‘সংবাদপত্রের জনগণমুখী হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই’

ফয়েজ আহমেদ
লেখালেখির শুরুটা কীভাবে?
আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে, কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক শিশু সওগাত-এ। লেখার শিরোনাম ছিল নাম বিভ্রাট। ওটাই আমার প্রথম জীবনের লেখা। আমি বোধহয় তখন নবম শ্রেণীতে পড়ি।

প্রথম লেখা প্রকাশের অনূভূতি?
অবিশ্বাস্য অনুভূতি ছিল। লেখা প্রকাশের পর বাড়ির সবাইকে দেখিয়েছি, এমনকি স্কুলে নিয়েও দেখিয়েছি যে দেখো আমার লেখা ছাপা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই লেখা নিয়ে কয়েক মাস পর কলকাতায় গিয়েছিলাম। ১১ নম্বর ওয়েলেসলি স্ট্রিটে ছিল সওগাত পত্রিকার অফিস। একই বিল্ডিংয়ে ছিল শিশু সওগাতেরও অফিস। সেখানে গিয়ে পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সঙ্গে দেখা করেছি। সেখানেই পরিচয় হয়েছিল বিখ্যাত দুই কবি আহসান হাবীব ও হাবীবুর রহমানের সঙ্গে। পরিচয় হওয়ার পর লেখাটি দেখিয়ে বলেছি এটা আমার লেখা। তাঁরা তো অবাক! তাঁরা আমাকে বললেন, ‘আমরা যদি আগে জানতাম তাহলে তো এটা ছাপা হতো না।’ তখন আমি বললাম, ‘কেন?’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের এই কাগজে বড়রা ছোটদের জন্য লেখে।’

বর্তমান সংবাদপত্র আর আপনাদের সময়ের সংবাদপত্রের মধ্যে পার্থক্য কী?

পার্থক্য অনেক। আগের তুলনায় আজকাল কম্পিটিশন একটু বেশি। আজাদ, মিল্লাত বা সংবাদ যেভাবে চলতো এখন আর সেরকম নেই। এখন চারিদিকে অনেক কাগজ। নিউজ সংগ্রহ হয় বেশি। অগে কম লোক ছিল। ১৯৪৮ সালে দেশভাগের সময় কোনো দৈনিক কাগজ ছিল না, দু-একটি সাপ্তাহিক কাগজ ছিল। তখন ঢাকাতে কোনো সংবাদিক ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল, ফজলুল হক হল, ইকবাল হল থেকে ছাত্রদের ধরে এনে কাজ করানো হতো। ইন্ডিয়া থেকেও সাংবাদিক এসে কাজ করেছে।

সংবাদপত্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত।
এক কথায়, দু-কথায় বলে তো শেষ করা যাবে না। তবে সংবাদপত্রের জনগণমুখী হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এর জন্ম, প্রতিষ্ঠা, ব্যাপকতা, পপুলারিটি সব কিছু জনগণের। জনগণকে নানাভাবে যত জিনিস দেয়া যাবে ততই গ্রহণ করবে। জনগণ যদি সংবাদপত্রের কাছে কিছুই না পায় তাহলে তারা তা বর্জন করবে। রেলগাড়ির টাইম কয়টায়, মফস্বলের কয়টা নিউজ, কে মারা গেল, কোথায় ঘুঘু আর হাঁস পাওয়া যায় এসব খবর দিয়ে সংবাদপত্র চলে না।

জীবনের অপূর্ণতা রয়েছে কী?
প্রতিদিন পৃথিবী বর্ধিত হচ্ছে। বিজ্ঞানের আবিষ্কার হচ্ছে, দেশজ চালচলনে পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষের চিন্তাধারায় ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত বই হচ্ছে। যে পৃথিবী প্রতিদিন ব্যাপকতা বৃদ্ধি করছে সেখানে তো তার সঙ্গে দৌড়ে সমকক্ষ হওয়ার ক্ষমতা আমাদের কম।

[ad#co-1]