শুরু বিরক্তির ঈদ যাত্রা

মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুট
ঝামেলা ও দুর্ভোগ এড়াতে অনেকেই ঈদের আগেভাগে ছুটছেন বাড়ির উদ্দেশে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের মাওয়া-কাওরাকান্দি রুট দিয়ে এ বছর স্বজনদের সানি্নধ্য পেতে ১২ লক্ষাধিক মানুষ ঈদ আনন্দে শামিল হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঈদ সামনে রেখে লাখ লাখ যাত্রীকে বাড়তি ভাড়াসহ হাজারো ঝক্কি সামলে ফিটনেসবিহীন নৌযানে অতিরিক্ত বোঝাই হয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে পদ্মা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পেঁৗছতে হবে।

বিআইডবি্লউটিএ, বিআইডবি্লউটিসি, যাত্রীবাহী বাস সংস্থা, বিভিন্ন নৌযান ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটে ঈদের আগের পাঁচ দিন ঢাকার গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী থেকে সাতটি সরাসরি বাস, সংস্থার তিন শতাধিক বাস এবং ছয়টি লোকাল সংস্থার দুই শতাধিক বাসসহ হাজার হাজার যানবাহন ছেড়ে আসবে। অন্যদিকে মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটে, দুটি রো রো ফেরি, ছয়টি ডাম্ব ফেরি, দুটি কে-টাইপ ফেরি ও দুটি মিডিয়াম ফেরিসহ ১৪টি ফেরি, ৮১টি ছোটবড় লঞ্চ, চার শতাধিক স্পিডবোট ও শতাধিক ট্রলার চলবে। এর মধ্যে ২৫টি লঞ্চ, তিন শতাধিক স্পিডবোট ও শতাধিক ট্রলারের ফিটনেস নেই। লঞ্চগুলোতে কিছু কিছু বয়া দেখা গেলেও বাকি নৌযানগুলোয় তা নেই। ফলে এবারের ঈদে লাখ লাখ যাত্রী চরম ঝুঁকির মধ্যে পদ্মা পাড়ি দেবে। তাদের গুনতে হবে নির্ধারিত ভাড়ার অন্তত দেড়গুণ বেশি। পদ্মা পার হওয়ার পর কাওরাকান্দি থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস-মাইক্রোবাসসহ আঞ্চলিক যানবাহনগুলো অন্য প্রান্ত থেকে যাত্রীশূন্য আসার অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে।

এদিকে স্বল্প দূরত্বের হাজরা চ্যানেলটির ড্রেজিং কাজ স্রোতের কারণে আবারও ২০ আগস্ট বন্ধ হওয়ায় এটি ঈদের আগে আর খোলার সম্ভাবনা নেই। এর আগে নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে প্রথমে হাজরা চ্যানেলটি গত ৯ জুলাই বন্ধের পর চালু হওয়া মাগুরখণ্ড-নাওডোবা চ্যানেলটি ১৬ আগস্ট বন্ধ হওয়ায় এবং সংলগ্ন মূল পদ্মায় ডুবোচর জেগে ওঠায় প্রায় সাড়ে ২২ কিলোমিটার ঘুরে ফেরি চলছিল।

শিবচরের কাওরাকান্দি ও লৌহজংয়ের মাওয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মাওয়া ঘাট এলাকার সংযুক্ত সড়কগুলোয় যত্রতত্র যাত্রীবাহী বাস যাত্রী ওঠানামার কাজ করানোয় এখনই পরিস্থিতি নাজুক। কাওরাকান্দি ২ নম্বর ফেরিঘাট, লঞ্চ-স্পিডবোট ঘাট সংযুক্ত সড়কটি রয়েছে বেবি, টেম্পো ও বাসের দখলে। মাওয়া লঞ্চঘাটের পন্টুন বন্ধনের স্পারটি রয়েছে ভাঙন দশায়। লঞ্চ পন্টুনের একমাত্র সিঁড়িটির হাতল নেই, অন্যটি অকেজো। উভয় ফেরিঘাটে যানবাহনে চলছে চাঁদাবাজি। অস্বাভাবিক হারে পানি বাড়ায় মাওয়া ঘাটে লঞ্চ, ফেরি, স্পিডবোট ভিড়তে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।

মাওয়া নৌবন্দর কর্মকর্তা বাবুলাল বৈদ্য বলেন, ‘রুটটিতে এখন কিছুসংখ্যক লঞ্চে অসুবিধা আছে। তবে তিন শতাধিক স্পিডবোট ও শতাধিক ট্রলারের কোনো ফিটনেস নেই। এগুলোর মালিক স্থানীয় হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। ফলে বয়াবিহীন এ নৌযানগুলো ঈদে গভীর রাত পর্যন্ত চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করবে। রাতে রুটটির নৌপথে কোনো পুলিশ পাহারা না থাকায় নৌযানগুলো সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকবে।’

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (ফেরিচালকদের সংগঠন) সভাপতি ইদ্রিস সিরাজী বলেন, ‘ক্রস চ্যানেলটি গত মাসে বন্ধের পর ফেরিগুলো কাওলিয়ার চর ঘুরে চলছে। সম্প্রতি পানি বাড়ায় দূরত্ব কিছুটা কমেছে। তবে নদীতে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশক মার্কিং না থাকায় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।’ এ ব্যাপারে আইডবি্লউটিএর উপপরিচালক আ. ছালাম বলেন, ‘লঞ্চের পন্টুনগুলোর সমস্যার ব্যাপারে আমরা উপরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আর নদীতে স্রোত থাকায় মার্কিং বা ড্রাম অনেক সময়ই স্থানান্তরিত হয়। তবে বিআইডবি্লউটিএ প্রতিদিনই মার্কিংসহ দিকনির্দেশক বসাচ্ছে।’

বিআইডবি্লউটিএর মেরিন কর্মকর্তা আ. সোবাহান বলেন, ‘গত দুই মাসে নাব্যতা সংকটে নৌপথটির দূরত্ব অনেক বেড়েছে। তবে উজান থেকে অব্যাহতভাবে পানি নেমে আসায় এবং ভরা কাটালের প্রভাবে ঈদে রুটটির দূরত্ব ২০ কিলোমিটারের মতো থাকবে।’

বিআইডবি্লউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং বিভাগ) মো. মাশুকুল হক বলেন, ঈদের পরে ছাড়া ক্রস চ্যানেলে ড্রেজিং করা সম্ভব নয়। তবে পদ্মায় পানি বাড়ায় রানিং চ্যানেলের চেয়ে দূরত্ব এখন বেশ কিছুটা কমেছে।
বিআইডবি্লউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মাওয়া জোন) মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ঈদে ১২ লক্ষাধিক যাত্রী এ রুটে যাতায়াত করবে। বর্তমানে ১২টি ফেরি চলছে। আরো দুটি ফেরি আসবে।

[ad#co-1]