মুন্সিগঞ্জে গ্যাস সঙ্কট

গ্যাস সঙ্কটে রোজাদারদের ঘরে ইফতার তৈরী এখন বন্ধ প্রায়। খড়ি বা তেলের চুলোয় কোন কোন বাসায় ইফতার তৈরী হলেও বেশীর ভাগই কেনা ইফতারীতে কোনক্রমে পাড় করছে। তাই মুন্সিগঞ্জ শহরবাসী ত্যাক্ত-বিরক্ত। স্বয়ং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান বলেন,যখনই ইফতারী তৈরীর জন্য বাসায় চুলো জ্বালাতে যায়,গ্যাস আসে না। আগে পড়ে কমবেশী গ্যাস থাকলেও ঠিক ইফতারীর তৈরীর সময়টায় থাকে গ্যাস শূন্য। এব্যাপারে তিতাস গ্যাস কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি)আব্দুল আজিজ খান বলেছেন, বিগ ডিমান্ড হচ্ছে এই মুহুর্তটি,সবাই রান্না বান্না নিয়ে ব্যস্ত। আবার তখন বিদ্যুত কেন্দ্রেরও গ্যাসের চাহিদা বেশী। তাই তখন স্বল্প চাপ দেখা দেয়। তিনি জানান,মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের শোচনীয় অবস্থা। সিলেট থেকে আশুগঞ্জ হয়ে বিশাল এলাকা পাড়ি দিয়ে এই দু’জেলায় গ্যাস পৌছতে চাপ কমে যায়। এর উপর পথে বিপুল সংখ্যক ইনডাস্ট্রিজ। তাই গৃহিনীদের চুলোয় গ্যাস পৌছা কঠিন।

এমডি জানান,পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত নতুন গ্যাস সরবরাহের পাইপ স্থাপনের পর অবস্থার উন্নতি হওয়া কথা ছিল। কিন্তু মুক্তারপুর থেকেই শাহ সিমেন্ট,প্রিমিয়ার সিমেন্টসহ ৫টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাস নিয়ে নেয়ায় মুন্সীগঞ্জ শহর পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ছে। উৎপাদন ও ট্রান্সমিশন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা না গেলে অবস্থার উন্নতির সম্ভবনা নেই। এই বিয়ে আরেক গ্যাস বিশেষঞ্জ জানান,গ্যাস নিয়ে যেভাবে সাধারণের রান্না বান্না বন্ধ থাকায় সরকারের উপর বিরক্ত হচ্ছে । তা অবসানের জন্য এই এলাকার সংসদ সদস্যের উদ্যোগ গ্রহন জরুরী। প্রয়োজনে এই সময়য়ে এই শিল্পকারখানাগুলোর গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করেত হবে। কারণ এই নতুন গ্যাস লাইনটি স্থাপন করা হয়েছে সাধারণের জন্য। শিল্পকারখানাগুরোর আগের মতই গ্যাস ছাড়াও তাদের কর্মকান্ড চালাতে পারে। কিন্তু বেশী মুনাফার জন্য গ্যাসের চাপ কম সত্ত্বেও টেনে নিচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের মুন্সিগঞ্জ অফিসের ম্যানেজার মাধব চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গ্যাসের চাপ যেখানে দেড় শ’ পাউন্ড থাকার কথা,আছে মাত্র এক পাউন্ড। মুন্সিগঞ্জে ৪০ লাখ ঘন মিটার গ্যাস প্রয়োজন। চাপ এত কম ম্যাজারমেন্টই করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় মুন্সিগঞ্জে গ্যাস চালিত শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বাস্তবতা হচ্ছে অনেকেই গ্যাসের চুলো ছেড়ে এখন রান্না করছে খড়ি বা কেরোসিনের চুলোয়। এই নিয়ে গৃহিনীদের বিরক্তির যেন শেষ নেই। মফস্বল শহর মুন্সিগঞ্জে এখন সবরচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এই গ্যাস সঙ্কট সমস্যা। গ্যাসের চুলোয় রান্না করতে অভ্যস্ত গৃহিনীরা এখন আর খড়ির চুলো একেবারেই অপছন্দ। শুধু গৃহিনীদেরই সমস্যা নয় সময়মত রান্না না হওয়ার কারণে অনেক সমস্যাই হচ্ছে এখানে। আর অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তবে জেলা শহরের এই গ্যাস লাইনের মুখে চরমুক্তারপুরের কিছু শিল্পকারখানা চোরাই গ্যাস ব্যবহারের কারণেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানে আবাসিক প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ও ৪৫ টি শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ রয়েছে। তথ্য দিয়ে ব্যবস্থাপক জানান,নানাসব সমস্যা ছাড়াও রিজার্ভ কম এবং ম্যান লাইনের চাপ কম থাকায়ই মুন্সিগঞ্জে সমস্যা হচ্ছে।

মালপাড়ার গৃহিনী মিসেস শাহানাজ বেগম জানান, গ্যাসের অভাবে যে কি পরিমান কষ্ট হয় ভাষায় বর্ণণা করা যাবে না। রোজায় ইফতারী নিয়ে সবারই একটা আশা থাকে। কিন্তু এবার নিরাশা করেছে এই সরকার। লোকজন সরকারের উপর চরম বিরক্ত।

শিক্ষিকা মানিকপুরের রিনা বেগম জানান, গ্যাস না থাকায় অনেক কিছুই সম্ভব হয় না। তাই বাইরে থেকেও খাবার কিনে আনতে হয়। কোর্টগাঁওয়ের দেলোয়ারা বেগম জানান,গ্যাসে রান্না করে অভস্ত হয়েগেছি। এখন তেলে চুলো বা খড়িরর চুলোয় রান্না করা কঠিন। আবার ঘরে কালি ও দাগ পড়ারর সমস্যাতো রয়েছেই।

ওপারের সিমন্টে ফ্যাক্টরীসহ ভাড়ি শিল্পকারখানার কারণে মুক্তারপুর ব্রিজের পূর্ব প্রান্তের শিল্পকারখানাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মুক্তারপুর শিল্পপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ হাবিবুর রহমান জানান,গ্যাসের অভাবে এপারে উৎপাদন এখন শূন্যর কোঠায়। ধলেশ্বরীরর দক্ষিণপ্রান্তের পঞ্চসারের লোকজনও গ্যাস সঙ্কটে কষ্ট পাচ্ছে।

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। ০১৯১১১৪২৬৭০
০৩.০৯.১০

[ad#co-1]