মুন্সিগঞ্জে জুলির লাশ কবর থেকে উত্তোলন

একমাস পর জাকিয়া হাবিব জুলির (২২) লাশ কবর থেকে তোলা হচ্ছে পুনঃময়না তদন্তের জন্য। আজ রবিবার বসুপাড়া গ্রামের পারিবারিক করবস্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ তুলে ফের ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে দায়িত্ব প্রাপ্ত মুন্সিগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফিউল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে রবিবার লাশ উত্তোলন করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্য জুলির স্বামীর পক্ষের লোকজন নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে অভিযোগ করে জুলির পিতা হাবিব খান জানান, প্রভাব আর অর্থের দাপটের কাছে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাল্টে গেছে। তাই আদালতের শরনাপন্ন হয়ে জুলি হত্যার সঠিক বিচার এবং যৌতুক লোভীদের মুখোশ উন্মোচনের আবেদন করি। এসব কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলার মিরকাদিমের দক্ষিণ কাগজী পাড়ায় যৌতুকের বলি হয় জুলি। ময়না তদন্ত শেষে পর দিন ১ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, স্বামী আশ্রাফুল দেওয়ান খোকন ও তার আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনার দিন বেলা ১১ টার দিকে জুলির লাশ মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে লাশ মর্গে পাঠায়। জুলির বাবার বাড়ি সদর উপজেলার বজ্রযোগনীর বসু পাড়া গ্রামে।

জুলির পরিবারের লোকজন জানায়, খোকন ও তার পবিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য জুলিকে প্রায়ই মারধর করতো। প্রায় ১ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত বখাটে খোকনকে মোটর সাইকেল ও নগদ ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না দিলে অমানসিক নির্যাতন চালাতো। যৌতুক টাকা এনে দেওয়ার পর কয়েকদিন কিছুটা শান্ত থাকলেও ওই টাকা শেষ হলে আবার যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু হতো। জুলির পিতা,শোকাহত হাবিব খান জানান, এনিয়ে কয়েক বার পারিবারিক ভাবে সালিশী বৈঠক হলেও কোন কাজ হয়নি। নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার দুদিন আগে রাতভর স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে ভোরে পালিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় জুলি। যাওয়ার পথে খবর পেয়ে স্থানীয় ধলাগাঁও বাজার কাছ থেকে স্বামী খোকন জোর পূর্বক ধরে নিয়ে আসে। গত ২দিনে এভাবে কয়েকবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হন জুলির। পরে সকালে স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন নির্মম ভাবে হত্যা করে সুন্দরী গৃহবধু জুলিকে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বামী খোকন এবং তার চাচা আবু তালেব ও চাচী রীনা বেগম লাশ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। এর পর বাড়ির সব লোকও পালিয়ে যায়। প্রতিবেশী সেলিম জানান, বিয়ে হয়েছে এক বছর, এরই মধ্যে এই গৃহবধুকে নানাভাবে নির্যাতন করতো।

One Response

Write a Comment»
  1. কিছু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলে, এমন ঘটনা কমবে…কিন্তু কাদের উপর ভরসা করব, এই দেশে যে হাতি ****** খায়!