শেখ হাসিনা বি চৌধুরী দীপু মনি রুহুল হক আসাদুজ্জামান নূর সারা যাকের ও মেহরীনের চোখে পৃথিবী দেখবে দৃষ্টিহীনরা

দুলাল হোসেন মৃধা: দৃষ্টিহীনদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকারের তালিকায় আরো আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, অভিনেতা আসাদুজ্জামান নুর এমপি, অভিনেত্রী সারা জাকের, গায়িকা মেহরীন ও কৃষ্ণকলি। শুধু ভিভিআইপি কিংবা ভিআইপিই নয়, তাদের মতো স্বেচ্ছায় মরণোত্তর চক্ষুদানের জন্য সন্ধানীর সঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর ৩৫ হাজার ৫৭৯ ব্যক্তি। মরণোত্তর চক্ষুদানকারীদের মৃত্যুর পর তাদের দেয়া চোখের আলোতে পৃথিবী দেখবে দৃষ্টিহীনরা।

সন্ধানী সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে ২৫ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার ডা. হাডসন সিলভা সে দেশ থেকে আনা একটি কর্নিয়া দান করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। শ্রীলঙ্কা থেকে আনা কর্নিয়াটি রংপুরের দৃষ্টিহীন কিশোরী টুনটুনির চোখে প্রথম প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সন্ধানী তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ বিষয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সন্ধানী ৩৫ হাজার ৫৭৯ জন চক্ষুদানকারীর সঙ্গে যুক্ত হন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৫টি কর্নিয়া সংগ্রহের পর ৩ হাজার ১৩১ জনের চোখে সংযোজন করা হয়েছে। ’৭৭ সালের নভেম্বর মাসে দৈনিক আজকের কাগজের সম্পাদক কাজী শাহেদ আহমেদের শ্বশুর ড. এনামুল হকের একটি কর্নিয়া নিয়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রা সম্পাদক প্রয়াত শাহাদত চৌধুরীর চোখে প্রতিস্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন তিনি ওই কর্নিয়ার সাহায্যে দৃষ্টিশক্তি নিয়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও সাপ্তাহিক ২০০০-এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

সন্ধানীর কর্মকর্তারা বলেছেন, মরণোত্তর চক্ষুদানকারী কেউ মারা গেলে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে তার চোখের কর্নিয়া সংগ্রহ করে সন্ধানীর মেডিক্যাল টিম। সংগৃহীত কর্নিয়ার এইচআইভি, এইচবিএসএজি, ভিডিআরএল ও টিসু পরীক্ষার পর ওই কর্নিয়া একজন দৃষ্টিহীনের চোখে প্রতিস্থাপন করা হয়। সন্ধানী সারাদেশে ২০০ কেন্দ্রের মাধ্যমে চক্ষুদানের অঙ্গীকারপত্র বিতরণ, ১৬টি কেন্দ্রে কর্নিয়া সংগ্রহ এবং ১১টি কেন্দ্রে কর্নিয়া সংযোজন করে থাকে। তবে বেওয়ারিশ লাশ থেকেই বেশি কর্নিয়া সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সন্ধানী চক্ষুদান সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ডা. আরিফ সালাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার ও সন্ধানী চক্ষু হাসপাতাল করার জন্য নীলক্ষেতে ৫ শতাংশ জমি দিয়েছেন। দেশে প্রায় ১৪ লাখ দৃষ্টিহীন রয়েছে। কর্নিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সন্ধানী ৯০ ভাগ সফল হচ্ছে বলে তিনি জানান।

[ad#bottom]