মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট

বিচারপতি ও ডেপুটি স্পীকার পরিবারসহ ৪ ফেরি ডুবোচরে আটকা
নাব্য সঙ্কট ও ডুবোচরে গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দয়ায় ফেরি আটকে যাওয়ায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দিনের বেলায় ফেরি চলালেও রাতে ফেরি চলাচল হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার চিন্তাভাবনা করছে। হাইকোর্টের একজন বিচারপতি ও ডেপুটি স্পীকারের পরিবার ফেরি পার হবার সময় তাদের বহনকারী ফেরিগুলোও আটকেপড়ে নৌপথের ডুবোচরে। এসময় ভিআইপি এ সকল যাত্রীসহ শত শত যাত্রীকে সোমবার মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ঘাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘাটে দেখা দেয় বিশাল যানজট।

বিআইডবিস্নউটিসি মাওয়া অফিসের এজিএম আশিকুজ্জামান জানান, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরম্নটে নাব্য সঙ্কটের কারণে অসংখ্য ডুবোচর দেখা দিয়েছে। এসব ডুবোচরের ওপর দিয়ে ফেরি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিটি ফেরিই ডুবোচরে আটকে আটকে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরম্নটের হাজরা টার্নিং পয়েন্টের কাওলিয়ার চরের নিকট কম করে চারটি ফেরি ডুবোচরে আটকাপড়ে। যমুনা, কাকলী, কর্ণফুলী ও রানীৰেত নামের ওই ফেরিগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবোচরে আটকে থাকায় ফেরিতে থাকা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এ সময় জিয়াউল করিম নামে হাইকোর্টের এক বিচারপতি ও ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব) শওকত আলীর স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আটকা পড়েন পদ্মার চরে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় ফেরি রানীৰেত ৭টি বাস, ৮টি ট্রাক ও ৪টি হাল্কা যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দি যাবার পথে কাওলিয়ার চরের নিকট ডুবোচরে আটকাপড়ে।

সকাল ৯টার দিকে আড়াই ঘণ্টা পর এটিকে টাগবোট দিয়ে টেনে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফেরিটি ডুবোচরে আটকে থাকার কারণে নৌপথের চ্যানেলের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরম্নটে সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যনত্ম ২ ঘণ্টা সকল প্রকার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কাওলিয়ার চরের ওই চ্যানেলের মুখে মাওয়া ও কাওড়াকান্দি থেকে ছেড়ে আসা বেশ কয়েকটি ফেরি নদীতে ভেসে ছিল চ্যানেল পাড়ি দেবার অপেৰায়। এর পূর্বে রবিবার রাত ২টার দিকে ফেরি যমুনা ৭টি বাস, ৩টি ট্রাক ও ৫টি হাল্কা যানবাহন ও যাত্রীসহ কাওলিয়ার চরের ওই পয়েন্টের ডুবোচরে আটাকা পড়লে সোমবার দুপুর ২টার দিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে এটিকে উদ্ধার করা হয়। রবিবার রাত পোনে ৮টার দিকে ভিআইপি ফেরি কর্ণফুলী মাওয়া থেকে ছেড়ে গিয়ে শরীয়তপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশে রওনা দিয়ে মাঝ পদ্মায় ডুবোচরে আটকা পড়ে। এসময় ফেরিটিতে ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব) শওকত আলীর স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। ৪৫ মিনিট পর রাত সাড়ে ৮টায় ফেরিটি উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় একই সময়ে কাওলিয়ার চরের নিকট রবিবার রাত্র ৮টার দিকে জিয়াউল করিম নামে হাইকোর্টের এক বিচারপতিকে বহনকারী ফেরি কাকলী মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দি যাবার পথে ডুবোচরে আটকাপড়ে। এটিকে ২ ঘণ্টা পরে ওই রাত ১০টার দিকে উদ্ধার কর হয়।

দফায় দয়ায় ফেরি আটকে যাবার কারণে মাওয়া ঘাটে সোমবার ছিল ব্যাপক যানজট। আর যানজটে আটকাপড়ে দৰিণবঙ্গগামী যাত্রীরা মাওয়া ঘাটে এবং ঢাকাগামী যাত্রীরা কাওড়াকান্দি ঘাটে চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

বিআইডবিস্নউটিসির মেরিন অফিসার আঃ সোবহান জানান, পদ্মার পানি কমতে থাকায় ডুবোচরগুলো জেগে উঠতে শুরম্ন করেছে। পানি হ্রাস পাওয়ায় নাব্য সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে। মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দি নৌপথে পলি পড়ে এ বছর অসংখ্য ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মার পানি কমতে থাকায় এ সকল ডুবোচর এখন ফেরি চলাচলে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের বেলায় চালকরা দেখেশুনে নৌপথ অতি সাবধানতার সঙ্গে পাড়ি দিলেও রাতের বেলায় ফেরি চলাচল যেন দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাই রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার ব্যাপারে কর্তুৃপৰ এখন চিনত্মাভাবনা করছে। আর রাতে ফেরি পারাপার বন্ধ রাখা হলে দৰিণবঙ্গের যাত্রীসহ পণ্য বহনে মারাত্মক বিঘ্ন দেখা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হবে ফেরির জন্য।

জনকন্ঠ

————————
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট
হাইকোর্টের বিচারপতি ও ডেপুটি স্পীকারের পতœীসহ ৪টি ফেরি দফায় দফায় ডুবো চরে আটকা ঃ রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার চিন্তা ভাবনা কর্তৃপক্ষের

