‘. . . আমার যত বিত্ত প্রভু আমার যত বাণী’

মীজানূর রহমান শেলী
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে সারাবিশ্ব বহু জটিল সমস্যা ও সংকটে জর্জরিত। সমাজবদ্ধ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো গণমাধ্যমও এই বিশাল ও বহুমাত্রিক সংকটের বাইরে নেই। পুরনো ধাঁচের গণমাধ্যম অর্থাৎ সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশন আজ নয়া গণমাধ্যম অর্থাৎ নতুন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ফসল ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচার ও যোগাযোগ থেকে ব্যাপক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি। অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ, অর্থ-বিত্ত, বিশেষত অবৈধ পথে অর্জিত টাকা এবং বিবেকহীন পেশিশক্তি গণমাধ্যমকে সারাক্ষণই বিপদ ও মুসিবতে আক্রান্ত করে। গণমাধ্যমের এ দুরবস্থা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় আরও প্রকট। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের জগতেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায় না।

দেশের সংবাদপত্র এবং বেসরকারি ইলেক্ট্রনিক সংবাদ মাধ্যমের করুণ ও উদ্বেগজনক অবস্থা মূর্ত হয়ে ওঠে ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায়। একটি বাংলা দৈনিকের উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সভায় তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে গণমাধ্যমের নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কথা জোরালো কণ্ঠে প্রকাশ করেন। কিছুকাল আগে জাতীয় সংসদে আলোচনাকালে বিশিষ্ট কয়েকজন সংসদ সদস্য একশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যমের আচার-আচরণের যে বিরূপ সমালোচনা করেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘গণমাধ্যমই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। এ কারণে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং একে সহায়ক শক্তি মনে করে। কাজেই গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সংসদে কোন সংসদ সদস্য কী বললেন, তা সরকারের অবস্থান নয়।’ তিনি গণমাধ্যমের জগতে অবৈধ সম্পদের হামলা সম্পর্কে বলেন, ‘কালো টাকা এখন সবখানে, গণমাধ্যমও বাইরে নয়। তবে আদর্শ ও নৈতিকতা মেনে সাংবাদিকতা করতে হবে। টাকার কাছে সাংবাদিকদের বিক্রি হলে চলবে না।’ তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা চাপিয়ে দিতে চায় না, সাংবাদিকরা একমত হলেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

তথ্যমন্ত্রীর আশ্বাস গণমাধ্যমের পেশাজীবী কর্মীদের উদ্বেগ ও সংশয় কতটা নিরসন করবে তা ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহই বলে দেবে। কিন্তু বর্তমানে তাদের উদ্বেগ যে অনিশ্চিতি ও অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ’, সে সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ নেই। শুধু সংসদে উত্তপ্ত সমালোচনাই নয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ে সমাসীন অনেকের বিরূপ মন্তব্য ও সাবধান বাণী গণমাধ্যম জগৎকে আলোড়িত করেছে। তাদের অনেকেই গণমাধ্যম কর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ হতে নসিহত করেছেন; দেশের অনেক সংবাদপত্র ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে অতিরঞ্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

এ প্রবণতা নতুন কিছু নয়। অনিশ্চিত গণতন্ত্রের দেশে ক্ষমতাসীন দল ও গোষ্ঠী প্রায়ই এ ধরনের কথা বলেন। সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের এক সাবেক সরকার ও তার সমর্থকরা ধর্মীয় মৌলবাদভিত্তিক সহিংস তৎপরতার সংবাদ অস্বীকার করে জোর গলায় বলেন, ওগুলো সংবাদ মাধ্যমের সৃষ্টি! কিছুকাল পরই অবশ্য দেখা যায়, ওই সরকারই কঠোর হাতে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড দমনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা, বিত্ত ও অর্থের প্রবল প্রতাপ এবং পেশিজীবীদের চাপে গণমাধ্যম যে করুণ পরিস্থিতির শিকার হয়, তা সবারই জানা। এমনটি শুধু আমাদের দেশেই নয়, আশপাশে অন্য দেশেও ঘটে থাকে এবং ঘটে চলেছে। শুধু আশপাশে কেন, আজকের দুনিয়ায় অনেক স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে দেখা যায় একই চিত্র। কোন কোন ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার মতো সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২১ অক্টোবরের গণমাধ্যম সম্পর্কিত আলোচনা সভার বিস্তারিত প্রতিবেদন স্মরণ করিয়ে দেয় কিছুকাল আগের দক্ষিণ এশীয় গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলনের কথা। এটি অনুষ্ঠিত হয় এপ্রিলের শেষাশেষি হিমালয়-কন্যা ভুটানের পারো শহরে। প্রায় একই সময় ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয় ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন।

