কোমল ও কঠিন ফয়েজ ভাই

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
আমাদের ফয়েজ ভাই সবারই ভাই—কিশোর বয়স্কের, বিভিন্ন প্রজন্মের। কারণ আছে। কারণ হলো তিনি অতিশয় কোমল মনের মানুষ। তাঁর সেই কোমলতা অন্য মানুষকে টানে, স্পর্শ করে, একটি স্থায়ী সম্পর্কের ভেতর ধরে রাখে; কিন্তু একই সঙ্গে আবার তিনি অত্যন্ত কঠিনও। তাঁর চেয়ে কোমল কে আমি জানি না, কঠিন কে তাও আমার সঠিক জানা নেই; কোমলে-কঠিনে এমন মিলন আর কোথায় কতটা পাওয়া যাবে, আমি তেমন খবর বড় একটা পাইনি।

ফয়েজ ভাইয়ের কোমলতা এসেছে তাঁর সরলতা, অন্তরঙ্গতা ও হৃদয়ের উষ্ণতা থেকে। আর কাঠিন্য যেটুকু, সেটা অন্য কিছুর নয়, মেরুদণ্ডের। ফয়েজ আহ্মদের মেরুদণ্ড খুবই শক্ত। এটা তাঁর বন্ধুরা জানেন, বিশেষভাবে জানেন তাঁর প্রতিপক্ষ। বহুবার বিপদ ও সঙ্কটে পড়েছেন তিনি, দেশছাড়া হয়েছেন, কারারুদ্ধ হয়েছেন কয়েকবার, আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হয়েছেন দীর্ঘদিন; কিন্তু ভেঙে পড়েননি কখনও, শুনিনি যে নত হয়েছেন।

লেখক হিসেবে ফয়েজ আহ্মদের প্রধান পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন শিশুসাহিত্যিক। শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি ছড়া লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, গদ্যও রচনা করেছেন, সম্পাদনা করেছেন কিশোর পত্রিকা। তাঁর নিজের ভেতরও একজন অমলিন কিশোর রয়েছে, যে সরল কিন্তু দুরন্ত, কৌতূহলী এবং অত্যন্ত কৌতুকপ্রিয়। যে জন্য তিনি যেখানেই যান, মানুষকে টেনে আনেন কাছে। কত রকমের প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চিরতরুণ আমাদের এই ফয়েজ ভাই। সংগঠন গড়বার, তাকে পরিচালনা করবার, নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা তাঁর অসাধারণ এবং কোনো ক্ষেত্রেই লাভ-লোকসানের হিসাব করেননি। বড়ই উদার ও উষ্ণ তাঁর সান্নিধ্য ও উপস্থিতি। অনেক কিছুর সঙ্গেই জড়িত, কিন্তু কোথাও আটকা পড়ে থাকেননি।

পেছনে ফিরে দেখি দুঃসাহস ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। ছাপান্ন বছর আগে সেই ১৯৫৪ সালে যুবক ফয়েজ আহ্মদ ভিয়েনায় গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে যোগ দিতে। ফেরার পথে লন্ডনে গিয়ে সাক্ষাত্ পান মওলানা ভাসানীর। তত দিনে ইস্কান্দার মির্জা পূর্ববঙ্গে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন ভাসানী যদি দেশে ফেরেন, তবে বিমানবন্দরেই তাঁকে গুলি করে শেষ করে দেয়া হবে। ফয়েজ ভাই ভাসানীর সঙ্গেই ছিলেন, প্রথমে লন্ডনে পরে কলকাতায়। ভাসানীকে নির্বাসনে রাখে এমন ক্ষমতা মির্জার ছিল না। ভাসানী ফিরে এলেন, ফয়েজ ভাইও এলেন তাঁর সঙ্গে। ভাসানীর সঙ্গে ফয়েজ ভাইয়ের বিশেষ স্নেহের একটা সম্পর্ক ছিল। সেটা সবাই জানতেন। সম্পর্ক ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও। দেশের সব রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল তাঁর, কেবল সাংবাদিক হিসেবে তা নয়, রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহের কারণেও। সংস্কৃতিসেবী ফয়েজ আহ্মদ কখনওই রাজনীতি থেকে দূরে থাকেননি। তাঁর উষ্ণ সম্পর্ক ছিল আত্মগোপনকারী ও বিপজ্জনক বাম নেতাদের সঙ্গে।

