‘অর্থ সঙ্কট নেই, পদ্মা সেতু এ মেয়াদেই’

পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থের যোগান নিয়ে কোনো সঙ্কট নেই জানিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বহু প্রতীক্ষিত এ সেতু নির্মাণ শেষ করা হবে। মন্ত্রী শনিবার এক সভায় বলেন, “অনেকেই বলছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থের যোগান নিয়ে সঙ্কট বা সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনো অর্থ স্বল্পতা বা সঙ্কট বা সমস্যা নেই। দাতারা এ সেতু নির্মাণে পর্যাপ্ত অর্থ দিচ্ছে। ফলে এ সরকারের মেয়াদেই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ করা সম্ভব হবে।”

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সামাজিক ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা প্রচার’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আবুল হোসেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নকশা, ভূমি অধিগ্রহণসহ সামাজিক ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। নকশা প্রণয়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মনসেল-এইকম’র উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবার্ট অ্যাভেস নকশা ও কর্ম-পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, “দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এসব কর্মপরিকল্পনা জনসম্মুখে তুলে ধরার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল। তাই সেমিনারের মাধ্যমে এগুলো তুলে ধরা হলো।”

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “অনেকেই এটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে আমরা এটি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, আমাদের অর্থের যোগান নিয়ে কোন সমস্যা নেই। বিশ্বব্যাংক প্রথমে এ প্রকল্পে দুই দশমিক এক বিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন তারা প্রাথমিকভাবে এক দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংক প্রধানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের আলোচনা হয়েছে।”

মন্ত্রী বলেন, “এছাড়া সহযোগী অন্য দাতারাও অর্থ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক পুরো বিষয়টিই সমন্বয় করছে।”

“সরকার এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু ও শেষ করতে চায়। কারণ, এটি বর্তমানে ওই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি”, বলেন যোগাযোগ মন্ত্রী।

সেমিনারে বলা হয়, প্রকল্পের সামাজিক ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ১১টি কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনটিই হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা। এছাড়া পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার জন্যও সাতটি কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এক হাজার ১০০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এতে ১৩ হাজার ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এরমধ্যে সাড়ে আট হাজার পরিবার আবাদি জমি এবং পাঁচ হাজার পরিবার বাণিজ্যিক জমি হারাবে। দুই হাজার ৮৮০টি পরিবার সাময়িকভাবে আয়ের উৎস্য হারাবে। ফলে প্রায় ৭৬ হাজার ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এতে আরো বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে চারটি পুনর্বাসন গ্রাম প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব গ্রামে এক হাজার ৯৪৪টি আবাসিক প্লট এবং ৮০টি বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এসব প্লটে পুনর্বাসন করা হবে।

নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান মনসেল-এইকম’র উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবার্ট অ্যাভেস জানান, সেতুটির দুই প্রান্তের অবস্থান হবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও মাদারিপুরের জাঁজিরায়। এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। যা হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সেতু। সেতুর মূল অংশের দৈর্ঘ্য হবে চার দশমিক ৮০ কিলোমিটার।

এছাড়া সেতুর জাঁজিরা অংশে সাড়ে ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়কসহ মোট ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে এ প্রকল্পের আওতায়।

দ্বিতল বিশিষ্ট এ সেতুটির নিচ তলায় হবে রেল লাইন। ওপরের তলায় হবে চার লেনবিশিষ্ট মহাসড়ক। এতে গ্যাস সংযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ সব ধরণের সেবা সংযোগ থাকবে বলে অ্যাভেস জানান।

সেতু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান ও হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন বক্তব্য রাখেন।

[ad#co-1]