থিম্পু থেকে প্রায় ৫৪ কিমি. দূরে পারো ভুটানের বিমানবন্দর। তুলনামূলকভাবে ছোট এ শহরটি বিমানযোগে ওই দেশে প্রবেশের পথ বললে অত্যুক্তি হয় না। থিম্পুর সঙ্গে সঙ্গে পারোও আন্তর্জাতিক মর্যাদায় ভূষিত হয়। সার্কভুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েকশ’ অভিজ্ঞ ও নামিদামি সাংবাদিক এখানে সমবেত হন ‘পঞ্চম সার্ক গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলন’ উপলক্ষে। গত পাঁচটি সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সাউথ এশিয়া ফ্রি মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন বা সাফমা সার্কের সহযোগী সংগঠন হিসেবে এ সম্মেলনগুলোর আয়োজন করে। পারো সম্মেলনে সাফমা নেতা ও সাংবাদিক সদস্যরা ছাড়াও যোগ দেন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বেসরকারি মিডিয়া কমিশনের সদস্য এবং সাউথ এশিয়া উইমেন ইন্ মিডিয়া সদস্যরা। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের ১১ সদস্যবিশিষ্ট এক প্রতিনিধি দল যোগ দেয়। এদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের কিছু সদস্য।

পারোতে ২৬ এপ্রিল ২০১০ গণমাধ্যমের এ শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লিওনচেন জিগ্মী ওয়াই থিন্লে। তিনি থিম্পুতে ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনেরও উদ্বোধন করেন।

পঞ্চম সার্ক গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী থিন্লে গণতন্ত্রকে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি জানান উদাত্ত আহ্বান। তার বক্তব্য অনেকাংশেই আজকের বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তিনি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রক্রিয়া সংশোধন করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেও উৎসাহ দেন। তার বক্তব্যের আবেদন ছিল আকর্ষণীয়; ‘আমি বিশ্বাস করি, বিকাশমান গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রাখার অবকাশ আছে। এসব ক্ষেত্রে অশিক্ষিত ও অল্পশিক্ষিত নাগরিকদের গণতন্ত্রের প্রকৃত মূল্যবোধগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করার দায়িত্ব গণমাধ্যমের ওপর বর্তায়। নির্বাচন প্রক্রিয়ার চৌহদ্দির বাইরে যে গণতন্ত্র, তার পূর্ণাঙ্গ প্রকৃতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করা গণমাধ্যমেরই কর্তব্য। কারণ তথ্যজ্ঞানহীন ও সমালোচনামূলক চিন্তা, চেতনা ও দক্ষতাবিহীন জনগোষ্ঠী স্বভাবগতভাবেই অগণতান্ত্রিক। রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক বুঝতে অক্ষম নির্বাচকমণ্ডলী নিয়ে যে গণতন্ত্র কাজ করে, তা সত্যিকারের গণতন্ত্র হতে পারে না।’

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রকে মজবুত ও বলিষ্ঠ করার জন্য গণমাধ্যমকে সরকারে ও শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার প্রক্রিয়ায় শামিল হতে হবে। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আনার বিষয়েও একে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাজনীতি ও ক্ষমতার বিদ্যমান অসম ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটানোর জন্য যে রাজনৈতিক ইচ্ছা ও সাহস প্রয়োজন, তা গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী থিন্লে আরও বলেন, আজকের সাংবাদিকদের অনেক বেশি কিছু জানতে হবে, বুঝতে হবে। তাদের বিজ্ঞান থেকে শুরু করে উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তথ্য ও জ্ঞান আহরণ করতে হবে।