নাব্যতা সংঙ্কট ও ডুবো চরে গত ২৪ ঘন্টায় দফায় দয়ায় ফেরি আটকে যাওয়ায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি পারাপারে অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সতর্কতার সাথে ফেরি সচল থাকলেও ফেরি চলাচল এখন ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হাইকোর্টের একজন বিচারপতি ও ডেপুটি স্পীকারের পরিবার ফেরি পার হবার সময় তাদের বহনকারী ফেরিগুলোও আটকে পড়ে নৌপথের ডুবো চরে। এসময় ভিআইপি যাত্রীসহ শত শত যাত্রীকে মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ঘাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘাটে দেখা দেয় বিশাল যানজট।

বিআইডব্লিউটিসি মাওয়া অফিসের এজিএম আশিকুজ্জামান সোমবার রাতে জানান, মাওয়ায় এখনও শতাধিক যান আটকে রয়েছে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে নাব্যতা সংকটের কারণে অসংখ্য ডুবো চর দেখা দিয়েছে। এসব ডুবো চরের উপর দিয়ে ফেরি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিটি ফেরিই ডুবো চরে আটকে আটকে পদ্মা পারি দিচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের হাজরা টানিং পয়েন্টের কাওলিয়ার চরের নিকট কম করে চারটি ফেরি ডুবো চরে আটকা পড়ে । যমুনা ,কাকলী, কর্ণফুলী ও রানীক্ষেত নামের ওই ফেরিগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবো চরে আটকে থাকায় ফেরিতে থাকা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এসময় জিয়াউল করিম নামে হাইকোর্টের এক বিচারপতি ও ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আটকা পড়েন পদ্মার চরে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৬ টায় ফেরি ‘রানীক্ষেত‘ ৭ টি বাস, ৮টি ট্রাক ও ৪টি হালকা যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দি যাবার পথে কাওলিয়ার চরের নিকট ডুবো চরে আটকা পড়ে। সকাল ৯ টার দিকে আড়াই ঘন্টা পর এটিকে টাগ বোট দিয়ে টেনে উদ্ধার করা হয়। এসময় ফেরিটি ডুবো চরে আটকে থাকায় কারণে নৌ পথের চ্যানেলের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত ২ ঘন্টা সকল প্রকার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কাওলিয়ার চরের ওই চ্যানেলের মুখে মাওয়া ও কাওড়াকান্দি থেকে ছেড়ে আসা বেশ কয়েকটি ফেরি নদীতে ভেসে ছিল চ্যানেল পারি দেবার অপেক্ষায়। এর পূর্বে রোববার রাত ২টার দিকে ফেরি ‘যমুনা’ ৭ টি বাস , ৩ টি ট্রাক ও ৫টি হালকা যানবান ও যাত্রীসহ কাওলিয়ার চরের ওই পয়েন্টের ডুবো চরে আটাকা পড়লে সোমবার দুপুর ২ টার দিকে প্রায় ১২ ঘন্টা পড়ে এটিকে উদ্ধার করা হয়। রোববার রাত পোনে ৮ টার দিকে ভিআইপি ফেরি ‘কর্নফুলী’ মাওয়া থেকে ছেড়ে গিয়ে শরিয়তপুরের কাঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে মাঝ পদ্মায় ডুবো চরে আটকা পড়ে। এসময় ফেরিটিতে ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব:) শওকত আলীর স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিল। ৪৫ মিনিট পর রাত্র সাড়ে ৮ টায় ফেরিটি উদ্ধার করে কাঠালবাড়ি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় একই সময়ে কাওলিয়ার চরের নিকট রোববার রাত্র ৮ টার দিকে জিয়াউর করিম নামে হাইকোর্টের এক বিচারপতিকে বহনকারী ফেরি ‘কাকলী’ মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দি যাবার পথে ডুবো চরে আটকা পরে। এটিকে ২ ঘন্টা পরে ওই রাত ১০ টার দিকে উদ্ধার কর হয় ।

দফায় দয়ায় ফেরি আটকে যাবার কারণে মাওয়া ঘাটে গতকাল ছিল ব্যাপক যানজট। আর যানজটে আটকা পড়ে দক্ষিনবঙ্গগামী যাত্রীরা মাওয়া ঘাটে এবং ঢাকাগামী যাত্রীরা কাওড়াকান্দি ঘাটে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার আঃ সোবহান জানান, পদ্মার পানি কমতে থাকায় ডুবোচরগুলো জেগে উঠতে শুরু করেছে। পানি হ্রাস পাওয়ায় নাব্যতা সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে। মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দি নৌ পথে পলি পড়ে এবছর অসংখ্য ডুবো চরের সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মার পানি কমতে থাকায় এসকল ডুবোচরগুলো এখন ফেরি চলাচলে হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। দিনের বেলায় চালকরা দেখে শুনে নৌপথ অতি সাবধানতার সাথে পারি দিলেও রাতের বেলায় ফেরি চলাচল যেনো দুরহ হয়ে পড়েছে। তাই রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখন চিন্তা ভাবনা করছে। আর রাতে ফেরি পারাপার বন্ধ রাখা হলে দক্ষিণ বঙ্গের যাত্রীসহ পন্যবহনে মারাত্মক বিঘœতা দেখা দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হবে ফেরির জন্য।

বিক্রমপুর সংবাদ

[ad#co-1]