বদরুদ্দোজা চৌধুরী কি রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন!

সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনীতিতে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থেকে রাজনীতি-ঘনিষ্ঠদের সামনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়ে চলেছেন। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনরা তার এই নিষ্ক্রিয়তাকে রহস্যজনক হিসাবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, সামগ্রিক বিচারে বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাজনীতির প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে দূরত্ব বজায় রাখছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হিসাবে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অন্যতম বিশ্ব¯Í রাজনৈতিক সহচর। বিএনপির শুরু থেকে দলের জন্য বদরুদ্দোজা চৌধুরীর অবদান সে সময় সব মহলে প্রশংসিত হয়। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আকণ্ঠ নিমগ্ন থেকে বিএনপির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন তিনি। পিতা কফিলউদ্দিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য হওয়া সত্ত্বেও বদরুদ্দোজা চৌধুরী জিয়াউর রহমানের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রমেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যান। বিএনপির নানা দুর্যোগকালে তিনি শক্ত হাতে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তৃণমূলসহ কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন নেতায় পরিণত হন। জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের পর এরশাদের সামরিক শাসন ও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। কেউ কেউ মনে করেন, বিএনপির রাজনীতিতে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশেরও সূচনা হয় তার হাত ধরে। তিনি রাজনৈতিক ক্লাস নিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে শিক্ষিত করে তোলেন।

২০০১-এর নির্বাচনপূর্ব ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি চারদলীয় জোটকে নির্বাচনে জিতিয়ে আনতে একটি সহায়ক ভুমিকা পালন করে। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের ভেতর ব্যাপক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বমহলে বিশ্বস্ত ও দলের ত্যাগী নেতা হিসাবে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে দেশের ১৬তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।
গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতিকে দল ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে হয় বিষয়টি উপলব্ধি করে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমাণে তৎপর হয়ে ওঠেন।

সংবিধানের ৪৮ (২) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন। এই সংবিধান ও অন্য কোনো আইনের দ্বারা তাকে প্রদত্ত ও তার ওপর অর্পিত সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার মাজারে না গিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দলের ভেতর তীব্র সমালোচনার মধ্যে পতিত হন। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পক্ষ থেকে তখন এ ব্যাপারে জানানো হয় মাজারে যাওয়ার বিষয়টি সরকারি বা মন্ত্রিপরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত নয় যে, রাষ্ট্রপতিকে সেখানে যেতে হবে। রাষ্ট্রপতি হিসাবে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে যোগদান না করাই তার জন্য উত্তম।

বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে তিনি বরাবরই উদারপন্থি হিসাবে পরিচিত। কট্টরপন্থিরা রাষ্ট্রপতির মাজারে না যাওয়ার বিষয়টিকে ইস্যু করে চেয়ারপারসনকে তার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলে। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে চেয়ারপারসনকে এই খেপিয়ে তোলার পেছনে তখন ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি অসীম ক্ষমতাধর মহল উঠেপড়ে লেগেছিল। ফলে জরুরি বৈঠক করে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিএনপির সংসদীয় কমিটির সভায় রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। জনশ্রæতি রয়েছে তখন হাওয়া ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আর বঙ্গভবন এই তিন জায়গায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভ‚ত থাকত। কট্টরপন্থিদের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে পরাজিত হয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিছুদিন নিজের মতো গুটিয়েছিলেন। রোগী দেখা, মুন্সীগঞ্জের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন তিনি। বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলেও মানুষের কথা ভেবে গঠন করলেন বিকল্পধারা। চেয়ারম্যান হিসাবে থাকলেন তিনি। মহাসচিব করলেন মেজর (অব.) আবদুল মান্নানকে। সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন সাংসদ মাহী বি চৌধুরীসহ অনেকে। বিএনপি স্বাভাবিকভাবেই সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। সে সময় দলীয়ভাবে অনেক হয়রানি, ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল তাদের। বিকল্পধারার মিছিলে সরকার দলের সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে হোন্ডা তুলে দেওয়া, মাইক কেড়ে নেয়া এমনকি নেতাকর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত পর্যন্ত হতে হয়েছিল। মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের শিল্প প্রতিষ্ঠানে হামলা করে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। চারদলীয় জোটের শেষ সময়ে এসে বিকল্পধারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগ দেয়। এ সময় এরশাদ, বি চৌধুরীসহ চৌদ্দ দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি চারদলীয় ঐক্যজোটের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানে চলে গিয়েছিল। তখন বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহী বি চৌধুরী দলের মুখপাত্র হিসাবে মহাজোটে তাদের অবস্থানকে রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

চারদলীয় জোটের পতনের পর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্পধারা নিজের ঘর গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকে। ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির অঙ্কে বিকল্পধারা ভুল করে বসে। ফলে মহাজোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে তারা নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। বিকল্পধারার একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, মূলত বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে মাহী বি চৌধুরীর রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার জন্য বিকল্পধারা ২০০৮-এর নির্বাচনে গো-হারা হারে। বিকল্পধারার ব্যানারে বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ দলের সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। নির্বাচনী ফলে হতাশ হয়ে পড়েন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পরিসমাপ্তি ঘটে।

