এক মেয়াদেই সোয়া ৮ বছর মেয়র

খোকার রেকর্ড
কাজী হাফিজ
পাঁচ বছরের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) মেয়র নির্বাচিত হলেও ইতিমধ্যে সোয়া আট বছর পার করে ফেলেছেন সাদেক হোসেন খোকা। আর এর মধ্য দিয়ে এ পদে এক মেয়াদে সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা অনুয়ায়ী আগামী ডিসেম্বর নাগাদ ডিসিসির নির্বাচন হতে পারে। অর্থাৎ আরো অন্তত তিন থেকে চার মাস মেয়র থাকছেন খোকা। এর আগে মোহাম্মদ হানিফ ঢাকার মেয়র হিসেবে এক মেয়াদে সোয়া ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দেশের অন্য কোনো সিটি করপোরেশনে এক মেয়াদে এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী টানা প্রায় ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করলেও তাঁকে পর পর তিনটি নির্বাচনে বিজয়ী হতে হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারে সাদেক হোসেন খোকা আরেকটি ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় আলাদা। বহুল আলোচিত ‘এক-এগারোর’ পর অন্য সব সিটি করপোরেশনের মেয়রকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করতে হলেও সাদেক হোসেন খোকাকে সেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি; যদিও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে তিনি এখনো মুক্ত নন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ এ বিষয়ে বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় দায়িত্ব পালন সিটি করপোরেশনের ভোটারদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণাও বটে। ভোটাররা তো পাঁচ বছরের জন্যই তাঁদের নির্বাচিত করেন। আমি মনে করি, যেদিন মেয়াদ শেষ হবে, সেদিনই নির্বাচিতদের দায়িত্ব ত্যাগ করে সরে যাওয়া উচিত। আবার তাঁরা চলে গেলে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করবে, সেটাও কাম্য হতে পারে না। যথাসময়ে নির্বাচন করে নির্বাচিতদের হাতেই দায়িত্ব দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, নির্বাচন কমিশন অনেক আগে থেকেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে আগ্রহী। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের সম্মতি মিলছে না। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব ধরনের এখতিয়ার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বদলে নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাঁচ বছরের জন্য মেয়রের দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ হানিফ। এরপর ১৯৯৯ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতায় তা থমকে যায়। সিটি করপোরেশনের সীমানাসংক্রান্ত মামলায় ঝুলে থাকে নির্বাচন। তখনকার সরকারও আইনি জটিলতা নিরসনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ২০০১ সালের অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এই আইনি জটিলতা নিরসনের ব্যবস্থা করে। ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল নির্বাচনে সাদেক হোসেন খাকা মেয়র নির্বাচিত হন। সে সময়রে আইন অনুয়ায়ী নবনির্বাচিতরা দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত মোহাম্মদ হানিফ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৫ মে। আইন অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১৪ মে সাদেক হোসেন খোকাসহ সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদপূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও আজও তা হয়নি।

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায় ইসি
নির্বাচন কমিশন বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তারা ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে চায়। নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বছরই এ নির্বাচন করতে হবে। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ নির্বাচন না হলে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাত দিতে পারছি না। অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঢাকা সিটির নির্বাচন নিয়ে কিছু বলছে না। আমরা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে বলতে হবে।’
এম সাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেক পোস্টার চোখে পড়ছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের কোনো পোস্টার যদি দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে।’

[ad#co-1]