মাওয়ায় তীব্র যানজট

মাঝ নদীতে যাত্রী বাহী ফেরি আটক ॥ ১০ কি.মি. ঘুরে ৪ ঘন্টা পর নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু ঃ ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
গতকাল শুক্রবার মাওয়া-চরজানাজাত(কাওড়াকান্দি) নৌ রুটে নাব্যতা সংকটে মাঝ পদ্মায় পরিবহন ও যাত্রীসহ দুটি রো রো ফেরি আটকা পড়ে। একটি ফেরি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্ধার তৎপড়তা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে ফেরিটি চ্যানেলের মুখে আটকা থাকায় ও চ্যানেলে পানি স্বল্পতার কারণে চ্যানেলটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা পর ১০ কি. মি. অতিরিক্ত পথ ঘুরে নতুন চ্যানেল দিয়ে শুরু হয়েছে ফেরি চলাচল। এতে আগের থেকে এক ঘন্টা সময় লাগছে বেশি। ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে এখানে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল পৌনে আটটার দিকে মাওয়া থেকে ৪ কি. মি. দূরে সোজা চ্যানেল কাওলিয়ারচর-হাজরা চ্যানেলে রো রো ফেরি ভাষা শহীদ বরকত নাব্যতা সংকটে চ্যানেলের মুখে আটকে যায়। চরজানাজাত(কাওড়াকান্দি) ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ওই ফেরিটিতে এসময় ১৫ টি ট্রাক ৫ টি ছোট গাড়ীসহ ২০/২২টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ছিল। অপর দিকে একই সময় একই স্থানে আরেকটি রো রো ফেরি শাহ মখদুম ডুবোচরে আটকা পড়লেও কিছুক্ষনের মধ্যেই তা উদ্ধার করা হলেও ভাষা শহীদ বরকত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভম হয়নি। বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার আঃ সোবাহান জানান , ফেরিটি উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ২০ কি.মি.দূরত্বের এই চ্যানেলটিতে বর্তমানে ৫ থেকে ৭ কি.মি পানি রয়েছে। চ্যানেল দিয়ে রো রো ফেরির পারপারে সময় লাগে ২ ঘন্টা আর ছোট ফেরিগুলো ৩ ঘন্টার আগে পৌছতে পারে না । বিআইডব্লিটিসির মাওয়া ফেরি সার্ভিস কর্তৃপক্ষ দুপুর ১২ টার দিকে এ চ্যানেলটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছে।

এদিকে ৪ ঘন্টা পর প্রায় একই সময়ে নতুন চ্যানেল মাওয়া-কবুতরখোলা-কাওলিয়ারচর-চরজানাজাত দিয়ে রো রো ফেরি শাহ মখদুম ও ফেরি রানীগঞ্জ নামের দুটি ফেরি মাওয়া থেকে চরজানাজাত উদ্দেশে ছেড়ে গেলে নতুন এই চ্যানেল দিয়ে দুপুরের পরে ফেরি পারাপার আবার চালু হয়েছে। এ চ্যানেল দিয়ে রো রো ফেরিতে মাওয়া থেকে চরজানাজাত পৌছতে সময় লাগছে আগের থেকে এক ঘন্টা বেশি। অর্থাৎ রো রো ফেরি ৩ ঘন্টায় ও ছোট ছোট ফেরিগুলো চার ঘন্টায় মাওয়া থেকে চরজানাজাত গিয়ে পৌছছে বলে বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া অফিসের ম্যানেজার (বানিজ্য) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর মাওয়া অফিসের উপপরিচালক আঃ সালাম জানান, আগের চ্যানেলে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ সেন্টি মিটার পানি হ্রাস পাওয়ায় এ চ্যানেলটিতে নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। যা দিয়ে ফেরি চলাচল দূরহ হয়ে পড়লে এ চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। দুপুর ১২ টার দিকে মাওয়া থেকে প্রথমে উপরে গিয়ে কবুতরখোলা হয়ে আবার নিচের দিকে কাওলিয়ার চর হয়ে ফেরিগুলো আবার উপরের দিকে চরজানাজাতের দিকে চলাচল করছে। এতে পূর্বের থেকে প্রায় ১০ কি. মি. পথ অতিরিক্ত ঘুরে ফেরিগুলোকে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়ও লাগছে আগের থেকে এক ঘন্টা বেশি।

এদিকে বর্তমান নতুন চ্যানেলে সময় এক ঘন্টা বেশী লাগায় মাওয়া-চরজানাজাত নৌরুটে ফেরির ট্রীপ সংখ্যা কমে গেছে। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে এখানে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট ফেরি কর্তৃপক্ষ । বিপর্যয় এড়াতে এখানে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া যানজটে আটকা পড়ে গতকাল এখানে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এ আবস্থা চলতে থাকলে কয়েক বছর আগের ন্যায় এবারও মাওয়া ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের নামাজ পড়তে হতে পাড়ে বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী।

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। ০১৯১১১৪২৬৭০
০৩.০৯.১০

[ad#co-1]