গজারিয়ার মেঘনা তীরে বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ॥বালু নিয়ে নানা অপতৎপরতা

সোমবার গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীর তীরের চরবলাকি গ্রামে বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে ও আশাপাশের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হসাপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত বালু শ্রমিক আমজাত (২৯) ও দেলোয়ার হোসেন (১৮) জানান,ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ৮/১০টি ড্রেজারে বালু উত্তোলন কালে আকস্মিক হামলা চাললে তারা আহত হয়। গ্রামবাসীরা জানিয়েছে-জামাল, রফিক ও রতনের নেতৃত্বে গভীর রাতে ড্রেজার লাগিয়ে জমিজমা কেটে নিচ্ছিল। বাধা না মানায় কয়েকশ’ গ্রামবাসী বাঁধা দিতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায়।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দাবীকারী ইসমানিরচর বাসিন্দা জামাল হোসেন জানান, গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বালু মহাসিন্ডিগেট ৮ ট্রলার লোক এসে এই হামলা চালায়। তার বগি দিয়ে কোপ দেয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে তিন বন্ধু বিআইডব্লিউটিএ থেকে ১১টি চরে বালু কাটার ইজারা নিয়েছেন বলে জানান। মেঘনা নদীর চালি ভাঙ্গা, ফরাজিকান্দি, রায়পাড়া, ভাটি বলাকি, চর কিশোরগঞ্জ, শেখদি ঘাটপাড়, রমজানবেগ, চরমশুরা, দৌলতপুর, বসুরপর ও কালীপুর নয়ারচর এলাকায় তাদের বালু কাটার বৈধ কাগজ এবং হাইকোটের রায় রয়েছে বরে জানান।

এব্যাপারে গজারিয়ার ইউএনও ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, “যেটি নিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে ক্লেস হয়েছে এটি চর, মানুষের জায়গা ক’দিন পরেই জাগবে মানুষ ফসলাদি করবে। এই জায়গাতো বালু কাটার জন্য কাউকে ইজারা দেয়ার কথা নয়। বিআইডব্লিউটিএ’র ইজারাদারকে বালু কাটার সুযোগ দেয়ার জন্য হাই কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু ঐ ইজারাদার এখনও তো জায়গাগুলোর দখল বুছে নেয়নি।”

জামাল হোসেন জানান, তিনি রিমা এন্টারপ্রাইজের মালিক, সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের দাউদকান্দি রোডের সভাপতি রফিক হচ্ছেন জুলেখা এন্টারপ্রাইজের মালিক ও তগদির এন্টারপ্রাইজের মালিক কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মেজবাউদ্দিন রতন। এই ৩টি প্রতিষ্ঠান নদীর তলদেশ এই থেকে বালু উত্তোলনের জন্য বৈধ ইজারদার। কিন্তু মহাসিন্ডিগেট নামের বালু ইজারদার জেলা প্রশাসন থেকে মাত্র ৩টি বালু মহল ইজারা নিয়ে ২২টি চরের বালু উত্তোলন করছিল। কিন্তু হাই কোর্ট তাদের বালু উত্তোলন ৬ মাসের জন্য স্ট্রে করেছে। গজারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও নব্য আওয়মী লীগার নাসির মেম্বার এই মহাসিন্ডিগেটের সাথে থেকে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

এব্যাপারে মহাসিন্ডিগেটের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন জানান, তারা প্রায় ৭ কোটি টাকায় ৫টি বালু মহল ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। তারা বৈধভাবেই বালু উত্তোলন করছে। কোন অনিয়ম বা অপতৎপরতা চালচ্ছে না। তাদের কোন বালুমহালে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও নেই। অন্যদিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে নৌ চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের নামে জুলেখা, রিমা ও তগদির এন্টারপ্রাইজ ৪০ পায়সা করে ঘন ফুট হিসাবে ঘন ফুট প্রতি ১৫ পয়সা রয়েলিটি দিয়ে বালু উত্তোলন করলেও জেলা প্রশাসনে আরও ২৫ পয়সা করে রয়েলিটি দেয়ার বিধি থাকলেও তা দিচ্ছে না। এব্যাপারে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মমতাজ উদ্দিন জানান, ২৫ পয়সা হারে রয়েলিটি জমা দেয়ার কোন কাগজপত্র জেলা প্রশাসনকে এখনও দেয়নি। তাদের আসার জন্য বলা হলেও অফিসেও আসছে না। কিন্তু বলছে টাকা জমা দিয়েছে।

ভাটিবলাকির আলম মিয়া জানান, নৌ চ্যানেল বালু কাটার কথা থাকলেও বর্ষায় ডুবে যাওয়া ফসলী জমি কেটে নিচ্ছে সমানে। নদীর পাড় থেকে ৩শ’ ফুট দুরের কথা একবারে তীরই কেটে নিচ্ছে। আর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে গ্রামবাসী।

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। ০১৯১১১৪২৬৭০
৩০ আগস্ট ২০১০

[ad#co-1]