তাদের একাধারে জাগ্রত প্রহরী এবং আলোর দিশারীর ভূমিকা পালন করতে হবে, কল্যাণকর পরিবর্তনের বাহন হিসেবে তাদের মানবতার মুক্তির পথের দিশা নির্ধারণে অংশ নিতে হবে। তিনি যথার্থই বলেন, গণমাধ্যমকে নিছক সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণহীন বিত্ত-বৈভবের অনিত্যতা সম্পর্কে জানান দিতে হবে। কারণ এসবের বল্গাহীন ব্যবহার সৃষ্টি করে নানা বিভ্রাট ও বিপর্যয়, যার মধ্যে অন্যতম ১৯২৯-৩০ এর বিশ্বমন্দা, সাম্প্রতিক অতীতের এশীয় আর্থিক সংকট এবং ২০০৭-০৮ সালের দুনিয়াজোড়া মহামন্দা। আসলে যে উৎকট ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনাচার ও বৈষম্যের মারাÍক প্রসার ঘটায়, তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে রুখে দাঁড়ানোর পরামর্শই প্রধানমন্ত্রী থিন্লে এবং অন্যান্য কল্যাণব্রতী নেতারা দিয়ে থাকেন। গণমাধ্যম মূল্যবোধের বাহক ও প্রচারক হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জনমনকে সচেতন ও সমৃদ্ধ করে। যে মূল্যবোধ ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ ও সুখ আনতে পারে তার রূপ নিরূপণ ও ব্যাপক প্রসারে গণমাধ্যম অবশ্যই বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পাহারাদারকে পাহারা দেবে কে? স্থূল বাণিজ্য-বুদ্ধি, অতি মুনাফালোভী ব্যবসা মনোবৃত্তি গণমাধ্যমের জগৎকেও কলুষিত করে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী থিন্লের ভাষায়, ‘অতিলোভী বাণিজ্যের আগ্রাসন গণমাধ্যমকে নিচের দিকে টানছে। দেশে দেশে সমাজ এখন নির্লজ্জ বস্তুবাদের মোহপাশে বাধা পড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক নেতারা, বিত্তদর্পী ব্যবসায়ী সংস্থার মালিক এবং অদূরদর্শী বিজ্ঞাপনদাতারা সৎ ও পেশাজীবী সাংবাদিকদের কণ্ঠ প্রতিনিয়ত রোধ করে যাচ্ছে। তাদের বদলে মঞ্চ-কেন্দ্র দখল করে নিচ্ছে অযোগ্য, মতলববাজ ও স্বার্থান্ধ সাংবাদিক নামধারী একশ্রেণীর ব্যক্তি। ‘থিন্লে যথার্থই বলেন, ‘আমাদের এ অঞ্চলেও (দক্ষিণ এশিয়ায়) বাণিজ্য-বুদ্ধিতাড়িত বিশ্বায়িত গণমাধ্যম পরিণত হয়েছে নিছক ব্যবসায়ে। এর কাছে জনগণের সুখ ও কল্যাণের কোন মূল্য নেই।’ এ শোচনীয় পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের কাছে তার আকুল আহ্বান, ‘আপনাদের বুঝতে হবে সাধারণ মানুষ কী অনুভব করে, কী চিন্তা করে, তাদের নিত্যদিনের উদ্বেগ কী নিয়ে। তাদের জীবন-জীবিকা, আবাসন, যানবাহন ও সড়ক নিরাপত্তা, বিনোদনের সুযোগ ও অবকাশের চাহিদা সম্পর্কে আপনাদের ওয়াকিবহাল হতে হবে।’ ‘আমাদের এবং আমাদের সন্তান-সন্ততির জন্য প্রিয় আদর্শের সন্ধান আপনাদেরই দিতে হবে। দয়া করে আপনাদের পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করুন, ভোক্তা হিসেবে নয়।’

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর মতো অন্যান্য স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নেতারা গণমাধ্যমের কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলেন, তা অনেকাংশেই যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। এ ধরনের অনেক ভালো উপদেশ ২১ অক্টোবরের ঢাকার আলোচনা সভায়ও উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাস্তব অবস্থা ও পরিস্থিতি এসব সুপরামর্শ কাজে লাগানোর অনুকূল কিনা! গণমাধ্যম, বিশেষত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের গণমাধ্যম বিচ্ছিন্ন কোন একক নয়। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহত্তর সমাজের অংশ। সমাজ এমন একটি সত্তা যার বিভিন্ন অংশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নির্ভরশীল। এর যে কোন এক অংশের দূষণ ও দুর্বলতা অন্য অংশকে দূষিত ও পীড়িত করে। উনিশ ষাটের দশকে গণমাধ্যম বিশ্লেষক মার্শাল ম্যাকলুহান বলেছিলেন ‘মাধ্যমটাই বার্তা ‘(ঃযব সবফরঁস রং ঃযব সবংংধমব)’। গণমাধ্যমকে যদি তার পরিসীমার বাইরে কোন বাণী বা বার্তা সৃষ্টি বা প্রচার করতে হয়, তাহলে তার দরকার সমাজের অর্থবহ ও বলিষ্ঠ সমর্থন এবং সহযোগিতা। যে সমাজে সৎ সাংবাদিকতা নিত্যদিন নিগৃহীত, যেখানে প্রবল প্রতাপশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের অংশবিশেষ এবং পেশিশক্তির ঠিকাদাররা সত্য প্রকাশের পথ প্রতিনিয়ত রোধ করে, যেখানে অনুদার অসহিষ্ণুতা গণমাধ্যমের অধিকারকে অবিরাম খর্ব করে, সেখানে গণমাধ্যমের সত্য-সন্ধ বাণী নেতির কোলাহলে হারিয়ে যায়। সে অবস্থায় অসহায় গণমাধ্যম কর্মীরা সব হারানোর গান গেয়ে বলতে বাধ্য হন :

‘. . . আমার যে সব দিতে হবে
সে তো-আমি জানি
আমার যত বিত্ত প্রভু
আমার যত বাণী’।

ড. মীজানূর রহমান শেলী : সমাজবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক

[ad#co-1]