মুন্সিগঞ্জে বেড়েছে ডাকাতি খুন ও মাদক ব্যবসা

তানভীর হাসান, মুন্সিগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হত্যা, চুরি, ডাকাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েই চলছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাদক ব্যবসা। এদিকে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জেলা অইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাগুলোতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পিপি (সরকারি কৌঁসুলি) আবদুল মতিন বলেন, ‘জেলায় খুনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা খুব একটা ভালো না।’ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল আজিম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, ‘মাদক ব্যবসা বেড়ে গেছে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত চার মাসে জেলায় চাঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত ১০ আগস্ট শহরের বাসস্ট্যান্ডে প্রবাসী ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ৩০ মে ধলেশ্বরী নদীতে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও টাকা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শহর ছাত্রলীগের সহসভাপতি আল-মামুন মণ্ডল খুন হন। গত ১ জুলাই সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়ায় পুলিশের গুলিতে মোসলেম উদ্দিন (৩০) নামের একজন সাধারণ জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে স্কুলছাত্রসহ আরও কমপক্ষে ৩০ জন। এ সময় জনগণের ইট-পাটকেল ও লাঠির আঘাতে পুলিশের সাত সদস্য আহত হন। একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

২ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে একটি সোনার চেইনের জন্য স্কুলছাত্র আবু তৌকির (১০) নামের এক শিশুকে খুন করা হয়। ১২ আগস্ট লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের একটি ডোবা থেকে পুলিশ মাই টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরো প্রধান এম এ হাসানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। ৪ সেপ্টেম্বর রাতে সিরাজদিখানের গোয়ালখালী গ্রামে ডাকাতের গুলিতে কুয়েত প্রবাসী তানজিল আহমেদ নিহত হন। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ইটখোলার সামনে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে ওমর শিকদার নামে এক যুবককে হত্যা করে। ১১ আগস্ট শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নে স্কুলছাত্রী হাসনা রহমান সিনথি বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে। ১৮ মে গভীর রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের জোড়পুকুরপাড় গ্রামের মো. ফালান শেখের বাড়ি থেকে ডাকাতেরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ৭০ ভরি স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ৩০ মে একই উপজেলার রনছ গ্রামের আওলাদ মাদবরের ঘর থেকে চোরেরা ২০ ভরি স্বর্ণ ও ৫০ হাজার টাকাসহ মালামাল নিয়ে যায়।

১৯ মে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় ৫০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার গজারিয়া কান্দিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সহর আলী পাগলা মাজারে সন্ত্রাসীরা গুলি করে ও বোমা মেরে তিনজনকে আহত করে।

গত মঙ্গলবার পুলিশ সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকা থেকে ২৫টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জুয়েল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। একই এলাকা থেকে ১৮ আগস্ট ৩২টি ইয়াবাসহ নয়ন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ আগস্ট রাতে র‌্যাব সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০৪ পুরিয়া হেরোইনসহ গাজী আসলাম ও বাবুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড ঘটছে, আমরা হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করছি। মাদকের ব্যাপারেও আমরা তৎপর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সহযোগিতা করতে হবে।’

[ad#co-1]