‘অ্যাটর্নি জেনারেলই ষড়যন্ত্রের সূচনাকারী’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি থেকে ‘উৎখাতের ষড়যন্ত্র’র সূচনাকারী হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। হরতালের সমর্থনে আইনজীবীদের মিছিলে হামলার প্রতিবাদে সোমবার সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাকও দিয়েছে তারা। সোমবার দুপুর ১টা থেকে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হবে।

খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি থেকে ‘উৎখাতের’ প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা হরতাল চালাকালে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মিয়া এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ওদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সরকার সমর্থক অংশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খালেদার বাড়ি ইস্যুতে জনগণ হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে।

সমিতির সহ-সম্পাদক মোশফাকুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করা হয়েছে। জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্বে রোববার বেলা ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি আদালত এলাকায় প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে কদম ফোয়ারা হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে যায়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পুলিশ তাদের উঠিয়ে দেয়। এরপর তারা মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দিকে যায়। মিছিলটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কদম ফোয়ারা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান প্রয়োগ করে। এ সময় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এরপর কয়েকজন আইনজীবী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উল্টা পাশে সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় একজন মন্ত্রীর গাড়ি পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, “অবরোধকারীরা মন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ করে ধর ধর বলে চিৎকার করার পর পুলিশ তাদেরকে লাঠিপেটা করে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তারা রমনা থানার ওসিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।”

সেখান থেকে ফিরে প্রেস ব্রিফিংয়ে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, “খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে আইএসপিআর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।”

এ সময় তিনি হিউম্যান রাইটস কমিশনের কাছে জলকামানের জলে কী কী উপাদান আছে তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব খন্দকার মাহাবুবউদ্দিন খোকন বলেন, “খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেতে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে। আর এই ষড়যন্ত্রের সূচনা করেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল।

“তিনি ১১ নভেম্বর বক্তব্যে বলেছেন, বাড়ি না ছাড়লে খালেদা জিয়া আদালত অবমাননা করবেন। এই বক্তব্য ছিলো অসত্য।”

হাইকোর্টের রায়ে খালেদাকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশনা ছিলো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের পর খালেদা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়ছেন বলে বক্তব্য দেয় আইএসপিআর। অ্যাটর্নি জেনারেল আর আইএসপিআর এর বক্তব্যে যোগসূত্র আছে। আর এই ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।”

এই ষড়যন্ত্রের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে জাতির কাছে জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মাহাবুবউদ্দিন খোকন।

তিনি আরো বলেন, “অতি উৎসাহী কিছু সরকারি কর্মচারী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকও এই ষড়যন্ত্রের জড়িত। বাংলার মাটিতে এই ষড়যন্ত্রের বিচার হবেই।”

[ad#bottom]