য উদ্যোগ নিতে বিরোধীদলীয় নেতার কৌঁসুলিদের প্রতি আহ্বান জানান সরকারের আইন কর্মকর্তা।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তাকে না জানিয়ে শনিবার প্রধান বিচারপতির কাছে খালেদার কৌঁসুলিদের যাওয়াও প্রথাসম্মত হয়নি।

তিনি বলেন, “মামলার অন্য পক্ষ হলেও আমাকে অন্ধকারে রেখে তারা প্রধান বিচারপতির কাছে গেছেন। এটা প্রথা ও নীতিবিরোধী। আর প্রধান বিচারপতির নাম উল্লেখ করে তারা যে বক্তব্য দিয়েছে, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।”

শনিবার বাড়ি খালি করার উদ্যোগ শুরু হলে খালেদার চার কৌঁসুলি রফিক-উল হক, খোন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমেদ ও বদরুদ্দোজা বাদল প্রধান বিচারপতির বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তারা বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার পর তাদের বিশ্বাস জন্মেছে, ২৯ নভেম্বরের মধ্যে খালেদার বাড়ি খালি করা হবে না।

খালেদার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক হয়েছে কি না- জানতে চাওয়া হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “খালেদার আইনজীবীরাই রায় স্থগিতের আবেদন পরিচালনা করেননি। এরপর সরকারের আর কী করার আছে?”

“এ মামলার শুনানি নিয়ে দুটি বেঞ্চে তারা নৈরাজ্য করেছেন। তারপর দীর্ঘ শুনানি হয়েছে। ১৬৫ কাঠার জমির দখল নিয়ে তিনি বসে থাকবেন, যেখানে তার ৩১ কাঠার আরেকটি বাড়ি রয়েছে। অন্যদিকে দেশে নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষ থাকার জায়গা পায় না”, বলেন মাহবুবে আলম।

[ad#bottom]