বিদ্যুতের দাবীতে আবার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ

যানজট ॥ হাজারো মানুষের দুভোর্গ॥মাওয়ায় প্রশাসনের সভা
বিদ্যুতের দাবীতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় আবারও অবরোধ হয়েছে। ব্যানারে এই অবরোধ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির জিএম জিকে মনিরুজ্জামান বলেছেন, এই এলাকার লোডশেডিং সহনীয়। আর যেহেতু সমস্যাটি জাতীয় পর্যায়ের উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশী। তাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই বিদ্যুতের নামে মহাসড়ক অবরোধ করে হাজারো মানুষের দুভোর্গ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুতের দাবীতে এখানে আন্দোলন করার মত কোন ঘটনাই ঘটেনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেছেন, এই অঞ্চলের বিদ্যুতে সমস্যা অবসান হওয়ায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই জেলায় বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। লৌহজংয়ে বিদ্যুতের সাবস্টেশন হচ্ছে। নির্মাণ হচ্ছে গ্রিড সাবস্টেশন। সাত বছরের ধরে যে সমস্যা চলছে তা থেকে উত্তোরণের সময়ে বিদ্যুতের দাবীতে মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়া বিস্ময়কর। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিঘিœত করার অপতৎপরতার অংশ হিসাবেই ২৪ ঘন্টার মধ্যে দু’দফা গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

এদিকে দফায় দফায় মহাসড়ক বন্ধ করের দেয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে মাওয়ায় জেলা প্রশাসক মো.আজিজুল আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভা হয়েছে। এতে পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির জিএম জিকে মনিরুজ্জামান, ইউএনও কাজী মো.আসাদুজ্জামান কবির, রাজনীতিক সেলিম আহম্মেদ মোড়ল, লৌহজং থানার ওসি হেলাল উদ্দিন, হাজী মো.ইউসুফসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৃষ্টি সত্ত্বেও দুলাল প্লাজার দোতলার এই সভায় এলাকার বহু মানুষ অংশ নেয়। তারা মাওয়ায় বিদ্যুতের সরবরাহ সাত বছর ধরে তুলনামূলক আশপাশের এলাকার চেয়ে কম দেয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যুত বৃদ্ধির দাবী জানান। সভায় সিদ্ধান্ত হয় শ্রীনগর উপজেলায় যে পরিমান বিদ্যুত পাবে লৌহজং উপজেলা তা পাবে।

এদিকে মহাসড়ক বন্ধ করার ইন্দন দাতাদের চিহ্নিত করতে করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। ইন্দনদাতাদের তালিকা পাঠানোর জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ পাওয়ার পরই গোয়েন্দারা কাজ শুরু করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

লৌহজং থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, সোমবারের মত মঙ্গলবারও এই অবরোধে হাজারো মানুষ দুভোর্গ পোহায়। সকাল পৌনে ১০ টা থেকে সাড়ে ১০টা এই পৌনে এক ঘন্টা এই ব্যারিকেট দিয়ে ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ করে দিলে সৃষ্টি হয় যানজট। পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাড়ে ১০টার পর মহাসড়কটিতে আবার যান চলাচল শুরু হয়।

মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতি জানায়, এই জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭৮ মেঘাওয়ার্ড। গড়ে বিদ্যুত পাওয়া ড়েছে ২৭ মেঘাওয়ার্ড যা অন্যান্য সময়ের মতই। তাই অবরোধ করার মত ঘটনা ঘটেনি। সমিতি জানায়, সোমবার এই জেলায় পাওয়া গেছে ২৭ মেঘাওয়ার্ড বিদ্যুত।

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। ০১৯১১৪২৬৭০
০৫.১০.১০