শাসকেরা আশ্বস্ত হতো তাঁকে কারাগারে পাঠাতে পারলে। জেল খেটেছেন তিনি সামরিক শাসক আইয়ুবের আমলে, সামরিক শাসক এরশাদও তাঁকে কারাবন্দি করেছেন। রাজনৈতিক কারণে একবার নয়, তিন তিনবার তাঁকে আত্মগোপন করে থাকতে হয়েছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আমরা তাঁকে রাজপথে দেখেছি। আবার কাজ করেছেন অন্তরালে থেকেও। হাসিনা-খালেদাকে একত্র করবার কঠিন ও একক দায়িত্বটি তিনি নিজেই তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রথম প্রধান সম্পাদক ছিলেন ফয়েজ আহ্মদ। উচ্চ কর্তৃপক্ষের বিরূপ মনোভাবের পরিচয় পেয়ে তিনি এক মুহূর্ত বিলম্ব করেননি সে চাকরি ছেড়ে দিতে। জীবিকার পরবর্তী নির্বাহ কিভাবে ঘটবে, সে চিন্তায় ব্যাকুল হননি একেবারেই।

১৯৫০ সালের ফয়েজ ভাই ‘হুল্লোড়’ নামে কিশোর মাসিক বের করেন। সে পত্রিকা নবীন-প্রবীণ সবার মধ্যেই সাড়া জাগিয়েছিল। তখনও আমি স্কুল ছাড়িনি, আমিও যোগ দিয়েছিলাম পত্রিকার নবীন লেখকদের দলে। তার দু’দশক পরে ফয়েজ ভাই সাপ্তাহিক ‘স্বরাজ’ বের করলেন, যে পত্রিকা অত্যাসন্ন; কিন্তু অজানা মুক্তিযুদ্ধের যে আবেগ তাকে ধারণ করেছে। মানুষকে বলেছে প্রস্তুত হতে। পঁচিশে মার্চে ‘স্বরাজ’-এর ছাপাখানা আক্রান্ত হয়। ফয়েজ ভাই আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁর দ্বিতীয় গৃহ, প্রেসক্লাবে। হানাদার, ওই ভবনে গোলাবর্ষণ করলে তিনিও আহত হন। সকালে কোনোমতে দেয়াল টপকে সচিবালয়ে গিয়ে উঠেছিলেন। পরের দিন কার্ফ্যু-বিরতির সুযোগে বেরিয়ে পড়ে আর পেছনে ফিরে তাকাননি, নিজের গ্রামে চলে গেছেন। সেখান থেকে নানা রকমের যানবাহন ব্যবহার করে এবং অনেকটা পথ হেঁটে সীমান্ত পার হয়ে গিয়ে সরাসরি যোগ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। ফিরেছেন স্বাধীনতার পরে। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি মাসিক বা সাপ্তাহিক নয়, উদ্যোগ নিয়েছিলেন ‘বঙ্গবার্তা’ নাম দিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের। বলা বাহুল্য, টেকাতে পারেননি—সরকারি রুদ্ররোষের মুখে। ‘হুল্লোড়’-এর কিশোরমনস্কতা যেমন সত্য, তেমনি সত্য ‘স্বরাজ’ ও ‘বঙ্গবার্তা’র কঠিন অবস্থান।

ফয়েজ ভাইয়ের অনেক সাহসী-দুঃসাহসী প্রচেষ্টার ভেতর একটি হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক আর্কাইভ নামে একটি সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা। এটি কেবল সংগ্রহশালা নয়, পাঠাগারও বটে। এখানে বই থাকবে, থাকবে পত্রপত্রিকা; সংগ্রহ গড়ে উঠবে দলিল-দস্তাবেজ ও প্রচারপত্রের। পাঠকেরা পড়বে, গবেষণার জন্য নোট করবে, ফটো কপি করে নেবে প্রয়োজনীয় রচনা। কে অস্বীকার করবে যে এমন একটি সংগ্রহশালার খুবই প্রয়োজন ছিল। দেশে আগের-পরের সমাজতন্ত্রীদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়, কিন্তু উদ্যোগটা ফয়েজ ভাইকেই নিতে হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের নন, তাঁর লক্ষ্য সমাজতন্ত্রীদের ঐক্য গড়া, কাজের ভেতর দিয়ে যেমন, তেমনি জ্ঞানের ভেতর দিয়ে।