নির্বাচনের পর মহাজোট ক্ষমতায় গেলে বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কর্মকান্ড স্তিমিত হতে থাকে। দলীয় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচনে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব দেখিয়ে তহবিল সংগ্রহ ও মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ ওঠে মাহী বি চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ কারণ দেখিয়ে দলীয়ভাবে মাহী বি চৌধুরীও পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতি থেকে মুখ ঘুরিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণে। এসব দেখে রাজনীতিতে অনাগ্রহী হয়ে দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান তার ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। ফলে বিকল্পধারা নেতৃত্বহীন হয়ে ভিন্নপথে যাত্রা শুরু করে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেতৃত্বশূন্যতার কারণে বর্তমান বিকল্পধারা অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে। ভুগছে দলীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বর্তমান দলীয় কর্মকান্ডের চেয়ে বেশি দেখা যায় শোকসভা, স্মরণসভা, মিলাদ মাহফিল আর গোলটেবিল এ জাতীয় অনুষ্ঠানে। দলের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রধানের এ ধরনের অরাজনৈতিক কর্মকান্ডে হতাশ।

বিকল্পধারার একটি সূত্র জানায়, দলটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক অস্তিত্ব-সঙ্কটে ভুগছেন। সূত্রটি আরো জানায়, দলের ব্যাপারে চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে মহাজোট থেকে সরে এসে দলকে এক অনিশ্চিত আর বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলে দেন। নির্বাচনে হেরে চেয়ারম্যান তার ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করার নাটকীয় ঘোষণা দিলে দলের ভেতরে পদ-পদবি নিয়ে গ্রুপিং-লবিং শুরু হয়ে যায়। বিকল্পধারা ভাঙনের মুখে পড়ে। দলের পক্ষে এসবের সামাল দিতে তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে পদত্যাগ থেকে সরিয়ে আনা হয়।

বিকল্পধারার প্রভাবশালী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শুরু থেকেই মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের সঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ছিল। সব ব্যাপারে মাহী বি চৌধুরীর খবরদারির ব্যাপারটিও মহাসচিব অপছন্দ করতেন। নির্বাচনে মনোনয়ন-বাণিজ্য নিয়ে একাধিকবার মাহী বি চৌধুরীর সঙ্গে মহাসচিবের বাগ্বিতন্ডা হয়। দলীয় প্রধানের পুত্র হওয়ার কারণে সে সময় মাহী বি চৌধুরী মহাসচিবের কোনো কথায় গুরুত্ব দিতেন না। এক পর্যায়ে অভিমান করে মহাসচিব দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখেন।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয় সময় ও সুযোগ এলে এ ব্যাপারে তিনি কথা বলবেন। তিনি এখন ব্যস্ত। মাহী বি চৌধুরীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাবা ব্যস্ত আছেন। তার সঙ্গে কথা বলে আপনাকে জানাব। বিকল্পধারা রাজনৈতিকভাবে ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে কিনা? জানতে চাওয়া হলে মাহী বি চৌধুরী ২০০০কে জানান, সময় এলেই আমরা জনসাধারণের সামনে আমাদের কর্মসূচি তুলে ধরব। এ ক্ষেত্রে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে বিকল্পধারার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঈদের পর সরকারের যাবতীয় ব্যর্থতাকে জনগণের সামনে তুলে ধরে রাজপথে নামবে। জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিকল্পধারা তথাকথিত বিরোধী দলগুলোর মতো বিধ্বংসী কর্মকান্ডে অংশ নেবে না।

বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৮-এর নির্বাচনে ভরাডুবির ফলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নির্বাচনে ভোটাররা তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিলে গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হন। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, নির্বাচনের পর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে তিনি অস্বীকারও করতে পারছেন না। আবার সহজভাবে তা মেনেও নিতে পারছেন না। ফলে তিনি একটা দোটানার মধ্যে পড়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

রাজনীতি বিশেøষকরা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর এই রাজনীতি-বিচ্ছিন্নতাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা জানান, অতীতে দুই মূল রাজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে যেমন অনেক বাঘা বাঘা নেতাকে ধরাশায়ী হতে হয়েছে বদরুদ্দোজা চৌধুরী তার বাইরে নন। সুতরাং তাকেও সেই একই পরিণতি বরণ করতে হবে। বিশেøষকরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট থেকে বেরিয়ে না এলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাজনীতিতে আরো কিছুদিন নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারতেন। রাজনীতি বিশেøষকরা আরো জানান, বিকল্পধারার রাজনীতি আপাতদৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেছে এ কথা বলা যাবে না। তবে চেয়ারম্যান হিসাবে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ব্যর্থ হয়ে নিজের অস্তিত্বকে জানান দেওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের শোকসভা, মিলাদ-মাহফিল, স্মরণসভা কিংবা সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের গোলটেবিলে অংশ নেন। বিশেøষকরা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নিশ্চুপ থাকার বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিতে দেখার প্রয়াস পেয়েছেন। তারা বলছেন, প্রকৃত রাজনীতিবিদদের সার্বক্ষণিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে হয়। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকার মানে হলো রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়া। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী সম্ভবত সেই পথেই হাঁটছেন।

মাহবুব রেজা

সাপ্তাহিক ২০০০

[ad#co-1]