আমার মায়ের ছবি – নূহ্ উল-আলম লেনিন

তোমার একটা ছবি আঁকবো ভেবে রঙ তুলি
নিয়ে ইজেল সাজাতেই আকাশ জুড়ে বর্ষা
আমার সব রং তুলি ভাসিয়ে নিল।
আমার মনটাও গেলো ভিজে এবং মনের ভেতরে
তোমার ছবিটাও।

অবাক বিস্ময়ে অনুভব করলাম আমি শৈশবে
ফিরে গেছি। বৃষ্টিভেজা দুপুরে দুই দুরন্ত কিশোর-কিশোরী
মেজদি ও আমি, ইলশেগুড়ি বৃষ্টি। হঠাৎ সূর্যালোকের উদ্ভাস।
খেঁকশিয়ালের বিয়ে হবে। ও পাড়ায় শারদীয় ঢাকের শব্দ।

মায়ের সাথে খুনসুটি। কলা চুরি করেছি আমি; আর মারটা খেলো মেজদি।
আহা! সেদিন মেজদিটার জন্য আমার বড্ডো মায়া লেগেছিল।
মেজদি ও আমি, মায়ের ন্যাওটা, কিন্তু এঁড়েবাছুরের মতোই দুরন্ত,
কখনো অবাধ্য কখনো একান্ত সহায়।

ভাবলাম আজ মাকে নিয়ে কয়েকটি পংক্তি রচনা করবো।
কলমটা খুঁজে পেতে ঘরে ঢুকতেই দেয়ালে মায়ের প্রসন্ন মুখ,
বললেন, খোকা তোর কলমে কালি নেই, তুই অযথাই পংক্তি
মেলাতে যাসনে। এইতো আমি আছি, তুই বরং একবার পদ্মায়
ডুব দিয়ে আয়। অনেক-দিন তোকে ছুঁতে পারি না।

পদ্মার ভাঙনে আমাদের গ্রাম পতনের পর মানুষের
স্থায়ী আসন কবর থেকে আমার মায়ের মমির মতো লাশটাকে
বড়দা পদ্মায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। সেই থেকে
আমার মা পদ্মার জলে মিশে আছেন। পদ্মা আমার
মা। ওই জলে আমার জীবন জুড়ায়।

[ad#co-1]