ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন চাষী নজরুল

৭১-এ পা দিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। গতকাল (২৩ অক্টোবর) ছিল এ দেশবরেণ্য চলচ্চিত্রকার ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ৭০তম জন্মবার্ষিকী। বরাবরের মতো এবারও কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন ছিল না তার জন্মদিনে। তবে সকাল থেকেই শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব, সতীর্থ ও শিষ্যরা কমলাপুরের জসীম উদ্দীন রোডের বাসায় গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা আর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত করেন তাকে। দিনটি চাষী নজরুল ইসলামের কেটেছে বাসায় অভ্যাগতদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় এবং চার নাতি অক্ষর, স্বাক্ষর, প্রখর, মুখর ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে গল্প করে। অভ্যাগতদের লুচি, সবজি, চা, মিষ্টান্ন ইত্যাদি দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। দিনভর এ কাজে ব্যস্ত ছিলেন চাষী নজরুলের সহধর্মিণী জ্যোত্স্না কাজী।

এদিন তাকে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম (বীরপ্রতীক), ঢাকার মেয়র বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, কবি আল মুজাহিদী, ড্যাব মহাসচিব এএডএম জাহিদ হোসেন, জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, চিত্রনায়ক রাজ্জাক, ফারুক, চিত্র পরিচালক কাজী হায়াত্, মুহাম্মদ হান্নান, নজরুল সঙ্গীতশিল্পী শবনম মুস্তারী প্রমুখ।

জন্মদিনের অনুভূতি বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় গতকাল চাষী নজরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এ বয়সে এখনও সুস্থ-সবল আছি এবং কাজ করতে পারছি বলে মহান আল্লাহকে শুকরিয়া জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আজকের চাষী নজরুল হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবের দোয়া। আমি জীবনে অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। কর্মজীবনে আমার যে অর্জন তাতেও আমি ভীষণ খুশি। এখন আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তবে আমার এক মাত্র চাওয়া হচ্ছে সুস্থ-স্বাভাবিক মৃত্যু। অর্থাত্ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে আমার যেন কোনো কষ্ট না হয়, আমি যেন এই চরম সত্যকে টের না পাই। আর যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন যেন সবসময় দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত থাকতে পারি। আমার জন্মদিনে যারা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা।

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৪১ সালে বিক্রমপুরের শ্রীনগর থানার মসষপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এ দেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রের নির্মাতা। চলচ্চিত্র শিল্পে তার এ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকসহ পেয়েছেন অসংখ্য জাতীয় পুরস্কার। তিনি ১৯৬১ সালে চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেন। খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ মোহাম্মদ আওয়ালের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। তিনি চারবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। সংগ্রাম, হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, মেঘের পরে মেঘ, দেবদাস, শুভদা, চন্দ্রনাথ, সুভা, শাস্তি, বিরহ ব্যথা, শিল্পী, হাসন রাজা ইত্যাদি তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।

জাকির হোসেন

[ad#co-1]