মুন্সিগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি

মুন্সিগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি চলছে প্রকাশ্যেই। ট্রাক, বাস, টেম্পো, স্কুটারসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা সংগ্রহের জন্য ট্রাফিক পুলিশ ছাড়াও কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চাঁদা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত এসব কমিউনিটি পুলিশকে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা দেয়া হয় মজুরি হিসেবে। আবার পরিবহন সমিতির নামেও এরা চাঁদা তুলে থাকে। সরেজমিন জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ সদরে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদা সংগ্রহের মূল পয়েন্ট হচ্ছে মুক্তারপুর সেতুর ঢাল। অন্য পয়েন্টগুলো হলো- সিপাহীপাড়া চৌরাস্ত-ার মোড়, শহরের শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন চৌরাস্তার মোড়, মুন্সিরহাট, খাসেরহাট, চিতলীয়াবাজারসহ বিভিন্ন যানবাহন স্ট্যান্ড। এভাবে তোলা চাঁদা থেকে ট্রাফিক সার্জেন্ট আনোয়ার মাসে আয় করেন কয়েক লাখ টাকা। তিনি নিজেই এ অবৈধ টাকার লেনদেন করে থাকেন। তিনি অধিকাংশ সময়ে মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের ঢালে বসে থাকেন।

ক্যাপশন : এ ভাবেই চলছে মুন্সিগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি। ছবি (১) ট্রাক থেকে চাঁদা তুলছে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল কাইয়ুম, পাশে সিএনজি থামিয়ে চাঁদা নিচ্ছে পুলিশ সার্জেন্ট আনোয়ার। ছবি (২) সিএনজি চালক দর কষা-কষির পর কমিউনিটি পুলিশের পকেটে চাঁদার টাকা দিচ্ছে।

প্রতিদিন নগদে ও সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিক চাঁদা তার হাতে চলে আসে। মুক্তারপুর পয়েন্টে চাঁদা সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছেন ট্রাফিক কনস্টেবল আইয়ুব, নজরুল, ইউসুফসহ পাঁচ-ছয়জন। এ পয়েন্টে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ শহরে প্রায় ১০০টি রেন্ট-এ কার রয়েছে। নতুন কার নামলেই সার্জেন্ট আনোয়ার ভর্তি ফি বাবদ ৫০০ টাকা নেন। এছাড়া গাড়ি প্রতি মাসে ফি নেন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ লাইনে প্রতিদিন অন্তত এক হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে প্রথমে ভর্তি ফি আদায় করা হয় ৭০০ টাকা। পরে প্রতি মাসে প্রতি সিএনজি অটোরিকশা থেকে ২০০ টাকা আদায় করা হয়। মাসিক চুক্তি ছাড়া অন্য লাইনের সিএনজি অটোরিকশা মুক্তারপুরে এলেই ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয় চালককে। বিদেশ থেকে আসা লোকজন প্রাইভেট কারে বা মাইক্রোবাসে মুক্তারপুর পৌঁছলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। মালবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা বাবদ আদায় করা হয় এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। অন্যদিকে মাসিক চুক্তি হিসেবে মুক্তারপুর-মাকহাটি ও পুরনো বাসস্ট্যান্ড-চিতলীয়া রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ডিজেল গাড়ি থেকে সার্জেন্ট আনোয়ার পরিবহন শ্রমিক সমিতির মাধ্যমে যথাক্রমে আড়াই হাজার টাকা ও আড়াইশ টাকা পেয়ে থাকেন। লেগুনা গাড়ি থেকে মাসে পান আট হাজার টাকা। শহরে ট্রলি গাড়ি চলে ২৫ থেকে ৩০টি।

এ থেকে প্রতি মাসে ট্রলিপ্রতি পান ৮০০ টাকা। এ ছাড়া মুক্তারপুর স্ট্যান্ডে বেতকা-দীঘিরপাড় রুটের টেম্পোপ্রতি ২৫ টাকা, আড়িয়াল রুটের ডিজেল গাড়িপ্রতি ৩০ টাকা, টঙ্গীবাড়ি রুটের স্কুটারপ্রতি ১০ টাকা, বালিগাঁও রুটের লেগুনাপ্রতি ৩০ টাকা করে কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে। মুক্তারপুর স্ট্যান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ, পঞ্চবটি,পোস্তগোলা ও ঢাকায় চলাচল করা সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা, স্কুটার থেকে কমিউনিটি পুলিশ ২০ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করে। ট্রাফিক পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিক সমিতির মাধ্যমে আদায় করা চাঁদার টাকা মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ধলেশ্বরী সেতু ২ এর ঢালে, নিমতলা বাসস্ট্যান্ডে, মাওয়া চৌরাস্তা ও ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডে অনুরুপ চাঁদাবাজি হচ্ছে। ট্রাফিক সার্জেন্ট আনোয়ার তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তিনি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি সম্পর্কে পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

মোহাম্মদ সেলিম মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। ০১৯১১১৪২৬৭০
৩০ আগস্ট ২০১০

[ad#co-1]