টঙ্গীবাড়ী থানায় জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে ওসি দারোগার গোপন বৈঠক

মুন্সীঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানায় দুই জামায়াত কর্মীকে নিয়ে ওসি দারোগার বৈঠককে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পরেন টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ নিয়ে থানায় জামায়াত কর্মীর সঙ্গে তার বাড়িওয়ালার মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুরি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দোরাবতী গ্রামের জিয়াউল পাড়া জামে মসজিদের কথিত ঈমাম ও জামায়াত ইসলামের কর্মী জাকির হোসেন বিগত জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত সারাদেশের বিক্ষোভ মিছিলের অংশ হিসেবে উপজেলা সিদ্ধেশ্বরী বাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামীর মুক্তির দাবিতে মিছিলের নেতৃত্ব দেয়।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে তাকে বিতারিত করার আন্দোলন দানাবেঁধে উঠে। এ ঘটনায় দোরাবতী এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ওই জামায়াত কর্মী ও তার স্ত্রীকে দোরাবতী গ্রামের হানিফ খানের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য এলাকাবাসী সালিশ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়। এ বৈঠকে হানিফ খানের ছোট ভাই টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খান আবু বকর সিদ্দীক জনগণের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করলে চতুর জামায়াতকর্মী জাকির হোসেন তার আত্মীয় টঙ্গীবাড়ী থানার এসআই সিদ্দিকের স্বরণাপণ্য হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকির হোসেন টঙ্গীবাড়ী থানার এসআই সিদ্দিকের আত্মীয় হওয়ায় তার প্রভাব খাঁটিয়ে এলাকাবাসীকে মামলার হুমকি-ধমকি দিয়ে বেড়ায় এবং বাড়িওয়ালাকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে জোর করে বাড়িতে থাকার চেষ্টা করে। যার সূত্র ধরে ওসি মো. আব্দুল্লাহ এসআই সিদ্দিকের অনুরোধে থানায় জামায়াত কর্মী ও তার স্ত্রীকে নিয়ে গত দুইদিন দুইদফা বৈঠক করে।

সম্প্রতি তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এতে বাড়িওয়ালা হানিফ খান ভাড়াটিয়া ঈমাম জাকিরকে ভাড়া বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে দোরাবাতি গ্রামে দুদফা সালিশ বৈঠক হলে জামায়াত সমতির্থত মসজিদের ঈমামকে সালিশগণ বাসা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। এতে বাড়িওয়ালা হানিফ খানকে ওই জামায়াতকর্মী তার কাছে আত্মীয় টঙ্গীবাড়ী থানার এসআই মো. সিদ্দিক ও টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার্স ইনাচার্জ মো. আব্দুল্লাহ ক্ষমতার দাপট দেখান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ ও এসআই সিদ্দিক বাড়িওয়ালা হানিফ খানকে তলব করে থানায় নিয়ে যান। পুলিশের ওই দুকর্মকর্তার সামনেই মসজিদের ঈমাম জাকির হোসাইন বাড়িওয়ালা হানিফ খানকে মারধর করতে উদ্যত হয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সাংবাদিকরা থানায় এলে থানার অভ্যন্তরে ওই অপ্রীতিকর ঘটনা স্বচক্ষে দেখতে পান। সে সময় সাংবাদিকদের ওই উপস্থিতি সহ্য করতে না পেরে ওসি ও দারোগা মিলে সাংবাদিকদের ওপর চটে যান। এ প্রসঙ্গে টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহর সঙ্গে সেলফোনে বারবার যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে সেল ফোনে পাওয়া যায়নি।

[ad#co-1]