মাওয়ায় ঘরমুখো মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি

তাৎক্ষনিক ব্যবস্থায় ঘাট ছিল চাঁদাবাজ মুক্ত॥ সিবোর্ট উল্টে দুর্ঘটনা ॥ ডুবোচরে আটকা পড়েছে ফেরি
পদ্মায় নাব্যতা সংকটের কারণে ডুবোচরে ঘন ঘন ফেরি আটকে যাওয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরটে ফেরি চলাচলে যে আশঙ্কা ও যাত্রী বিড়ম্বনার কথা ভেবে ছিল কর্তৃপক্ষ তার কিছুই ঘটেনি এখানে। ঈদের এক দিন আগে বৃহস্পতিবার মাওয়ায় গাড়ীর চাপ থাকলেও কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে এখানে যানজট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি । অধিকাংশ যাত্রীকেই দেখা গেছে দুর পাল্লার পরিবহনে বাড়ি না গিয়ে লোকাল পরিবহনে চেপে ঢাকা থেকে মাওয়া এসে লঞ্চ, সিবোর্ট ও ট্রলার যোগে পদ্মা পার হয়ে ওপারে গিয়ে আবার বিকল্প কোন পরিবহনে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। যার ফলে ফেরি পারাপারে গাড়ীর চাপ কম থাকায় মাওয়ায় যানজট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি।

ঈদের আগের দিন মাওয়া ঘাটে ১৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিবোট পদ্মায় উল্টে যায়। ৩ জন যাত্রী নিখোঁজ হবার খবর ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা খুঁজে যাওয়া যায়নি। ওই দিনও ঘাটে তেমন কোন যানজট ছিল না। ঈদের দিনও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। ঈদের পরের দিন শনিবার রামশ্রী ফেরিটি ভোর পাঁচটার দিকে কবুতর খোলা চ্যানেলের উপরের দিকে ডুবো চরে আটকে গেলে ২ ঘন্টা পড়ে সকাল ৭ টার দিকে এটি উদ্ধার করা হয়। সোমবারও ঘাটে তেমন কোন যানজট ছিল না। তবে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ ছিল। ঈদের এই কয়েক দিনের ছুটিতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে চলাচলরত লোকাল বাসের বাড়া বৃদ্ধি পায়। যাত্রী প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ভাড়ার এই সুযোগটি কাজে লাগাতে অন্য রুটের গাড়ীকেও ঈদের পরদিনও এরুটে চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে কর্তৃপক্ষের সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে মাওয়া ঘাটে তেমন কোন যানযট সৃষ্টি হতে পারেনি। ঈদের আগে সকল প্রকার ট্রাক মাওয়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে শ্রীনগর উপজেলার ছন বাড়ি নামক স্থানে আটকিয়ে দেয়া হয়। মাওয়া চৌরাস্থা থেকে আটকিয়ে দেয়া হয় দূর পল্লার বাসগুলো এখান থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস ও হালকা যানবাহনগুলো ফেরিঘাট এলাকায় পাঠানো হয়। ফলে ঘাট এলাকায় এবার উল্লেখযোগ্য কোন যানজটই ছিল না । আর যানজট ও গাড়াীর চাপ না থাকায় পরে আটকিয়ে দেয়া ট্রাকগুলোকেও পার করেছে বিআইডব্লিউটিসি মাওয়া ফেরি সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

চাঁদাবাজি নেই

মাওয়ায় ফেরি, লঞ্চ, স্পিড বোড ও ট্রলার ঘাটে এবার অতিরিক্ত ভাড়া নেই। আগের ভাড়ায়ই এসব নৌ পরিবহনে যাত্রীদের পদ্মা পাড় হয়েছেন। মাদারীপুরের ইভান ও শিবচরের যাত্রী আব্দুর বারী জানান,পূর্বের নির্ধারিত ১০ টাকা করে লঞ্চের টিকেট কেটেই ও জেলা পরিষদের ৩ টাকা ঘাটের ২টাকা দিয়ে অপর প্রান্তের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। স্পিড বোর্ডের যাত্রী মাদারীপুরের আ. করিম বলেন, আগের মতোই ১শ’১০ টাকা স্পিড বের্ডের ভাড়া দিয়ে পদ্মা পাড় হচ্ছি। মাদারীপুর মহিষের চরের ফেরি যাত্রী সোহরাব বলেন, মোটর সাইকেলের ফেরির ভাড়া পূর্বের মতোই ১০ টাকা দিয়ে যাচ্ছি। মাওয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের নৌযানগুলো বুধবার পূর্বের ভাড়াই পারাপর করে। অনেক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানাযায়, অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছেনা। মাদারীপুরগামী যাত্রীবাহী বাস চালক আ.রশিদ জানান, তাদের মাওয়া ঘাটে কোন চাঁদা দিতে হয়নি।

এব্যাপারে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো.আজিজুল আলম জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষকে মাওয়ায় যাতে বিড়ম্বনা পোহাতে না হয় সেজন্য সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেছেন, এমননিতে এবার মাওয়া ঘাটে দলের লোক কোন প্রকার অনয়িমের সাথে ছিল না।

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। ০১৯১১১৪২৬৭০
১৩.০৯.১০

[ad#co-1]