প্রতিষ্ঠানটির আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম। অনেক কথার ভেতর ভাবছিলাম এ কথাও যে, ফয়েজ ভাই চিরকালই সমাজতন্ত্রী ছিলেন, এখনও রয়ে গেছেন। তাঁর বয়স বেড়েছে, অভিজ্ঞতার নানামুখী বিস্তার ঘটেছে, কিন্তু অঙ্গীকারটি ভাঙেনি। অনড় আছেন। এখন তিনি আগের মতো সভা-সমিতিতে যেতে পারেন না, কিন্তু পত্রিকায় লেখেন। তাঁর সব কাজে এবং সব লেখাতেই দৃষ্টিভঙ্গিটা একজন স্বচ্ছ বামপন্থীর। প্রয়াত আহমদ শরীফ সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘ নামে একটি সংগঠন গড়তে চেয়েছিলেন, তাঁর আহ্বায়ক হিসেবে সর্বসম্মতভাবে যাঁর কথা ভাবা হয়েছিল, তিনি হচ্ছেন আমাদের এই ফয়েজ আহ্মদ। আহমদ শরীফ আমাদের মধ্যে থাকলে হয়তো সংগঠনটি এগুত, কিন্তু তিনি হঠাত্ করেই চলে গেলেন, আমরাও তাঁর স্বপ্নের সংগঠনটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম না।

ফয়েজ ভাইয়ের জন্য সমাজতন্ত্র যে কেবল বিশ্বাসের নয় কর্মেরও ব্যাপার, তার একটি নিদর্শন আর্কাইভ গড়ার ওই উদ্যোগ। তিনি তাঁর বইপত্র এই পাঠাগারকে দিয়ে দিয়েছেন। যে সমাজে নিয়ম হলো সামাজিক সম্পত্তিকে গ্রাস করে ফেলে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করা, যেখানে বইপত্রের ব্যক্তিগত সংগ্রহকে সামাজিক মালিকানার হাতে তুলে দেয়ার এই পদক্ষেপ নিশ্চয়ই একেবারে ভেতর থেকে এসেছে, নইলে সম্ভব হলো কী করে? ফয়েজ ভাই আবারও দৃষ্টান্ত হয়ে রইলেন; আমাদের জন্য তিনি অনুপ্রেরণারও কারণ হলেন। এরই মধ্যে কেউ কেউ আমাকে বলেছেন, তাঁরা ওই পাঠাগারে নিজেদের সংগ্রহের বইপত্র দিতে চান।

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এ কথাও মনে হচ্ছিল আমার যে, ফয়েজ ভাই নিজে তো একটি কম বড় আর্কাইভ নন। একটি জীবন্ত সংগ্রহশালা। কত বিচিত্র ঘটনা, পরিস্থিতি ও মানুষকে তিনি জানেন। সংবাদপত্রের দুর্ধর্ষ রিপোর্টার, রাজনীতির সঙ্গে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক উদ্যোগের নেতা এবং উষ্ণ হৃদয় বন্ধু হিসেবে কত রকমের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন তিনি। ‘মধ্যরাতের অশ্বারোহী’ হিসেবে কত কিছুই না দেখেছেন। সর্বোপরি তাঁর রয়েছে অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, গল্প বলার নিপুণ দক্ষতা ও সদাপ্রফুল্ল কৌতুকবোধ।

পেছনে তাকিয়ে দেখি ফয়েজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার জানাশোনাটা সেই ১৯৪৮ থেকে। তাঁর এক নিকটাত্মীয় ছিল আমার বন্ধু, কিছুদিন আগে যিনি প্রয়াত হয়েছেন। ওই কিশোর ফয়েজ ভাইয়ের খুব ভক্ত ছিল; তার সুবাদেই আমার সঙ্গে ফয়েজ ভাইয়ের প্রথম পরিচয়; তিনি তখন থাকতেন ওদের সঙ্গে এক বাসাতেই। জানতাম তাঁকে শিশুসাহিত্যিক হিসেবে। ছড়া লিখতেন, পড়েছি কলকাতার কাগজে। দুই ভাই, মঈদ-উর রহমান ও মীজানুর রহমান মিলে ‘ঝঙ্কার’ নামে একটি কিশোর মাসিক বের করেছিল, ফয়েজ ভাই তাতে লিখতেন, সে লেখা আমি পড়েছি। এই পত্রিকায় আমি নিজেও ছিটেফোঁটা লিখেছি বলে মনে পড়ে। সেই সময়ে ‘ঘি চপ চপ’ নাম দিয়ে চমত্কার সব ছড়ার একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছিলেন ফয়েজ ভাই, যার জন্য ছবি এঁকে দিয়েছিলেন কামরুল হাসান। এই বই মনে হয় বের হয়নি, তবে তাঁর ছড়াগুলো নিশ্চয়ই অন্য বইতে জায়গা করে নিয়েছে। পাণ্ডুলিপিটির কথা আমার এখনও মনে আছে। ‘হুল্লোড়’ অফিস ছিল আমাদের বাসার কাছেই, সেখানে ফয়েজ ভাই জমিয়ে বসতেন, আমিও গেছি কখনও-সখনও; পরিচয় গড়ে উঠেছিল পত্রিকার প্রকাশক ও ছাপাখানার মালিক সফী খানের সঙ্গে। ওই ছাপাখানা থেকে পরে কাগজপত্রও ছাপিয়ে নিয়েছি আমি, নানা উপলক্ষে।

তারপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখাশোনা ফয়েজ ভাইয়ের সঙ্গে। তাঁকে সভাপতি করে লেখক ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন গড়েছিলাম আমরা। সেই সময় দেশে কাগজের একটা সঙ্কট চলছিল; লেখক ইউনিয়ন খুলনা নিউজ প্রিন্ট মিলের সঙ্গে দেনদরবার করে হ্রাসকৃত মূল্যে গ্রন্থ প্রকাশের জন্য লেখকদের কাগজ সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিল। কাগজটি ছিল ভিন্ন ধরনের, তার নাম দেয়া হয়েছিল ‘লেখক’। লেখক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমরা কয়েকজন চীন ও উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিলাম; প্রতিনিধিদলের নেতা ছিলেন স্বভাবতই ফয়েজ ভাই। এক মাস রাত-দিন দেখা হতো এবং চমত্কার কেটেছিল।

লেখক ইউনিয়ন চেয়েছিল লেখকদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও মেলামেশার জন্য প্রেসক্লাবের মতো একটি ভবন সংগ্রহ করতে। আমরা চেষ্টাও করেছিলাম, সফল হইনি। ফয়েজ ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলা একাডেমীর কাউন্সিলে আমরা নির্বাচন করেছি। আমাদের সঙ্গে জাহানারা ইমামও ছিলেন। কাউন্সিলকে দিয়ে আমরা অনেক কিছু করাতে পারব ভেবেছিলাম, কিন্তু পারিনি; এরশাদের সামরিক শাসন এসে যায়, বাংলা একাডেমীর স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ ঘটে, প্রতিবাদে আমরা ছয়জন নির্বাচিত সদস্য একযোগে পদত্যাগ করি। বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে ফয়েজ ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য মনোনীত হয়েছিলন, সে সময়ে আমিও সিন্ডিকেটের সদস্য; আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। দেখতাম উপাচার্য ফজলুল হালিম চৌধুরীর সঙ্গে ফয়েজ ভাইয়ের চমত্কার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তাঁকে জানতাম জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রধান সংগঠক হিসেবে। আমি যোগ দিয়েছি তাঁদের কোনো কোনো কর্মকাণ্ডে। আমার স্ত্রী নাজমা জেসমিনও অনুরাগী ছিল ফয়েজ ভাইয়ের। নাজমা একটি কিশোর নাট্যদল গড়ে তুলেছিল ঢাকা লিটল থিয়েটার নাম দিয়ে। ফয়েজ ভাই ছিলেন তার প্রধান উপদেষ্টা।
ফয়েজ ভাই বিরাট কেউ নন, বিরাট তিনি হতেও চাননি, হলে তাঁকে মানাতও না, তিনি হয়তো হেসেই ফেলতেন। কিন্তু তিনি মহত্ ও বিরল একজন মানুষ। তাঁর কাজটা ওপরের নয়, ছিল ভেতরের। তাঁর নিজস্ব পারিবারিক জীবন নেই; কিন্তু তাঁর ছোট ভাইয়ের ছেলেমেয়েরা সবাই বেড়ে উঠেছে তাঁর অভিভাবকত্বে। সর্বোপরি ছিল এবং আছে অসংখ্য বন্ধুবান্ধব—নানা বয়সের নানা রকমের। সবার সব কিছুর মধ্যে থেকেও তিনি একাকী। সেই একাকিত্ব একজন শিল্পীর।

[ad#co-1]