ভিলেজ পলেটিক্স ॥ অশান্ত শ্রীনগরের সমসাবাদ গ্রাম

দেশের বিভিন্নস্থানে মামলার হয়ে এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতিতে পড়েছে শ্রীনগর উপজেলার সমসাবাদ গ্রামের কয়েকটি পরিবার। ভিলেজ পলেটিক্সে শিকার পরিবারগুলো নানা মামলার আসামী হয়ে এখন দিশেহারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেছেন। সোমবার মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে এক ভূক্তভোগী সিঙ্গাপুর প্রবাসী মতিউর রহমান মতি (৩৮) জানান, তিনি এই মামলার কারণে এখন আর সিঙ্গাপুরে যেতে পারছেন না। মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও ফরিদপুর ও ঢাকায় তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দায়ের করেছে একই পরিবারের লোকজন। এছাড়াও বাবন্দরবনে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। অপর পক্ষ কামাল পারভেজ শেখ বলেছে তাদের বিরুদ্ধেও ৭/৮ টি মামলা হয়েছে।

একই গ্রামের মোড়ল আব্দুল রাজ্জাক শেখ ও কাসেম মৃধার মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব করছে। ৭টি মামলার মধ্যে মামলাগুলোর বাদী হয়েছেন আব্দুল রাজ্জাক শেখর আপন ভাই কামাল পারভেজ শেখ ও বাদল শেখ, আপন ভাগ্নে ওয়াহেদ খান ববি, নিকট আত্মীয় আতিয়ার রহমান, রুনু আক্তার ও সুজাতা বেগম।

প্রথম মামলাটি হয়েছে শ্রীনগর থানায় ৯শ’ ৫টাকা ও মোবাইল সেট ছিনতাইয়ের। বাদী কামাল পারভেজ শেখে(৩২)। ফরিদপুরের ভাগ্নির ভাসুর আতিয়ার হোসেনকে বাদী প্রতারনা মামলা দায়ের করে। লৌহজং উপজেলার ঘোরাকান্দা ভাগ্নের খালা শ্বাশুরী রুনু আক্তার মুন্সিগঞ্জে করে নারী নির্যাতন মামলা। ভাগ্নে শ্বাশড়ী ঘোগাকান্দার সুজাতা বেগম ৬৫ বছরের মাকে অপহরনের অভিযোগ এনে মামলা করে মুন্সিগঞ্জ কোর্টে। ভাগ্নে ওয়াহেদ খান ববিকে বাদী করে ঢাকার শ্যমপুর থানায় ছিনতাই মামলা করে। লালবাগ থানায় তার ভাই বাদল শেখ বাদী হয়ে হয়ে করে চাঁদাবাজি মামলা। প্রতিটি মামলার ঘটনাই কাল্পনিক ও হাস্যকর দাবী করে মতিউর রহমান মতি । তিনি ছাড়াও কাসেম মৃধা, মনু মৃধা, মোম্মদ আলী ও আজিজ ফকির এই হয়রানির শিকাদর। এব্যাপারে কামাল পারভেজ শেখ বলেন,“ আমরা কেন মতিউর রহমান মতিই আমাদেরকে হয়রানি করছে। আমাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মামলা দায়ের করেছে তারা। এব্যাপারে জনাব মতি বলেন, “আত্ম রক্ষায় আমরা ২টি মামলা করেছি।”। তবে দুপক্ষই বলেছেন, গ্রামের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এভাবে মামলাসহ নানা হয়রানির ঘটনা ঘটে চলছে। যা এই গ্রমটির পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে মারত্মকভাবে। মামলার মোকাবেলা করতে গিয়ে পরিবারগুলো এখন সর্বশান্ত হতে চলেছে। কাজকর্ম বন্ধ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা নিয়েই দৌড়াদৌড়ি চলছে। এই পরিস্থিতে যে কোনসময় এলাকায় বড় ধরনের সহিংসতারও আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী।

[ad#co-1]