দেশের বাইরে ঈদ আনন্দ : জাপান প্রবাসীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান

রাহমান মনি
ঈদ-উত্তর পুনর্মিলনীতে জাপান প্রবাসীরা মেতে উঠেছিল এক বিশাল আয়োজনে। ‘ঈদ আনন্দ’ নামে এই আয়োজনটি প্রতি বছরের মতো এবারো করেছিল ঈদ আনন্দ কমিটি। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানী টোকিওর ওজি হোকুতোপিয়ার বিশাল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী এই আয়োজনটি। ঈদ আনন্দকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। রমজান মাসজুড়েই প্রবাসীদের আলোচনার প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ঈদ আনন্দ। কে অতিথি হয়ে আসছেন, কোন কোন শিল্পী আসবেন ইত্যাদি বিষয়ে কৌতূহলের সীমা ছিল না।

অনুষ্ঠানের দিন ওজি হোকুতোপিয়া হল সকাল থেকেই প্রবাসীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রবাসীদের আনাগোনায় যে লোক কোনোদিন হলটি চেনেননি তারও চিনতে অসুবিধা হয়নি। হল এবং আশপাশ বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

দুপুর দেড়টা থেকে আপ্যায়ন শুরু হয়। চলে একটানা সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। এক বৈঠক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেক বৈঠক শুরু হয়ে যায়। প্রতি বৈঠকে দেড় শ অতিথি অংশ নেন। খাবারের মেন্যুতে ছিল খাসির কাচ্চি বিরিয়ানি, বোরহানি, মিষ্টান্ন এবং কোমল পানীয়। পুরো খাবার সরবরাহের সৌজন্যে ছিলেন এন কে (ঘক) ইন্টারন্যাশনালের অন্যতম পরিচালক এমডি রবিউল ইসলাম রবিন। তিনি জাপান প্রবাসীদের প্রিয় মুখ ঘক ওহঃবৎহধঃরড়হধষ-এর সি.ই.ও এমডি এস ইসলাম নান্নুর অনুজ। কিছুদিন আগে তার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। পুত্রসন্তানের জন্য প্রবাসীদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করার জন্য রবিন ব্যতিক্রম এই আয়োজনটি করেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক জাপানিজসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফ্রিকাসহ অন্যান্য দেশের অতিথিদের সঙ্গে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এবং সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সপরিবারে আপ্যায়নে অংশ নেন। ছয় শতাধিক অতিথিকে আপ্যায়িত করা হয়। আপ্যায়ন শেষ হলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত সবাই গল্প গুজবে মেতে ওঠেন।

সন্ধ্যায় মূল পর্ব অর্থাৎ ঈদ আনন্দেরসাংস্কৃতিক পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ কে এম মজিবুর রহমান ভূঁইয়া। বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা, সংসদ সদস্য ইশিই আকিরা (অশরৎধ ওংযরর) এবং আয়োজকদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ড. জহির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এ কে এম মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রবাসে ঈদ পুনর্মিলনীতে আপনাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত। এত লোক সমাগম দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। আপনারা এখানে বাংলাদেশের রিপ্রেজেন্ট করছেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে জাপানে তুলে ধরছেন। বাংলাদেশকে জাপানে পরিচিত করে তুলছেন। তাই আমি আমার এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। দূতাবাস আপনাদের। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো আয়োজনেই দূতাবাস আপনাদের সহযোগিতা করবে।’

আমন্ত্রিত অতিথি গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দে শরিক হতে পেরে আমি ধন্য। তবে একটু খারাপ লাগছে এই কারণে যে, এত বিশাল হলেও স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় অনেকেই দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। আজকের এই উপস্থিতি দেখে আয়োজকরা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরো বড় হলে এবং ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে করতে হবে। আমার ভালো লাগবে যদি এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছি প্রবাসীদের আমন্ত্রণে অথবা পেশাগত কাজে। প্রবাসে অনেক অনুষ্ঠানই কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু জাপান প্রবাসীদের মতো যে কোনো আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পৃথিবীর আর কোথাও পাইনি। সেই সঙ্গে সেই দেশীয় বন্ধুদের সম্পৃক্ত করা এবং ব্যাপক উপস্থিতি অন্য কোথাও দেখিনি। এখানে সাপ্তাহিক-এর প্রতিনিধি থাকায় প্রায় সব আয়োজনের খবরই সৌভাগ্যক্রমে জানা হয়। প্রবাসের পাতায় জাপানের খবরই বেশি এবং গুরুত্ব সহকারে স্থান পায় বলে আমার বিশ্বাস। সাপ্তাহিক প্রবাসীদের খবর সব সময় গুরুত্বসহকারে স্থান দেয় এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে কথা দিচ্ছি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এমপি ইশিই আকিরা বলেন, ‘জাপান-বাংলাদেশ দুই বন্ধু রাষ্ট্র। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমি কাজ করতে চাই, আমি জাপান-বাংলাদেশের শিশু উন্নয়ন এবং বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করতে চাই। এই অক্টোবর মাসেই জাপান পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে। আমিও সেই দলে থাকব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান খুব শিগগিরই দলের অন্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন।’

বিশিষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ী ড. জহির বলেন, ‘প্রবাসে একে অপরের ভাই। ব্যবসায়ীরা তার বাইরে নন। যে কোনো আয়োজনে ব্যবসায়ীরা সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। জাপানে আমরা সবাই দেশের সুনাম অর্জন করার জন্য কাজ করব। ’

শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে খন্দকার ইসমাইলের উপস্থাপনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত এবং স্থানীয় প্রবাসী শিল্পীরা অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন পপ গায়িকা লেমিছ, কণ্ঠশিল্পী নিতু, নৃত্যশিল্পী পারভীন, ট্রাম্প প্যাডে রিড এবং কিবোর্ডে রিংকু। স্থানীয় প্রবাসী শিল্পীদের মধ্যে উত্তরণের লিডার রতন এবং স্বরলিপির বাবু। এ ছাড়াও ইত্যাদিখ্যাত শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাসের আসার কথা থাকলেও ভিসাজনিত সমস্যার কারণে তিনি আসতে পারেননি।

প্রবাসী ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এস রহমান বাবু এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এমডি এস ইসলাম নান্নু। ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠান আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘সাপ্তাহিক’ এবং জাপান প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত ইলেকট্রনিক মিডিয়া ‘জেটিভি’ জাপান।

যাদের পৃষ্টপোষকতায় অনুষ্ঠান
HAT CO.,LTD
HAKIM MD.NASIRUL
N K INTERNATIONAL
MD S ISLAM NANNU
N.Z.INTERNATIONAL
HABIB MD AHSAN
SADIATEC CO.LTD
MD.SANAUL HAQUE
PADMA HALAL FOOD
BADAL CHAKLADER
SHAPLA INTERNATIONAL CO.,LTD
MD. MOBARAK HOSSAIN
OTHOEI ENTERPRISE
A.N.M.NURUL AMIN
MCI INTERNATIONAL CO.,LTD
YAMAGUCHI CHANDON
CROSS CONTINENT CORPORATION
MD.ZAHIR UDDIN
KOKUSAI LINKS CO.,LTD
HISASHI SHICHIDA
ROARING TRADE
BIPLOB MALLICK
MONI TAGORE
SHARDAR
AWAMI LEAGUE JAPAN
B N P JAPAN
MD JHANU
MD.BADAL
MD.SULTAN

rahmanmoni@gmail.com

[ad#co-1]