মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কটে বাসায় ইফতারি তৈরি হচ্ছে না!

গ্যাস সঙ্কটে রোজাদারদের ঘরে ইফতার তৈরি এখন বন্ধ প্রায়। খড়ি বা তেলের চুলোয় কোন কোন বাসায় ইফতার তৈরি হলেও বেশির ভাগই কেনা ইফতারিতে কোনক্রমে পার করছে। তাই মুন্সীগঞ্জ শহরবাসী ত্যক্ত-বিরক্ত। স্বয়ং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান বলেন, যখনই ইফতারি তৈরির জন্য বাসায় চুলো জ্বালাতে যায়, গ্যাস আসে না। আগে পরে কমবেশী গ্যাস থাকলেও ঠিক ইফতারির তৈরির সময়টায় থাকে গ্যাসশূন্য। এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আব্দুল আজিজ খান বুধবার বিকালে বলেছেন, বিগ ডিমান্ডই হচ্ছে এই মুহূর্তটি সবাই রান্না বান্না নিয়ে ব্যসত্ম। আবার তখন বিদু্যত কেন্দ্রেরও গ্যাসের চাহিদা বেশি। তাই তখন স্বল্প চাপ দেখা দেয়। তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের শোচনীয় অবস্থা। সিলেট থেকে আশুগঞ্জ হয়ে বিশাল এলাকা পাড়ি দিয়ে এই দু’জেলায় গ্যাস পেঁৗছতে চাপ কমে যায়। এর উপর পথে বিপুল সংখ্যক ইনডস্ট্রির। তাই গৃহিণীদের চুলোয় গ্যাস পেঁৗছা কঠিন।

এমডি জানান,পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যনত্ম নতুন গ্যাস সরবরাহের পাইপ স্থাপনের পর অবস্থার উন্নতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মুক্তারপুর থেকেই শাহ সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্টসহ ৫টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাস নিয়ে নেয়ায় মুন্সীগঞ্জ শহর পর্যনত্ম গ্যাস পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ছে। উৎপাদন ও ট্রান্সমিশন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা না গেলে অবস্থার উন্নতির সম্ভবনা নেই। অবসানের জন্য এই এলাকার সংসদ সদস্যের উদ্যোগ গ্রহণ জরম্নরী। প্রয়োজনে এই সময়ে এ শিল্পকারখানাগুলোর গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করেত হবে। কারণ এই নতুন গ্যাস লাইনটি স্থাপন করা হয়েছে সাধারণের জন্য। শিল্পকারখানাগুলোর আগের মতোই গ্যাস ছাড়াও তাদের কর্মকা- চালাতে পারে। কিন্তু বেশি মুনাফার জন্য গ্যাসের চাপ কম সত্ত্বেও টেনে নিচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের মুন্সীগঞ্জ অফিসের ম্যানেজার মাধব চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গ্যাসের চাপ যেখানে দেড় শ’ পাউন্ড থাকার কথা, আছে মাত্র এক পাউন্ড। মুন্সীগঞ্জে ৪০ লাখ ঘন মিটার গ্যাস প্রয়োজন। চাপ এত কম মেজারমেন্টই করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় মুন্সীগঞ্জে গ্যাস চালিত শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তবে জেলা শহরের এই গ্যাস লাইনের মুখে চরমুক্তারপুরের কিছু শিল্পকারখানা চোরাই গ্যাস ব্যবহারের কারণেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চরমুক্তারপুরের মদিনা ডাইং প্রিন্টিং এন্ড প্রসেসিংয়ের বিরম্নদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। সঠিক তদনত্মের মাধ্যমে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। সমপ্রতি ঢাকা থেকে আসার তিতাস গ্যাসের একটি বিশেষ টিম এই প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক মাধব চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে বকেয়া বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তবে ঢাকা থেকে ঐ টিমের কাগজপত্র আসলে বোঝা যাবে। তবে কি পরিমাণ গ্যাস চুরি হয়েছে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে বলা যাবে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে মদিনা ডাইং প্রিন্টিং এ্যান্ড প্রসেসিংয়ের মালিক এসকে বসাক দিপু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বকেয়া বিলের কারণেই লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। গ্যাস চুরির বিষয়টি সঠিক নয়। এখানে আবাসিক প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ও ৪৫টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ রয়েছে। তথ্য দিয়ে ব্যবস্থাপক জানান, নানা সমস্যা ছাড়াও রিজার্ভ কম এবং ম্যান লাইনের চাপ কম থাকায়ই মুন্সীগঞ্জে সমস্যা হচ্ছে। মালপাড়ার গৃহিণী মিসেস শাহানাজ বেগম জানান, গ্যাসের অভাবে যে কি পরিমাণ কষ্ট হয় ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। আজ ২১ রোজা যাচ্ছে এক রোজায়ও ছেলে মেয়েদের জন্য ইফতার রান্না করে খাওয়াতে পারিনি। রোজায় ইফতারি নিয়ে সবারই একটা আশা থাকে। কিন্তু এবার নিরাশা করেছে এই সরকার। লোকজন সরকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের ওপর চরম বিরক্ত। মুন্সীগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী মানুষের এসব সমস্যা সমাধান না করে বিদেশে থাকতেই বেশি পারদশর্ী বলে অভিযোগ করেন শহরের ইসলামপুর বাসিন্দা ছানু মিয়া। ওপারের সিমন্টে ফ্যাক্টরিসহ ভাড়ি শিল্পকারখানার কারণে মুক্তারপুর ব্রিজের পূর্ব প্রানত্মের শিল্পকারখানাও ক্ষতিগ্রসত্ম হচ্ছে। মুক্তারপুর মাস্টার ইন্ডাস্ট্রির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, গ্যাসের অভাবে উৎপাদন এখন অনেক কমে গেছে।

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল

[ad#co-1]