নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে খাজনা নেয়া শুরু মুন্সীগঞ্জে

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক আজিজুল আলম আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টের কাঠগড়ায় ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে খাজনা গ্রহণ শুরু করেছেন। তবে সাধারণ ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এখনও খাজনা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। যারা নদী ভাঙ্গনের জমি খাজনা দেয়ার জন্য হাইকোর্টে রিট করেছিল তাদের কাছ থেকেই খাজনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ২৬ আগস্ট আদালত অবমানার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলমকে চার ঘণ্টা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন বিচারপতি এএইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের দ্বৈত বেঞ্জ। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এবং নিঃশর্ত ৰমা প্রার্থনার পর থেকেই জেলা প্রশাসক আজিজুল ইসলাম খাজনা গ্রহণ করছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে জেগে ওঠা চরভূমি নিয়ে আদি জমির মালিকগণ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

আইন অনুয়ায়ী ৩০ বছরের মধ্যে কোন চর জাগলে তা আদি মালিকানার কাছে চলে যায়। ১৯৯৪ সালের পর থেকে পদ্মা নদীর গর্ভে চলে যাওয়া বিসত্মীর্ণ এলাকা ছয় বছর পার হবার পরই আবার জেগে ওঠে। চর জেগে ওঠার পর থেকেই আদি মলিকেরা উক্ত জমির খাজনা গ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন। এমনকি স্থানীয় এমপি হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির মাধ্যমেও জেলা প্রশাসকের কাছে দাবী জানানো হয়। কিনত্মু জেলা প্রশাসক তাদের দাবিতে কোন কর্ণপাত করেননি। ফলে উক্ত জমির কয়েকজন মালিক চলতি বছরের ২ জুন বিচারপতি এএইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চে রিট দায়ের করেন। আদালত রিট আবেদন গ্রহণ করে। আদালত এ বিষয়ে রম্নল জারি করে। রম্নলে বলা হয় ত্রিশ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক কে খাজনা গ্রহণ করার পদৰেপ নিতে হবে। কিনুত্ম হাইকোর্টের এই আদেশ জেলা প্রশাসক না মানায় তাঁর বিরম্নদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়। উক্ত বেঞ্চ জেলা প্রশাসককে ২৬ আগস্ট সশরীরে আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়। জেলা প্রশাসক আদালতে ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন এবং নিঃশর্তভাবে ৰমাপ্রার্থনা করেন ও তাৎৰণিকভাবে আদালতের হুকুম তামিলের অঙ্গীকার করেন।সে দিন থেকেই চরের জমির মালিকেরা খাজনা দেয়া শুরম্ন করেছে। এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফকির মোঃ আব্দুল হামিদ এবং সাবেক উপনির্বাচন কমিশনার আ.স.ম আনোয়ারম্নজ্জামান মুকুল জানান, এলাকার জনগণ বহুদিন ধরে জেলা প্রশাসকের দ্বারপ্রানত্মে গিয়ে, এমনকি স্থানীয় এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির দাবি সত্ত্বেও জেলা প্রশাসক তাতে কর্ণপাত না করায় তাঁর বিরম্নদ্ধে আদালত অবমাননার মতো কঠিন পদৰেপ নিতে হয়েছে।

[ad#co-1]