প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াই মাওয়া থেকে তিন রুটে চলছে অবৈধ লঞ্চ

মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট-৪
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়া থেকে পদ্মায় তিনটি নৌরম্নটে প্রতিদিন ৮১টি লঞ্চ চলাচল করছে। এর মধ্যে অধিকাংশ লঞ্চেরই নেই কোন ফিটনেস, রম্নট পারমিট, জীবন রক্ষাকারী লাইফ বয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ঈদকে সামনে রেখে এসব লঞ্চে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ অতি পুরনো। আর অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষকে মৃতু্যমুখে নিয়ে গেলেও লঞ্চ মালিক ও কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এসব ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধে যাদের কাজ করার কথা সেই বিআইডবিস্নউটিএ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন দেখা গেছে। বিআইডবিস্নউটিএ’র নাকের ডগায় এসব অবৈধ লঞ্চ চলাচল করলেও এগুলো বন্ধের ব্যাপারে কখনও কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশিস্নষ্ট বন্দর কর্তকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ লঞ্চ মালিকরা একটা নিয়মিত মসোহারা দিয়ে থাকে বলে দায়সারা গোছের একটি রিপোর্ট দিয়ে এসব রম্নট পারমিটবিহীন লঞ্চগুলো এ সকল নৌরম্নটে নির্বিঘ্নে চলাচলে সুযোগ করে দিচ্ছে।

মাওয়া থেকে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ী ও চরজানাজাত এবং শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝি এ তিনটি নৌ-রম্নটে মৃতু্যঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মায় পাড়ি দিচ্ছে ফিটনেস ও রম্নটপারমিটবিহীন এ সকল অবৈধ লঞ্চ। বিআইডবিস্নউটিএর বন্দর সূত্রে জানা যায়, মাওয়া থেকে কাঠালবাড়ী, চরজানাজাত ও মঙ্গল মাঝি নৌ-রম্নটে প্রতিদিন ৮১টি লঞ্চ চলাচল করছে। এর মধ্যে সার্ভে আছে ৪১টির, রম্নটপারমিট আছে মাত্র ১২টির। এসব অবৈধ লঞ্চ দিয়ে প্রতিদিন মৃতু্যঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার লক্ষাধিক যাত্রী। অপরদিকে এসব রম্নট পারমিটবিহীন ও সার্ভে সনদ ছাড়া এ নৌযানগুলো চলাচল করায় সরকার প্রতিবছর প্রায় ১১ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সূত্র জানায় নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি লঞ্চ চলকদের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ থাকা আবশ্যক। প্রতি ৪ জন যাত্রী প্রতি একটি করে লাইফ বয়া অর্থাৎ ১৫০ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন লঞ্চে ৩৭টি বয়া প্রয়োজন। কিন্তু অধিকাংশ লঞ্চ মালিক ও চালকরা প্রয়োজনীয় লাইফ বয়া ছাড়াই ১৫০ থেকে ১৭০ জন যাত্রীর স্থলে ওভার লোডিং করে ৩শ’ থেকে ৩শ’ ৫০ জন যাত্রী নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। বন্দর সূত্রে জানা যায়, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই পরিলক্ষিত হলে বন্দর কর্মকর্তা লঞ্চ মালিকদের কিছু বলতে গেলে বন্দর কর্মকর্তাকেও লঞ্চ মালিক দ্বারা লাঞ্চিত হতে হচ্ছে। যাত্রীদের যানমাল নিরাপত্তার দায়িত্বে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের কোন কর্মকা- পরিলক্ষিত হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে ফিটনেস ও সার্ভে সনদবিহীন অবৈধ লঞ্চের বিরম্নদ্ধে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর হতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলে লঞ্চগুলো তাদের প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম, সার্ভে ও সময়সূচী নিয়ে চলাচল করত। তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করে। এ ব্যাপারে মাওয়া নদী বন্দরের কর্মকর্তা বাবুলাল বৈদ্য জানান, বহুবার চিঠিপত্র ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চের বিরম্নদ্ধে মেরিন কোর্ট কেস দেয়ার পরেও লঞ্চ মালিকরা তাদের উদাসিনতার কারণে লঞ্চগুলো সার্ভে সনদ ও সময়সূচী নিয়ে চলাচল করছে না।

[ad#co-1]